গুলশানের স্পনসর কাম মোহামেডানের অধিনায়ক

তামিম বলছেন সমস্যা নেই

তামিম বলছেন সমস্যা নেই

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ (ডিপিএল) শুরুর আগে অনেক বেশি আলোচনায় প্রথম বিভাগ থেকে উঠে আসা গুলশান ক্রিকেট ক্লাব। তাদের নিয়ে আলোচনার মূল কারণ- ক্লাবটির মালিকানায় আছেন তামিম ইকবাল। ডিপিএল মাঠে গড়ানোর আগের দিন তামিম জানিয়ে দিলেন তিনি এই ক্লাবের মালিক নন। শুধু স্পনসর করেছেন। তবে জাতীয় দলের সাবেক এই ক্রিকেটার মালিক হলেও অবশ্য কোনো সমস্যা ছিল না। এবারের ডিপিএলে ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানকে নেতৃত্ব দেবেন বলেই স্বার্থের সংঘাতের ব্যাপারটি উঠে এসেছে।

বিপিএলের দল ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমানের সঙ্গে যৌথ মালিকানায় গুলশান ক্রিকেট ক্লাব কিনে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। মূলত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছাড়ার আগে থেকেই বিভিন্ন সময় তামিম আভাস দেন ক্রিকেট সংগঠক হিসেবে কাজ করবেন। ঘরোয়া ক্রিকেট খেলাকালীন সময়ে সে লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার জন্যই গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের মালিকানা নিয়েছেন। তবে বিষয়টি অস্বীকার করে তামিম জানান, তিনি ক্লাবটির স্পনসরের ব্যবস্থা করেছেন। এ দিক বিবেচনা করলে তামিমকে নির্দ্বিধায় ক্লাবের মালিক বলা যায়। কিন্তু তামিম এটা অস্বীকার করে বলেছেন তিনি ক্লাবটির সঙ্গে আছেন। তার কথায়, ‘আমি কিন্তু গুলশান ক্লাবের মালিক নই, বিষয়টা হলো আমি দলের সঙ্গে আছি- এমনটাই বলেছি; কিন্তু মালিক বলিনি।’

বিজ্ঞাপন

তার কথায় আরেকটি ব্যাপার স্পষ্ট হয়েছে। তিনি ডিপিএলের দুই ক্লাবের সঙ্গেই জড়িত রয়েছেন। বিষয়টি স্বার্থের সংঘাত হবে কি না- সে প্রশ্নের উত্তরে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে তামিম বলেন, ‘এতে সমস্যার কী আছে? এখন গুলশানের বিপক্ষে যদি তাড়াতাড়ি আউট হয়ে যাই, তাহলে কি আপনার মনে হবে আমি ইচ্ছা করেই আউট হয়েছি?’

বাংলাদেশ ক্রিকেটে স্বার্থের সংঘাতের ব্যাপারটি নতুন কিছু নয়। বিসিবি পরিচালক হিসেবে থাকাকালীন সময়ে ডিপিএল ও বিপিএলে কোচিং করিয়েছেন খালেদ মাহমুদ সুজন। এমনকি জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেছেন। এছাড়া বেক্সিমকোর শীর্ষ পদে ছিলেন বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। ওই সময় বেক্সিমকোর পৃষ্ঠপোষকতায় বেড়ে ওঠা ক্লাবগুলো ঢাকার ক্রিকেটে পেয়েছে অন্যায্য সুবিধা। গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিসিবিতে স্বার্থের সংঘাতের এ ব্যাপারগুলো থাকবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছিল। কিন্তু তামিমের কল্যাণে ফের এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে যাচ্ছে।

তবে কোনোভাবেই তামিমের মনে হয়নি এটা স্বার্থের সংঘাত। তার কথায়, ‘আমি মনে করি না এখানে কোনো কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট হয়েছে। একটি জিনিস আপনাকে মনে রাখতে হবে, এ দলটির মালিক আমি নই, কেবল স্পন্সর এনে দিয়েছি। এখানে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট আছে। সব সময় সবকিছু নেগেটিভভাবে না দেখে এভাবে করেও চিন্তা করবেন, এ মুহূর্তে স্পন্সররা যদি দলকে স্পন্সর না করে, তাহলে ১৫-২০ জন প্লেয়ার পারিশ্রমিক পাবে না।’

অন্যদিকে তামিম ক্লাবের মালিকানা নিয়েছেন, সে বিষয়ে আপাতত কিছুই জানে না ঢাকার ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিসিডিএম। বিষয়টি নিয়ে সিসিডিএম চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন চৌধুরী আমার দেশকে বলেন, ‘কাগজপত্রে আমরা জানতে পারিনি সে মালিক। তাই তামিম মালিক কি না, এটা বলতে পারছি না।’ তামিম স্পনসর করেছেন- এ বিষয়টি তার দৃষ্টিগোচর করা হলে সালাউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘ক্লাব কার কাছ থেকে কিংবা কোথা থেকে স্পনসর নেবে, এটা ক্লাবের বিষয়। এটা সিসিডিএমের এখতিয়ার নয়। যদি এমন হতো তামিম স্পনসর করে ক্লাবের মালিকানা কিংবা ক্লাব অফিসিয়াল পদে থাকত, সেক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাত হিসেবে বিবেচনা করা যেত। তবে আপাতত যে অবস্থান, তাতে তামিমের স্পনসর হওয়ার বিষয়টি স্বার্থের সংঘাত নয়।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন