১-৩ গোলে পিছিয়ে থেকে ৪-৩ এ জয়

ধ্রুপদী ম্যাচ জিতে ওলমো বললেন, এটাই ফুটবল

ধ্রুপদী ম্যাচ জিতে ওলমো বললেন, এটাই ফুটবল

স্প্যানিশ লিগের শ্রেষ্ঠত্ব পুনরুদ্ধারের মিশন এখন বার্সেলোনার সামনে। শিরোপা জয়ের জন্য প্রতি ম্যাচই ফাইনাল হিসেবে খেলছে তারা। কেননা একটি ম্যাচ হারলেই যে পয়েন্ট তালিকার রাজত্ব হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। পয়েন্ট খোয়াতে মোটেই রাজি নয় কোচ হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। লক্ষ্যে অটুট থেকে নিজেদের মাঠে গত শনিবার রাতে অতিথি সেলতা ভিগোর বিপক্ষে অবাক করা এক জয় পেয়েছে কাতালানরা। প্রত্যাবর্তনের রূপকথার গল্পই লিখেছে বার্সা। অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্সে ৩-১ গোলে পিছিয়ে পড়েও স্প্যানিশ জায়ান্ট ক্লাবটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বার এক জয়। হারের শঙ্কার মধ্যে পড়ে গেলেও হাল ছেড়ে দেয়নি বার্সা।

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের ৬ মিনিটের ব্যবধানে ২ গোল আদায় করে খেলায় ফেরে তারা। পরে তো ইনজুরি টাইমের পেনাল্টির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের চিত্রনাট্য পাল্টে দেন জোড়া গোলদাতা রাফিনহা। বোরজা ইগলেসিয়াসের হ্যাটট্রিক নৈপুণ্য মাটি করে ৭ গোলের থ্রিলার ম্যাচে শেষ হাসি হাসে বার্সাই। বার্সা ম্যাচে জয় পেয়েছে ৪-৩ গোলে। দাপুটে এ জয়ে লিগ শিরোপা জয়ের দৌড়ে আরো এগিয়ে গেল লামিনে ইয়ামালরা। তবে রবার্ট লেভানডোভস্কির বাঁ ঊরুর পেছনের পেশির ইনজুরি অস্বস্তিতে ফেলেছে বার্সাকে। কারণ, রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে কোপা দেল রে’র ফাইনাল ও ইন্টার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছেন পোল্যান্ডের এ তারকা স্ট্রাইকার!

ঘরের মাঠ এস্তাদিও অলিম্পিক লুইস কোম্পানিসে দাপুটে এ জয়ে লা লিগায় পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান আরো পোক্ত করল বার্সা। ৩২ ম্যাচ খেলে ৭৩ পয়েন্টের পুঁজি নিয়ে টেবিলে রাজত্ব করে যাচ্ছে এখন বার্সা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে পরিষ্কার ৭ পয়েন্টে এগিয়ে রাফিনহারা। রিয়াল অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলেছে। ৩১ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৬৬ পয়েন্ট। গতকাল রাতে নিজেদের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে অ্যাথলেতিক বিলবাওকে হারিয়ে থাকলে পয়েন্ট ব্যবধান কমে চারে নেমে আসবে ফের। জিতলে রিয়ালের পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়াবে ৬৯।

ইয়ামাল শুরুর একাদশে না থাকলেও আক্রমণাত্মক ফুটবলের ফুল ফুটিয়েছে বার্সা। তাই বলে স্বাগতিকদের ছেড়ে কথা বলেনি সফরকারী সেলতা ভিগো। বার্সা এক দিকে আক্রমণ রচনা করে গেছে। বিপরীতে সমান তালে পাল্টা আক্রমণে কাতালান রক্ষণভাগকে তটস্থ রেখেছে প্রতিপক্ষ। ম্যাচের ১২ মিনিটে লিড নেয় বার্সা। ইনিয়েগো মার্তিনেজ বল ঠেলে দিলে চমৎকার শটে প্রতিপক্ষের জালে ফেরান তোরেস। তবে সমতায় ফিরতে মোটেই সময় বেশি নেয়নি সেলতা ভিগো। ৩ মিনিট বাদেই বার্সার সঙ্গে স্কোর লেভেল করে ফেলে তারা। পাল্টা আক্রমণ তৈরি করে সতীর্থ পাবলো দুরান দেন দারুণ এক পাস। বল পেয়ে কোনো ভুল করেননি বোরজা ইগলেসিয়াস। নির্ভুল নিশানায় লক্ষ্যভেদ করেন। গোলরক্ষক ভয়েচেক সেজনির বীরত্বে পরে বার্সা বেঁচে যায় সেলতার আরো দুটি গোলপ্রচেষ্টা থেকে।

