চ্যাম্পিয়নস ট্রফি

আফগানদের ঐতিহাসিক ম্যাচে প্রোটিয়া বাধা

আফগানদের ঐতিহাসিক ম্যাচে প্রোটিয়া বাধা

দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে আফগানিস্তান। গড়ে চলেছে নয়া নয়া ইতিহাস। টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে, এমনকি টেস্টেও নিজেদের স্বকীয় উপস্থিতির জানান দিয়ে যাচ্ছে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি। ওয়ানডে থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ- সীমিত ওভারের দুই বৈশ্বিক আসরেই ক্রিকেটের পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে সমান তালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে যাচ্ছে হাশমাতুল্লাহ শহিদিরা। কিন্তু অপূর্ণতা ছিল আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে খেলতে না পারার। মাঝে দীর্ঘ আট বছর মাঠেই গড়ায় ওয়ানডের এই আসর। যে কারণে বেড়ে যায় তাদের অপেক্ষার প্রহর।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফি মাঠে না গড়ানোয় তাতে খেলা হয়নি আফগানিস্তানের। অবশেষে ঘুচে যাচ্ছে সেই অপূর্ণতাও। পাকিস্তানের মাটিতে এই আসর দিয়েই নতুন ইতিহাস লিখতে যাচ্ছে আফগানরা। আজ শুক্রবার করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অভিষেক হচ্ছে আফগানদের। প্রথমবারের মতো অংশ নিতে যাচ্ছে তারা চ্যাম্পিয়নস ট্রফির কোনো আসরে। মোহাম্মদ নবী-ফজল হক ফারুকীরা নিজেদের অভিষেক ম্যাচ খেলতে বেলা ৩টায় মাঠে নামছে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। এবারের আসরে এটাই প্রোটিয়াদের প্রথম ম্যাচ। টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে এসে তারা খেলতে যাচ্ছে তাদের উদ্বোধনী ম্যাচ। গ্রুপ ‘বি’তেও এটা প্রথম ম্যাচ। অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা আফগানিস্তান ও ফেভারিট দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে এ গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো আরো দুই জায়ান্ট টিম।

বিজ্ঞাপন

চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো আইসিসির মেজর কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে আফগানিস্তান। অথচ টুর্নামেন্টটি শুরুর আগে বাংলাদেশের মতো কোনো ওয়ানডে খেলেনি তারাও। আট দলের আসরের বাকি ছয় দল কোনো না কোনো দলের বিপক্ষে ওয়ানডে খেলেছে। আফগানরা সবশেষ ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছে ডিসেম্বরে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তারা মুখোমুখি হয়েছিল তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে। সিরিজটি তারা জিতে নিয়েছিল অবশ্য ২-০ ব্যবধানে। দুই মাসের বিরতি দিয়ে সাদা বলের ক্রিকেটে খেলতে যাচ্ছে তারা। এ কারণে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির মতো মেগা ইভেন্টে অভিষেক আসর খেলা নিশ্চিত কঠিন হবে আন্ডারডগ আফগানিস্তানের জন্য।

সন্দেহ নেই, এ লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ফেভারিট দল। সুসমন্বিত দল নিয়েই মাঠে নামছে তারা। আফ্রিকান দলটি টুর্নামেন্টটিতে পা রাখতে যাচ্ছে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলার রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিয়ে। যদিও সিরিজে নিউজিল্যান্ড ও পাকিস্তান দুদলের বিপক্ষেই হার মেনেছিল প্রোটিয়ারা। অবশ্য তিন জাতির এই সিরিজে পূর্ণশক্তি নিয়ে মাঠে নামতে পারেনি তারা। ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক টুর্নামেন্ট এসএ টোয়েন্টির ফাইনাল ম্যাচের ব্যস্ততা আর চোটের ধকলের জন্য অনেক তারকা ক্রিকেটারই ছিলেন দলের বাইরে। বড় টিমগুলোকে মোকাবিলার আগে আজ অবশ্যই জয়ের ধারায় ফিরতে মরিয়া হয়েই খেলতে নামবে ক্যাপ্টেন টেম্বা বাভুমার ব্রিগেড।

ব্যাট হাতে অনেক দিন ধরেই ছন্দহীন বাভুমা। আফগানরা তার উইকেট একটু আগেভাগেই চাইবে। কোনোভাবেই তাকে উইকেটে সেট হতে দিতে চাইবে না। বাভুমাকে ফেরাতে শুরুর দিকে তারকা স্পিনার রশিদ খানের হাতে বল তুলে দিতে পারে আফগানিস্তান। বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে বেশ সিদ্ধহস্ত আফগান তারকা রহমানুল্লাহ গুরবাজ। রান রেট বাড়িয়ে নিতে শুরুতেই উঠেপড়ে লাগবেন। তাকে সাজঘরে দ্রুত ফেরাতে নতুন বল হাতে প্রোটিয়া তারকা পেসার ক্যাগিসো রাবাদা দারুণ কার্যকর হতে পারেন। মিডল ও ডেথ ওভারে আফগানিস্তান কাজে লাগাতে পারে অলরাউন্ডার গুলবাদিন নাইবের পেস আক্রমণকেও। ‘কিলার’ খ্যাত ডেভিড মিলার রানের ফোয়ারা ছোটাতে তাকেই খুঁজে ফিরবেন। যে কারণে নাইবকে ধরে রাখতে হবে মিতব্যয়ী বোলিং।

দক্ষিণ আফ্রিকা ও আফগানিস্তান এখন পর্যন্ত ওয়ানডে খেলেছে পাঁচটি। এর মধ্যে প্রোটিয়ারা জিতেছে তিন ম্যাচ। বিপরীতে আফগানরা জয় পেয়েছে দুই ম্যাচে। পাঁচটি একদিনের ম্যাচই খেলা হয়েছে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে।

ওয়ানডেতে মুখোমুখি দুদল

ম্যাচ :

দক্ষিণ আফ্রিকার জয় :

আফগানিস্তানের জয় :

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন