বার্সা এখনও মেসির ‘প্রাণের ক্লাব’

বার্সা এখনও মেসির ‘প্রাণের ক্লাব’

আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসির নাম বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বার্সেলোনায় তার একের পর এক ট্রফি জয়ের ইতিহাস। জাভি হার্নান্দেজ, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা কিংবা কার্লেস পুয়োলদের মতো কিংবদন্তিদের পাশে নিয়ে সম্ভাব্য সব শিরোপাই জিতেছেন তিনি। তবে ফুটবলের এই মহানায়কের কাছে কাতালান ক্লাবটির সোনালি দিনগুলো কেবল ট্রফি প্রদর্শনীতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং সতীর্থদের সঙ্গে কাটানো প্রতিদিনের সাধারণ মুহূর্তগুলোও ছিল সমপরিমাণ মূল্যবান।

বিজ্ঞাপন

স্পেনের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ পুরস্কার গ্রহণ করতে এসে স্প্যানিশ সংবাদ সংস্থা ‘এফে’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে নিজের খেলোয়াড়ি জীবন, বার্সেলোনা প্রেম, বিশ্বকাপ জয় এবং প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকে নিয়ে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন বর্তমানে ইন্টার মিয়ামিতে খেলা এই আর্জেন্টাইন মহাতারকা।

বার্সেলোনার ড্রেসিংরুম ও অনুশীলনের দিনগুলোর কথা স্মরণ করে মেসি বলেন, ‘আমাদের সবকিছু জেতার সৌভাগ্য হয়েছিল, এবং যে শৈলীতে আমরা জয়ী হয়েছিলাম সেটাও ছিল বিশেষ। আমরা মাঠে নেমে জিততে ভালোবাসতাম, কিন্তু তারচেয়েও বেশি উপভোগ করতাম প্রতিদিনের অনুশীলনের সময়টুকু। সতীর্থদের সাথে কাটানো সেই দিনগুলো ছিল দারুণ আনন্দের।’

ফ্রান্সের পিএসজি ঘুরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমালেও বার্সেলোনা এখনও তার কাছে ‘প্রাণের ক্লাব’। তিন সন্তানের জন্মও এই শহরে। তাই বার্সেলোনা শহর ও ক্লাবের সঙ্গে তার সম্পর্ককে ফুটবলের সীমা ছাড়িয়ে এক চিরন্তন ভালোবাসার বন্ধন হিসেবেই দেখেন তিনি।

ক্লাব ফুটবলে দ্রুত সাফল্য পেলেও আকাশী-সাদা জার্সিতে বিশ্বকাপ ছুঁয়ে দেখার জন্য মেসিকে কাটাতে হয়েছে দীর্ঘ প্রতীক্ষা। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে সেই স্বপ্নপূরণকে ‘স্বপ্নের চেয়েও বড় কিছু’ বলে অভিহিত করেন তিনি। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের রোমাঞ্চকর ম্যাচে করা দুটি গোলকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা অর্জন উল্লেখ করে মেসি জানান, চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনাল ও এল ক্লাসিকোর ঐতিহাসিক গোলগুলোর মতোই স্পেশাল ছিল ফাইনালের সেই মুহূর্ত দুটি।

সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে গত আগস্টে প্রয়াত বাবা হোর্হে মেসিকে স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন মেসি। ‘প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস’ সম্মাননা পাওয়ার খবরে তার বাবা দারুণ রোমাঞ্চিত ছিলেন। ব্যস্ত সূচির মধ্যেও ওবিয়েদোয় গিয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছিলেন বাবাই। বাবার অকালপ্রয়াণে শোক প্রকাশ করে মেসি বলেন, খেলাধুলার অর্জনের বাইরে পাওয়া এই বিশেষ সম্মাননাটি স্বচক্ষে দেখে যেতে পারলে তার বাবা সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হতেন।

ক্যারিয়ারের একেবারে শুরুর দিনগুলো থেকে বাবা হোর্হে মেসির দেওয়া একটি মূলমন্ত্র আজও হৃদয়ে লালন করেন এই কিংবদন্তি। বাবার স্মৃতি টেনে মেসি বলেন, ‘বাবা সবসময় বলতেন—কখনও চেষ্টা থামাবে না। বল পায়ে নাও এবং আবার চেষ্টা করো। জিতলে বা হারলে সেই মুহূর্তেই আটকে থেকো না, কারণ নতুন করে চেষ্টা করার সুযোগ বারবার আসবে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন