গলে মুশফিকুর রহিমের কীর্তি গড়া ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাচে সবশেষ ম্যাচ ড্র হয়েছিল। ওই ম্যাচের ১২ বছর পর ফের গলে কোনো টেস্ট ড্র হলো। এবারও লঙ্কানদের প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ। এই ম্যাচেও সেঞ্চুরি এসেছে মুশফিকের ব্যাটে। দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করে কীর্তি গড়েন বাংলাদেশ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। গলে দারুণ ব্যাটিং-বোলিংয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছিল দুই দল। মূলত গলে চিরায়িত ওই স্পিন দাপটের দেখা না মেলায় ২৬ ম্যাচ ও ১২ বছর পর কোনো টেস্ট হলো ফলহীন। খেলা চলাকালে উইকেটের এমন আচরণে অবশ্য ধারাভাষ্যকারদের কণ্ঠেও সেই বিস্ময়সূচক কথাও শোনা গেছে। অবশ্য এই ড্রয়ের জন্য শুধু চিরায়িত উইকেট না থাকায় দায়ী নয়। পঞ্চম দিনের সকালে বাংলাদেশের অতি ডিফেন্সিভ ব্যাটিংয়েও আভাস দিচ্ছিল ম্যাচে ফলের জন্য নয়, ড্রয়ের জন্য খেলছে স্বাগতিকরা।
বৃষ্টি বাধাতে খেলা থামার আগে নাজমুল হোসেন শান্ত অপরাজিত ছিলেন ৮৯ রানে। এর আগে ঘণ্টাখানিক ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়েও ধীরগতিতে ইনিংস এগিয়ে নেন মুশফিকুর রহিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তাদের জুটি যখন ভাঙে ততক্ষণে তারা দুজনে খেলে ফেলেছেন ১৯১ বল। ধীরগতিতে এগোনো এই জুটির ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল ম্যাচ নিয়ে কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চায় না বাংলাদেশ। বরং, ড্রয়ে ম্যাচ শেষ করে দিতে চায়। ১০২ বলে মুশফিকের ৪৯ রানের ইনিংসের পরও অধিনায়ক শান্ত এগিয়েছেন নিজের ধীরগতিতে। মাঝে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক বৃষ্টি বন্ধ থাকার পর যখন খেলা শুরু হয় তখন ওয়ানডে স্টাইলে আর খেলেননি শান্ত।
ক্যারিয়ারের সপ্তম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে খানিকটা আগ্রাসী হয়েছিলেন শান্ত। সেঞ্চুরির পরের ওই আগ্রাসী ব্যাটিংয়েই বাংলাদেশের লিড প্রায় লিড প্রায় ৩০০ ছুঁইছুঁই অবস্থায় যায়। শান্তর সেঞ্চুরির সময় ধারাভাষ্য কক্ষে থাকা সাবেক লঙ্কান পেসার পারভেজ মাহারুফ বলছিলেন, ‘শান্তর সেঞ্চুরি হয়েছে। তবুও কেন বাংলাদেশ এখনো ব্যাটিং করছে? এটা বেশ অবাক করার মতো। সেঞ্চুরি হওয়ার পর ডিক্লেয়ার দেওয়া উচিত ছিল। তাতে ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা বাড়ত।’ শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে ২৮৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করেন শান্ত। তাতে লঙ্কানদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৯৬ রান। শান্ত অপরাজিত ছিলেন ১২৫ রানে। লঙ্কানদের হয়ে থারিন্দু রত্নানায়েকে ১০২ রানে নেন তিন উইকেট।
ম্যাচ জিততে এক সেশনের একটু বেশি সময়ে ২৯৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে হতো লঙ্কানদের। স্বাগতিকদের শুরুটাও ছিল তেমনই। দুই লঙ্কান ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও লাহিরু উদারা ব্যাটিং শুরু করেন ওয়ানডে ধাঁচে। সেটা দেখে ধারাভাষ্যে থাকা রাসেল আরনল্ড বলছিলেন, ‘অবিশ্বাস্য এখনো গলের উইকেটে দারুণভাবে ব্যাটিং করা যাচ্ছে।’ তবে রাসেল আরনল্ডের বিস্ময় থামে একটু পরেই। ৩৪ রানের মধ্যে ফেরেন দুই ওপেনার। তাদের বিদায়ের পর ড্রয়ের জন্য খেলা শুরু করে শ্রীলঙ্কা।
দুই অভিজ্ঞ অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও দিনেশ চান্দিমাল প্রথম ইনিংসে সময় সুযোগে খেলেছেন ওয়ানডে স্টাইলে। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে এসে আর সেই পথে হাঁটেননি। যতটুকু সম্ভব রয়েসয়ে খেলেছেন। তখনো বোলিং করে জয়ের স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশের উইকেটরক্ষক লিটন দাস বারবারই বলছিলেন, ‘ওরা গল্প করে সময় নষ্ট করবে। সময় নিচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে।’ তবে যাদের নিয়ে এত ভয় ছিল সেই ম্যাথিউস-চান্দিমাল শেষ পর্যন্ত ফেরেন প্যাভিলিয়নে। কিন্তু যখন ফিরেছেন, ততক্ষণে নিশ্চিত হওয়া যায় ম্যাচের ফল ড্র ছাড়া আর কিছুই হবে না। দিনের শেষদিকে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিসকে অতি দ্রুত আউট করার চেষ্টায় ছিল বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত তা আর না হওয়ায় দিনের খেলার প্রায় ১৫ মিনিট বাকি থাকতে ড্র মেনে নেয় দুই দল। গল টেস্ট ড্র হওয়ায় আপাতত সিরিজে এগিয়ে যাচ্ছে না কোনো দল। সমতায় থেকে কলম্বোতে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে মাঠে নামবে দুই দল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

