ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে ইংল্যান্ড ফিরে গেলেন দেওয়ান হামজা চৌধুরী। বিদায়লগ্নে এক ভিডিও বার্তায় এই ফুটবলার বলেছেন, আগামী জুনে আবার বাংলাদেশে ফিরছেন। অর্থাৎ আগামী ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবেন হামজা। এর আগ তার অপেক্ষায় থাকতে হবে। তবে ইংল্যান্ডের বিমান ধরার আগে দেশের ফুটবলে যে জোয়ার বাইয়ে দিয়ে গেলেন এই মিডফিন্ডার, তা শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার গণ্ডি পেরিয়ে ফুটবল বিশ্বেও ছড়িয়ে পড়েছে। র্যাংকিংয়ে ৫৯ ধাপ পিছিয়ে থাকা ভারতের বিপক্ষে দারুণ এক ম্যাচ উপহার দেয় বাংলাদেশ। জয় না পেলেও ম্যাচটিতে হামজার কৃতিত্বে গোলশূন্য ড্র করেছে তারা।
এক হামজায় বদলে যায় বাংলাদেশ দলের পুরো চেহারা। দলের শরীরী ভাষা ছিল অন্যরকম। হামজা নিজেও যে ভূমিকা রেখেছেন ম্যাচে, তা ছিল সত্যি অতুলনীয় ও মনোমুগ্ধকর। এই হামজাকে ঘিরে যে নতুন জোয়ার এল ফুটবলে, এমনটা বহুদিন দেখা যায়নি। আর সেটি ধরে রেখেই এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে বাংলাদেশকে। এজন্য পরবর্তী ম্যাচগুলোতে হামজার উপস্থিতি খুবই জরুরি। কেননা হামজা দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলেছেন। তার দলে থাকা মানেই দল বাড়তি উজ্জীবিত থাকা। আর তাতেই ভালো ফুটবল খেলে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।
এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বে ভালো করতে হলে হামজার বিকল্প নেই। এই ফুটবলারকে বাংলাদেশের জন্য ভীষণ দরকার বলে জানান, সাবেক ফুটবলার সাঈদ হাসান কানন। তিনি আমার দেশকে বলেন, ‘হামজার কারণে গত ম্যাচে খেলাটাই পরিবর্তন হয়ে গেছে। সুতরাং হামজাকে লাগবেই।’ তার মতে, বাংলাদেশ দলে আরো বিদেশি খেলোয়াড় আনা প্রয়োজন। বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেক খেলোয়াড় রয়েছেন। তাদের দলে একসঙ্গে করতে পারলে বাংলাদেশ আরো শক্তিশালী হবে। প্রবাসী ফুটবলারদের কাছ থেকে আরো বেশি শিখতে পারবে বাংলাদেশের স্থানীয় খেলোয়াড়রা। এতে দেশের ফুটবলে মান বাড়বে, দলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়বে।’ বাছাই পর্বের পরবর্তী ম্যাচে ইতালি প্রবাসী ফাহমিদুল ইসলামকে আনা হতে পারে। কেননা আক্রমণভাগের এই খেলোয়াড় দারুণ সম্ভাবনাময়।
যদিও ভারত ম্যাচের আগে প্রাথমিক দল থাকা এই ফরোয়ার্ড ক্যাম্প থেকে ফিরে গেছেন। ফাহমিদুল ছাড়াও আক্রমণভাগ আরো ফুটবলারকে যাচাই করে দেখা হতে পারে। এজন্য সামনে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের ম্যাচগুলোকে পাখির চোখ করবেন কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরা। কেননা গত ম্যাচেও আক্রমণভাগের দুর্বলতা বেশ ভালোভাবে ফুটে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যায় ভুগছে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে ভালো খেললেও ফিনিশিংয়ে গিয়ে আটকে যায় দল। ফিনিশিং টাচটা কেউ নিখুঁতভাবে দিতে পারেননি। এই সমস্যা নিয়ে কাজ করতে বলে মনে করেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম। এই খেলোয়াড় আমার দেশকে বলেন, ‘সবকিছু মিলে আমি বলব যে, আমাদের সবকিছুই ভালো ছিল (ভারত ম্যাচে)। কিন্তু বিগত ১০-১২ বছর ধরে আমরা যে সমস্যাটার মোকাবিলা করছি, সেটি হলো- স্কোরিংয়ের। এই সমস্যাটা থেকে গেল আমাদের। এজন্য একটু কাজ করলে আমি মনে করি, আমরা আরো ভালো ফুটবল খেলতে পারব।’
এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলতে চায় বাংলাদেশ। এই পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা দলের আছে বলে মনে করেন স্প্যানিশ কোচ কাবরেরাও। বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালও বাছাই পর্ব উতরানোর প্রত্যাশা করছেন। মূলত হামজাকে ঘিরেই এই স্বপ্ন দেখছেন তারা। কিন্তু হামজা একাই সবকিছু করে দিতে পারবেন না। দলীয় ঐক্যবদ্ধ পারফরম্যান্সেই দলকে এগিয়ে যেতে হবে। এশিয়ান কাপে বাছাই পর্বে সিঙ্গাপুরের পর আগাম অক্টোবরে হংকংয়ের বিপক্ষে খেলবে হোম ম্যাচ বাংলাদেশ। আপাতত এই দুটি ম্যাচকে ঘিরেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

