২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের কথা মনে আছে? ভারতের মাঠে ভারতের সব দর্শককে চুপ করিয়ে দিয়ে বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এ হৃদয় ভাঙার ফাইনালের পর আরেকটি মহারণে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হচ্ছে ভারত। আজ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম সেমিফাইনাল খেলবে দুদল। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বেলা ৩টায় ম্যাচটি শুরু হবে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি হবে, না ‘প্রতিশোধ’ নিয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে পৌঁছে যাবেন রোহিত শর্মারাÑ সেটি মাঠের লড়াইয়েই দেখা যাবে।
চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শিরোপা দুবার করে জিতেছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। সাবেক চ্যাম্পিয়ন দল দুটি টুর্নামেন্টে প্রায় ১৯ বছর পর পরস্পরের বিপক্ষে ম্যাচ খেলবে। ২০০৯ সালের আসরে গ্রুপ পর্বে দুদলের ম্যাচ ছিল। কিন্তু সেই ম্যাচটি পরিত্যক্ত হয়। এর আগে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে দুদল সর্বশেষ ম্যাচ খেলে ২০০৬ সালে। এ পর্যন্ত টুর্নামেন্টে দুদলের মোট চারটি ম্যাচের রেকর্ড রয়েছে। পরিত্যক্ত ম্যাচটি বাদ দিলে বাকি তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জিতেছে ভারত। অস্ট্রেলিয়ার জয় একটি। সব প্রতিযোগিতা মিলে এ পর্যন্ত দুদল মোট ১৫১টি ওয়ানডে খেলেছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের রেকর্ড ৮৪ আর ভারতের ৫৭টি। বাকি ১০টি ম্যাচের ফল হয়নি।
অতীত রেকর্ড আর শক্তি-সামর্থ্যে বেশ সমৃদ্ধ ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। তাই দুদলের ফাইনালে ওঠার লড়াই বাড়তি রঙ ছড়াচ্ছে। টুর্নামেন্টে দুদলই ফেভারিট হিসেবে খেলছে। গ্রুপ পর্বে দুদলের কেউই হারেনি। ‘এ’গ্রুপ থেকে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দল হিসেবে সেমিফাইনালে খেলছে। আর ‘বি’ গ্রুপের রানার্সআপ অস্ট্রেলিয়া। গ্রুপ পর্বে বেশ দাপুটে ক্রিকেট খেলেছে ভারতীয়রা। তাদের বড় শক্তি স্পিন। পাকিস্তানের পর নিউজিল্যান্ডের ম্যাচেও ভারতের স্পিনাররা নজরকাড়া পারফরম্যান্স শো করেন। আর অস্ট্রেলিয়ার স্পিন খেলার দুর্বলতা সবার জানা। তাই স্পিনেই অজিদের কাবু করার চেষ্টা করবে রোহিতের দল। অবশ্য বুমরাহর অনুপস্থিতিতে তাদের ধারালো পেস অ্যাটাকও বাড়তি নজর কাড়তে পারে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার কোনো ব্যাটার দাঁড়িয়ে গেলে বিপদ হতে পারে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে ট্রাভিস হেডের কথাই মনে করুন; একাই ম্যাচের দৃশ্যপট পাল্টে দিয়েছিলেন এই ব্যাটার। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে সাড়ে ৩০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়েছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের ব্যাটিং কতটা শক্তিশালী, সেটিও ওই ম্যাচেই বোঝা গেছে। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে কামিন্স, হ্যাজলউড, স্টার্কদের মতো বিধ্বংসী পেসাররা খেলছেন না। ভারত ম্যাচে তাদের অভাবটা টের পেতে পারে অস্ট্রেলিয়া। আরেকটি জায়গায় অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে এগিয়ে থাকবে ভারত। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচই একক ভেন্যু দুবাইয়ে খেলেছে তারা। সেমিফাইনালও একই মাঠে। ফলে কন্ডিশন, উইকেটসহ সবকিছু সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা হয়ে গেছে তাদের। অন্যদিকে লাহোর ও রাওয়ালপিন্ডি ঘুরে দুবাইয়ে সেমিফাইনালের জন্য এসেছে অস্ট্রেলিয়া দলটি। হঠাৎ করে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার কাজ তাদের জন্য সহজ হবে না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