ম্যাচের ৫০ মিনিটে গোল মিস করে বসে সেলতা। কিন্তু দুই মিনিট পর ঠিকই গোল পেয়েছে তারা। ইয়োয়েল লাগোর পাস ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং ধরতে ব্যর্থ হন। বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে বার্সার জাল কাঁপান সেলতার ফরোয়ার্ড ইগলেসিয়াস। পূর্ণ হয় তার জোড়া গোল। পরে ম্যাচের ৬২ মিনিটে হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়ে যান ইগলেসিয়াস। এতে লিগে চলতি বছরের প্রথম হারের শঙ্কা পেয়ে বসে বার্সাকে। তার ঠিক আগের ম্যাচেই চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের ফিরতি লেগে বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে ধরাশায়ী হয়েও এ টুর্নামেন্টের শেষ চারে নাম লেখে তারা। সব ধরনের টুর্নামেন্ট মিলিয়ে ২০২৫ সালে প্রথম হারের স্মৃতি ফিরে আসার আভাস মিলছিল। তবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন দানি ওলমো ও রাফিনহা। ৬৪ মিনিটে দানি ওলমো গোল এনে দিয়ে বার্সাকে খেলায় ফেরার রসদ জোগান দেন।

বদলি হিসেবে ইয়ামাল মাঠে নেমে বার্সার আক্রমণের ধার বাড়িয়ে দেন। চার মিনিট পর স্প্যানিশ তরুণ তুর্কি ইয়ামালের অ্যাসিস্টে ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনহা গোল করলে সমতায় ফেরে বার্সা। একটা সময়ে ৩-১ গোলে পিছিয়ে থাকলেও ৬ মিনিটের আক্রমণের ঝড়ে সমতায় ফেরার স্বস্তি বইয়ে যায় বার্সার ডাগআউটে।

সমতায় ফিরে এবার জয়ের স্বপ্ন গড়ে বার্সা। জয়সূচক গোলের দেখা পেতে আক্রমণে সেলতোকে নাজেহাল করে ছাড়ে তারা। বিপরীতে সেলতাও পাল্টা আক্রমণ থেকে এগিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যায়। তবে সাফল্য পেয়েছে বার্সাই। ইনজুরি টাইমে দানি ওলমোকে বক্সে বাজেভাবে ট্যাকেল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান বার্সার পক্ষে। তা থেকে রাফিনহা নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করতেই জয়ের হাসি নিয়ে মাঠ ছাড়ে বার্সা।

চোট কাটিয়ে মাঠে নিজের ফেরার ম্যাচ রাঙিয়ে নিয়েছেন ওলমো। ধ্রুপদী এ ম্যাচ জিতে দারুণ খুশি এ স্প্যানিশ উইঙ্গারের মতে রোমাঞ্চকর লড়াই হলো ফুটবলের সৌন্দর্য, ‘এটাই ফুটবল। আমরা এই ম্যাচ জিততে চেয়েছিলাম, কিন্তু আমরা সব সময় নিজেদের সেরা পর্যায়ে ছিলাম না। তবে শেষ পর্যন্ত দল জিতেছে এবং সমর্থকরা শেষ বাঁশি পর্যন্ত আমাদের উৎসাহ জুগিয়েছে।’

একনজরে ফল

বার্সেলোনা ৪-৩ সেলতা ভিগো

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন