দিনের শুরুতে ৭ম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশকে অস্বস্তি উপহার দেন শ্রীলঙ্কার দুই ব্যাটার কামিন্দু মেন্ডিস ও মিলান রত্নানায়েকে। দুজন মিলে ওই জুটিতে যোগ করেন ৮৪ রান। তারা দুজন যতক্ষণ উইকেটে ছিলেন মনে হচ্ছিল- লঙ্কানরা শুধু লিড নয়, স্কোরবোর্ডে বড় সংগ্রহ দাঁড় করাবে। দ্বিতীয় সেশনে হাসান মাহমুদের এনে দেওয়া ব্রেক থ্রুর পর নাঈম হাসানের ঝলকে শেষ পর্যন্ত স্বাগতিকদের আর লিড পাওয়া হয়নি। তাতে ১০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামে বাংলাদেশ। লঙ্কানদের ৪৮৫ রানে অলআউট করা সফরকারীরা চতুর্থ দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৭৭ রান তুলেছে। এখন নাজমুল হোসেন শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের লিড ১৮৭। ৫ম দিনের শুরুতে লিড বাড়িয়ে লঙ্কানদের উপর কতটা চাপ বাড়াতে বাংলাদেশ- সেটাই দেখার অপেক্ষা।
গলে চতুর্থ দিনের শুরুতে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ও কামিন্দু মেন্ডিস দারুণভাবে এগোচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, ফের অসহায় হয়ে পড়তে পারে বাংলাদেশি বোলাররা। তবে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নিয়ে ডি সিলভাকে ফিরিয়ে সেই অস্বস্তি শুরু হতে দেননি নাঈম হাসান। পরে ৭ম উইকেটে কামিন্দুর সঙ্গে ৮৪ রানের জুটি গড়া মিলানকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ডেরায় স্বস্তি এনে দেন পেসার হাসান মাহমুদ। এরপর আর লঙ্কানরা ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। ৮৭ রান করা কামিন্দু আউট হন নাঈম হাসানের বলে। পরে আরও দুই উইকেট নিয়ে ফাইফার পূর্ণ করেন এই ডানহাতি অফ স্পিনার। আর লঙ্কানদের ইনিংস থামে ৪৮৫ রানে। ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফাইফার নেওয়া নাঈম হাসানের এটা ছিল দেশের বাইরে ‘প্রথম’ টেস্ট ম্যাচ।
১০ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ প্রথম দিকে ছিল বেশ অস্বস্তিতে। ঘরোয়া ক্রিকেটে বছরের পর বছর ধরে রান ফোয়ারা ফোটানো এনামুল হক বিজয় প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা টেনে আনেন দ্বিতীয় ইনিংসেও। মাত্র চার রান করে ফেরেন প্যাভিলিয়নে। তাতে দ্বিতীয় প্রথম ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। লাফিয়ে ওঠা বলে এমন বাজেভাবে আউট হওয়া বাংলাদেশি ব্যাটারদের জন্য নিয়মিত ঘটনা। আর স্পিনারদের বিপক্ষে খেলতে না পারার পুরোনো অভ্যাস তো সঙ্গী হিসেবে আছেই। তাতে মনে হচ্ছিল, হয়তো সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশের ব্যাটাররা শুরু করবেন যাওয়া আসার মিছিল।
কিন্তু না- মমিনুল হক ও সাদমান ইসলাম দ্বিতীয় উইকেটে ৩৬ রান যোগ করে সামাল দেন প্রাথমিক ধাক্কা। অভিজ্ঞ মমিনুল আউট হন দুর্ভাগ্যের শিকার হয়ে। রিভার্স সুইপ করতে গিয়ে বল ব্যাটের সঠিক সংযোগ না হওয়ায় ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে ক্যাচ তুলে আউট হন। মমিনুলের ব্যাটে আসে ১৪ রান। তারপরে সাদমান ও নাজমুল হোসেন শান্ত তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬৮ রান। সাদমান ফিরলে ভাঙে এই জুটি।
ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ফিফটি করা সাদমান আউট হন ৭৬ রান করে। ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট চালিয়ে সাদমানের ব্যাটে ভর করেই মূলত বাংলাদেশ পেরোয় ১০০ রানের কোটা। এই ওপেনারের পর অধিনায়ক শান্ত শেষ বিকেলে তুলে নেন ফিফটি। চতুর্থ দিন শেষে তিনি অপরাজিত আছেন ৫৬ রানে। ৪র্থ উইকেটে তার সঙ্গে জুটিতে আছেন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার অপরাজিত আছেন ২২ রানে। পঞ্চম দিনের শুরুতে এই জুটির উপরই ভরসা রাখবে বাংলাদেশ। তারা যতটুকু যোগ করতে পারবেন- তার উপরই নির্ভর করবে ম্যাচে কার পক্ষে ফল আসবে।
তবে পঞ্চম দিনের শুরুতে স্পিন চ্যালেঞ্জ বেশ ভালোভাবেই বাংলাদেশকে মোকাবিলা করতে হবে। ম্যাচ জিততে গলে চতুর্থ ইনিংসে স্পিনারদের কেও রাখতে হবে বড় ভূমিকা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

