বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে আমিনুল ইসলাম বুলবুল বলেছিলেন, আমি কুইক টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলতে এসেছি। একইসঙ্গে পুনরায় এই দায়িত্ব নেওয়ার বিষয়ে অপারগতাও প্রকাশ করেছিলেন। চলতি বছরের ৩০ মে সংবাদমাধ্যমে যা বলেছেন, তেমন কিছু হচ্ছে না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) কোটায় পরিচালক মনোনীত হয়ে বিসিবিতে থাকছেন তিনি। এমনকি পরবর্তী বোর্ড সভাপতি হিসেবে তার কাঁধেই থাকবে দায়িত্ব। বিসিবির বর্তমান গঠনতন্ত্র অনুযায়ী আগামী অক্টোবরে শেষ হচ্ছে বিসিবির বর্তমান কমিটির মেয়াদ। এর আগে আগামী ২৮ আগস্টের মধ্যে বিসিবির নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হওয়ার কথা রয়েছে।
কুইক টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলে বিদায় নিতে চাওয়া বুলবুলের কাছে প্রশ্ন ছিলÑনির্বাচন করবেন কি না? সেই প্রশ্নের উত্তরে সরাসরি নির্বাচন করার কোনো ঘোষণা তিনি দেননি। বরং তিনি ইঙ্গিত দেন, এনএসসি চাইলে নিজের দায়িত্ব চালিয়ে যাবেন। তার কথায়, ‘আমি ফ্রি ন্যাশনাল স্পোর্টস কাউন্সিল থেকে এসেছি। তারা যদি আমাকে কন্টিনিউ করে, তবে থাকব, চেষ্টা করব।’ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ থেকে কারা কারা মনোনয়ন পাচ্ছেনÑসেটা এখনও চূড়ান্ত নয়। তবে আমিনুল ইসলাম বুলবুল এ তালিকায় থাকবেনÑসেটা একরকম নিশ্চিত।
অন্যদিকে এনএসসি মনোনীত আরেক পরিচালক নাজমুল আবেদিন ফাহিম ফিরতে পারেন পুরোনো কোটায়। ২০২১ সালে বিসিবি নির্বাচনে তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে কাউন্সিলর হয়ে নির্বাচনে লড়েছিলেন। এবারো সেই একই ক্যাটাগরিতে নির্বাচনে লড়তে পারেন তিনি। বিসিবি পরিচালক মাহবুব আনাম ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন তিনি বিসিবি নির্বাচনে অংশ নেবেন না, এমনকি কাউন্সিলর না হওয়ার ঘোষণাও দিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত বদল হওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো।
নির্বাচনে বড় চমক দেখাতে পারেন ক্রিকেটপাড়ায় খানিকটা নতুন শাহনিয়ান তামিম ও ইশতিয়াক সাদেক। বিপিএলের দল রংপুর রাইডার্সের এই দুই কর্মকর্তা ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে তারা কাউন্সিলর হওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করে দিয়েছেন। গত পরশু ঢাকা ক্রিকেট ক্লাব অরগাইনাইজার্সের প্রেস কনফারেন্সে শাহনিয়ান তামিম উপস্থিত ছিলেন। তার এই উপস্থিতিই বার্তা দেয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন তিনি। সংগঠক হিসেবে খুব বেশি পুরোনো না হলেও রংপুর রাইডার্স ও ডিপিএলের দল ধানমন্ডি ক্রিকেট ক্লাবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জড়িত আছেন। এছাড়া পোড় খাওয়া সংগঠকদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম বাবু, বোরহানুল ইসলাম পাপ্পু, জিয়াউর রহমান তপু, মাসুদুজ্জামানরা অংশ নেবেন নির্বাচনে। তারা সবাই ক্লাব ক্যাটাগরিতে নির্বাচনে অংশ নেবেন।
ক্লাব ক্যাটাগরি থেকে বর্তমানে পরিচালক থাকা ফাহিম সিনহা, ইফতেখার রহমান মিঠু, সালাউদ্দিন চৌধুরীরা ইতোমধ্যে নির্বাচনের জন্য নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন। এমনকি সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালও নির্বাচন করতে পারেন। তবে তিনি কোন ক্যাটাগরিতে নির্বাচন করবেনÑতা এখনো নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে সাবেক সভাপতি ফারুক আহমেদও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
বিভাগীয় পর্যায় থেকে কারা কারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, সে বিষয়ে এখনো তেমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না। তবে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে বর্তমান কমিটিতে পরিচালক হিসেবে থাকা আকরাম খান হয়তো সাবেক অধিনায়ক ক্যাটাগরিতে নির্বাচন করতে পারেন। সেক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন মনজুর আলম। এছাড়া এখান থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। বরিশাল বিভাগ থেকে সাখাওয়াত হোসেন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন। তিনি বর্তমানে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের ট্যুরিজম-বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। খুলনা বিভাগ থেকে কাজী এনাম আহমেদ ও রাজশাহী বিভাগ থেকে পরিচালক হিসেবে থাকা সাইফুল ইসলাম চৌধুরী স্বপনরা এবারের নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।
তবে আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। বেশিরভাগ ক্যাটাগরিতেই একাধিক প্রার্থীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনা কম।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

