গঠনতন্ত্র সংস্কারে মন নেই বিসিবির

গঠনতন্ত্র সংস্কারে মন নেই বিসিবির

দিন কয়েক আগে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জানিয়েছিলেন, গঠনতন্ত্র সংস্কার করে যথাসময়ে বিসিবির নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তবে পরবর্তী নির্বাচনের মাস দুয়েক বাকি থাকলেও তেমন কোনো কার্যকর উদ্যোগের দেখা মেলেনি। এরই মধ্যে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ বরাবর গঠনতন্ত্র সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের আরজি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন বিসিবির কাউন্সিলর দেবব্রত পাল। তিনি আমার দেশকে জানান, আঞ্চলিক ক্রিকেট কাঠামো থেকে শুরু করে সভাপতি যেসব উদ্যোগ নিচ্ছেন, তা কার্যকর করতে হলে সবার আগে গঠনতন্ত্রে সংস্কার প্রয়োজন। গঠনতন্ত্র সংস্কার না হলে তার এসব উদ্যোগের আলোর মুখ দেখা প্রায় অসম্ভব হবে।

সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে দুই দফায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিসিবির বোর্ড সভা। গত দুই বোর্ড সভার কোনোটিতেই বিসিবির গঠনতন্ত্র কিংবা আসন্ন নির্বাচন নিয়ে হয়নি আলোচনা। অনানুষ্ঠানিকভাবেও নির্বাচন কিংবা গঠনতন্ত্র নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। জানা গেছে, সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনাই করেননি। এমনকি গঠনতন্ত্র সংস্কারের ব্যাপারেও তিনি খুব একটা ‘আগ্রহী’ নন। গঠনতন্ত্র নিয়ে বোঝার অভাবের কারণই মূলত তার আগ্রহ কম ব্যাপারটি নিয়ে। ফলে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা গঠনতন্ত্র সংস্কার করে ঠিক সময়ে নির্বাচনের যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে বিসিবির একটি সূত্র আমার দেশকে জানিয়েছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) পক্ষ থেকে বিসিবির অজান্তে গঠনতন্ত্র সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হলেই নির্ধারিত সময়ে নতুন গঠনতন্ত্রে আসন্ন নির্বাচন আয়োজন সম্ভব। তবে সে ধরনের কোনো উদ্যোগ নেই এনএসসির পক্ষ থেকে।

ফলে কবে নাগাদ গঠনতন্ত্র সংস্কার হবে এবং নির্বাচনের আয়োজন হবেÑসে ব্যাপারে কোনো ধারণা পাচ্ছেন না ক্রিকেট সংগঠকরা। নির্বাচন নিয়ে দোটানায় থাকা সংগঠকরা দ্রুতই গঠনতন্ত্র সংস্কার ও নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে বিসিবি সভাপতির সঙ্গে কথা বলবেন বলেও জানা গেছে।

অথচ চলতি বছরের জানুয়ারিতে একরকম সবার অগোচরে গঠনতন্ত্র সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছিল বিসিবি। খসড়া গঠনতন্ত্রে কমিয়ে দেওয়া হয় ঢাকাকেন্দ্রিক ক্লাবগুলোর একচ্ছত্র আধিপত্য। তাতে ক্লাবগুলো বেঁকে বসলে শেষ পর্যন্ত ওই কমিটি বাতিল করার পাশাপাশি স্থগিত হয় গঠনতন্ত্র সংস্কারের কার্যক্রম। এরপর থেকেই গঠনতন্ত্র সংস্কার নিয়ে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি বিসিবি। এর মধ্যে ফারুক আহমেদের কাছ থেকে বিসিবি সভাপতি পদের ব্যাটন পরিবর্তন হয়ে উঠেছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের হাতে। দায়িত্ব নিয়ে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টের প্রথম সেঞ্চুরিয়ান আমিনুল ইসলাম জানান, একটি কুইক টি-টোয়েন্টি ইনিংস খেলতে চান। কুইক ইনিংসে ফিরে যাওয়ার কথা বলা বুলবুল এখনো নেননি নির্বাচনের কোনো প্রস্তুতি কিংবা গঠনতন্ত্র সংস্কারের কোনো উদ্যোগ।

এ নিয়ে কাউন্সিলর দেবব্রত পাল আমার দেশকে বলেন, ‘রিজিওনাল ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন করতে হলে তো গঠনতন্ত্র সংস্কার করা প্রয়োজন। এ ছাড়া বোর্ড সভাপতি বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে দেখেছেন লিগ হচ্ছে না। খেলা হচ্ছে না। এসব জায়গায় যেন নিয়মিত খেলা ও লিগ হয় এবং বিসিবির প্রতি তাদের দায়বদ্ধ করার জন্যও তো গঠনতন্ত্রে সংস্কার প্রয়োজন।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘ক্রিকেট বোর্ডে দুর্নীতির অভিযোগে দুদক এসেছে। তারা অভিযোগগুলো নিয়ে তদন্ত করছে। সবক্ষেত্রে যেন ন্যায়বিচার পাওয়া যায়, সেজন্য বিসিবিতে সুশাসনের দরকার রয়েছে। সবকিছু মিলিয়েই আমি মনে করছি বিসিবিকে চিঠি দেওয়া দরকার। সে কারণেই চিঠি দিয়েছি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন