প্রথমবারের মতো ফিফার তত্ত্বাবধানে আয়োজন করা হয়েছে আসিয়ান কাপের আসর। এই টুর্নামেন্টে খেলার কথা ছিল না বাংলাদেশের। আসিয়ান গোষ্ঠীভুক্ত দেশের বাইরে চীন, ভারত ও হংকংকে টুর্নামেন্টে আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেও শেষ পর্যন্ত টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেয় ভারত। এরপর আমন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ। আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে বাংলাদেশের সামনে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এ টুর্নামেন্টের প্রস্তুতির জন্য ফিফা উইন্ডোতে ভালো দলের বিপক্ষে খেলার পরিকল্পনায় ছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তাই আসিয়ান কাপে খেলার সুযোগ লুফে নেয় বাংলাদেশ। অন্যদিকে, চীনের জায়গায় টুর্নামেন্টে খেলছে পাকিস্তান। তবে খেলছে আরেক আমন্ত্রিত দল হংকং। আমন্ত্রিত দল হিসেবে খেললেও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে চমক দিতে চায় বাংলাদেশ। যদিও গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ শক্তিশালী স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর। তিনটি দলই ফিফা র্যাংকিং ও শক্তির বিচারে বাংলাদেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে। বাংলাদেশ ‘আন্ডারডগ’ হিসেবে নামলেও টুর্নামেন্টে ভালো কিছু উপহার দিতে চায়। জাকার্তায় আগামীকাল মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আসিয়ান কাপের মিশন শুরু হবে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ সময় বেলা ৩টায় মুখোমুখি হবে দুদল। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে কঠিন পরীক্ষার ম্যাচ হলেও পয়েন্ট চায় বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ থমাস ডুলি ও অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার কণ্ঠে ফুটে উঠল এমন লক্ষ্যই।
-94b861.jpeg)
বর্তমান ফিফা র্যাংকিংয়ে মালয়েশিয়া ১৩৬তম অবস্থানে রয়েছে। আর বাংলাদেশ ১৮১তম। শুধু র্যাংকিংই নয়, শক্তি-সামর্থ্য সব দিক বিবেচনায় অনেক এগিয়ে আসিয়ান অঞ্চলের দল মালয়েশিয়া। উঁচু মানের ফুটবল খেলে তারা। তাদের গতিময় ফুটবলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লড়াই করাটা দুরূহ কাজই বটে। এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখে লড়াই করার দৃঢ় মানসিকতায় নিয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়ার বিপক্ষে শুরুটা ভালো করতে পারলে টুর্নামেন্টের অন্য ম্যাচগুলোও সহজ হয়ে যাবে। তাই মালয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় কিংবা ড্রয়ের অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবেন হামজা-জামালরা। আসিয়ান কাপ মিশন শুরু করার আগে বাংলাদেশ কোচ ডুলি বলেন, ‘এই টুর্নামেন্টের অংশ হতে পেরে আমরা খুশি। তবে আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জেরও। ভবিষ্যতে আমাদের বড় টুর্নামেন্ট সাফ। এজন্য আমরা ভালো দলের বিপক্ষে খেলতে চেয়েছিলাম। আগামী নভেম্বরে ঘরের মাঠে এই টুর্নামেন্টের জন্য এটি (আসিয়ান কাপে খেলা) আমাদের নিখুঁত প্রস্তুতি হবে।’ প্রতিপক্ষ বিবেচনায় বাস্তবতায় বিশ্বাসী কোচ ডুলি। তিনি বলেন, ‘আমি জানি, বাংলাদেশের অনেক ভক্ত ভাবেন যে, আমরা এখানে এসে সবাইকে হারিয়ে দেব। কিন্তু এটা অনেক কঠিন। আমি সব সময় বলে আসছি, আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। মালয়েশিয়া আমাদের থেকে র্যাংকিংয়ে ৪০-৫০ পয়েন্ট ওপরে।’ মালয়েশিয়া ম্যাচ প্রসঙ্গে কোচ ডুলি বলেন, ‘আমাদের বিপক্ষে তারা হারতে চাইবে না। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে পারি, তবে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়া কঠিন হবে। আমাদের নিজস্ব টুর্নামেন্ট নিয়ে পরিকল্পনা আছে। এখান থেকে ঘরের মাঠে দর্শকদের জয় এনে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস নিতে পারি।’ বাংলাদেশ কোচ আরো বলেন, ‘মালয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি ভালো ম্যাচ হলে, আক্রমণ-প্রতি আক্রমণে সুযোগ তৈরি করে ড্র করতে পারলে কিংবা একটা জয় পেলে দারুণ হবে। জয় পাওয়াটা হবে চমৎকার ব্যাপার। তবে স্বপ্ন দেখার অধিকার তো সবারই আছে, তাই না?’

অতীতের সুখস্মৃতি নিয়ে আসিয়ান কাপের মিশন শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়াকে মোকাবিলার করাটা কঠিন চ্যালেঞ্জের হবে। তবে এই ম্যাচগুলোর জন্য বাংলাদেশ মুখিয়ে আছে বলে জানালেন কোচ ডুলি। তিনি বলেন, ‘৮ বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে যে ম্যাচটি খেলেছিলাম, এই ম্যাচ প্রসঙ্গে আমি আমার অধিনায়ককে বলেছি, আমরা ইন্দোনেশিয়াকে ৪-০ গোলে হারিয়েছিলাম।’ ২০১৮ সালে এশিয়ান গেমসে ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে জয়টিই মূলত আশিয়ান কাপে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাসের জ্বালানি হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া বলেন, ‘কোচ যেমন বলেছেন, আমরা মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে তিনটি ম্যাচের জন্য মুখিয়ে আছি। আমরা জানি, এটি কঠিন হতে যাচ্ছে। তবে আমরা নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখি এবং আমাদের আত্মবিশ্বাস আছে।’ দলীয় পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য প্রসঙ্গে অধিনায়ক আরো বলেন, ‘সফল হতে হলে আপনি প্রতিযোগিতা করতে চাইবেন, ভালো ম্যাচ খেলতে চাইবেন। অবশ্যই, কোচ যেমন বলেছেন, এটি আমাদের জন্য একটি প্রস্তুতিমূলক টুর্নামেন্ট। কারণ এক মাসের মধ্যে আমাদের সাফ টুর্নামেন্ট রয়েছে, যা আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে অবশ্যই, একটি দল হিসেবে আমরা প্রতিযোগিতা করতে চাই এবং যদি আমরা কয়েকটি পয়েন্ট পেতে পারি বা এক-দুটি ম্যাচ জিততে পারি, তবে তা আমাদের জন্য খুবই সফল একটি সফর হবে।’

এদিকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ভালো শুরু করতে চায় মালয়েশিয়া। দলটির অন্তর্বর্তীকালীন কোচ তান চেং হো এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা এখনই ফাইনাল নিয়ে ভাবছি না। আমাদের কাছে বাংলাদেশের ম্যাচই সবার আগে।’ তান চেং হোর মতে, যেকোনো টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচ খুবই চ্যালেঞ্জিং ও কঠিন হয়। বাংলাদেশ ম্যাচে ভালো ফল করতেই মুখিয়ে আছেন মালয়েশিয়ানরা। তান চেং হো বলেন, ‘আমাদের ২৩ ফুটবলারই ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। যদিও গত কয়েক দিনে আমরা দলে তিন ফুটবলার পরিবর্তন করেছি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

