শুরুতেই ব্যাটিং লাইন-আপে মড়ক লেগে গিয়েছিল। তাতে ব্যাটাররা যোগ দিয়ে ফেলেন আসা-যাওয়ার মিছিলে। ব্যাটিংধস সামাল দিতে না পেরে দলীয় ৩৫ রানে ৫ উইকেট খুইয়ে ধুঁকতে থাকে বাংলাদেশ। বিশৃঙ্খল আর এলোমেলো ব্যাটিংয়ের আরও একটি চিত্রনাট্য দেখার অপেক্ষায় হয়তো ছিলেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। কিন্তু ভারতের ওয়ার্ল্ড ক্লাস বোলিং ইউনিটের চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে প্রত্যাবর্তনের দারুণ গল্প লেখেন দুই তরুণ তুর্কি তাওহিদ হৃদয় ও জাকের আলী।
দলের প্রয়োজনে হৃদয়-জাকের লেখেন ২০৬ বলে ১৫৪ রানের দারুণ এক পার্টনারশিপের গল্প। একদিনের ক্রিকেটে ষষ্ঠ উইকেটে এটি টাইগারদের রেকর্ড জুটি। শেষদিকে সাজঘরের পথ ধরার আগে হৃদয় উপহার দেন ১১৮ বলে ১০০ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। আর তার পার্টনার জাকের ১১৪ বলে এনে দেন ৬৮ রান।
ভারতের কাছে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হেরে গেলেও প্রশংসা কুড়িয়েছে হৃদয়-জাকের জুটির সাহসিকতা। শেষদিকে তো হৃদয় সবার হৃদয় জয় করেছেন ক্র্যাম্প (মাংসপেশির টান) নিয়ে শতক ছুঁয়ে। তরুণ এ ব্যাটারের স্তুতি গেয়েছেন ধারাভাষ্যকার রমিজ রাজাও। মাঠের লড়াই শেষে নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘রমিজ স্পিকস’-এ পাকিস্তানের সাবেক এই ক্রিকেটার হৃদয়কে বাংলাদেশের অমূল্য সম্পদ বলেই অভিহিত করেছেন।
টাইগারদের ত্রাণকর্তা হৃদয়ের মাঝে থাকা সম্ভাবনা নিয়ে রমিজ বলেন, ‘বাংলাদেশ যে অবস্থায় ছিল, মনে হচ্ছিল ১০০ রানও হয়তো করতে পারবে না। কিন্তু সেখান থেকে ইনিংসকে টেনে নেওয়াটা দারুণ ছিল। জাকেরের পারফরম্যান্সও অসাধারণ ছিল। দারুণ একটি জুটি গড়েছে তারা। তবে ভারতের মতো শক্তিশালী বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে এমন পরিস্থিতিতে দলকে উদ্ধার করা; তারপর সেঞ্চুরি করা অনেক দুর্দান্ত ব্যাপার। হৃদয় অনেক নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়। সে যদি নিজেকে সময় দেয়, তবে ধারাবাহিকভাবে এমন বড় ইনিংস খেলতে পারবে। হৃদয়ের মাঝে দারুণ সম্ভাবনা আছে।’
হৃদয়কে কেন নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় মনে হয়েছে- তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন পিসিবির সাবেক চেয়ারম্যান রমিজ, ‘হৃদয় বড় শট খেলতে পারে, আগ্রাসী মনোভাব আছে এবং রানিং বিটুইন দ্য উইকেটও ভালো। পাশাপাশি প্রাণশক্তিও প্রচুর। মিডল অর্ডারে বাংলাদেশ অমূল্য এক সম্পদ পেয়েছে। কারণ, যেদিন সে খেলে, দুর্দান্ত খেলতে পারে। আজ (বৃহস্পতিবার) সেই সম্ভাবনা দেখা গেছে। এই ইনিংসের পর সে আরো অনেক দূর যাবে। এত বড় একটি দলের বিপক্ষে যে পরিস্থিতিতে সেঞ্চুরি করেছে, সেটা অনেক বড় ব্যাপার। ফলে নির্ভরযোগ্যতা, সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো এবং মানের দিক থেকে সবগুলো কাজই সে ঠিকঠাকভাবে সম্পন্ন করেছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

