দীর্ঘ প্রতীক্ষিত অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার প্রথম টেস্ট একপেশে লড়াইয়ে শেষ হয়েছে। কিংসমিডে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২১৪ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। এই জয়ে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। ২০১৮ সালের স্যান্ডপেপার কেলেঙ্কারির পর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এটিই অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট ম্যাচ ছিল।
ম্যাচে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে লক্ষ্য ছিল পাহাড়সম ৪২১ রান। তবে ম্যাচের পঞ্চম দিনে দ্বিতীয় সেশনের মাঝপথেই ২০৬ রানে গুটিয়ে যায় প্রোটিয়ারা। এটিই অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার অধীনে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নদের প্রথম টেস্ট হার।
অস্ট্রেলিয়ার জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন নতুন পাঁচ নম্বর পজিশনে খেলতে নামা ম্যাট রেনশ। ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে তিনি প্রথম ইনিংসে ১৯০ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৮২ রানের দুর্দান্ত দুটি ইনিংস খেলেন। শুধু ব্যাটিংয়েই নয়, বল হাতেও চমৎকার নৈপুণ্য দেখিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে দুটি উইকেট শিকার করেন এই পার্ট টাইম অফস্পিনার। এছাড়া প্রথম ইনিংসে রেনশের ১৯০ রানের সুবাদে অস্ট্রেলিয়া ৩৯০ রান সংগ্রহ করে।
চতুর্থ দিন শেষে দক্ষিণ আফ্রিকা ৪ উইকেটে ১০২ রান নিয়ে দিন শুরু করলেও অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের সামনে বেশি সময় টিকতে পারেনি। বিশেষ করে দ্বিতীয় নতুন বল হাতে পাওয়ার পর বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন অজি পেসার জশ হ্যাজলউড। ১৬.৫ ওভারে মাত্র ৪৯ রান খরচ করে ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি। তার দুর্দান্ত বোলিংয়েই প্রোটিয়াদের ইনিংস দ্রুত গুটিয়ে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে ওপেনার এইডেন মার্করাম ছিলেন দলের একমাত্র উজ্জ্বল নক্ষত্র। অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণ সামলে অত্যন্ত ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে ২৩৭ বলে ৭৫ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলেন তিনি। যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৪তম ফিফটি। এছাড়া উইয়ান মুল্ডার ১১০ বলে প্রতিরোধ গড়ে ২৯ করলেও শেষ পর্যন্ত হ্যাজলউডের শিকার হন। মুল্ডার ও মার্করাম ছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার অন্য ব্যাটাররা বড় কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। দুজনে মিলে গড়েন ৬৯ রানের জুটি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
অস্ট্রেলিয়া : ৩৯০ (রেনশ ১৯০, মুল্ডার ৪/৬৮) এবং ৩১৪/৬ ডিক্লেয়ার (রেনশ ৮২, ম্যাডিসন ৪৮)।
দক্ষিণ আফ্রিকা : ২৮৪ (বেডিংহাম ৪৯, কামিন্স ৩/৫৪) এবং ২০৬ (মার্করাম ৭৫, হ্যাজলউড ৬/৪৯, রেনশ ২/৩০)
ফল : অস্ট্রেলিয়া ২১৪ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা : ম্যাট রেনশ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

