আগামী ৬ ও ৯ সেপ্টেম্বর নেপালের কাঠমান্ডুতে ফিফা উইন্ডোতে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। নেপালের বিপক্ষে ম্যাচ সামনে রেখে ১৩ আগস্ট থেকে জাতীয় দলের প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হয়েছে। ক্যাম্পের প্রথম দিন মাত্র পাঁচ ফুটবলার উপস্থিত ছিলেন! এরপর এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ শেষে ক্যাম্পে যোগ দেন আরো সাত ফুটবলার। অর্থাৎ ২৪ জনের প্রাথমিক দলের অর্ধেক খেলোয়াড় নিয়ে চলছে প্রস্তুতি ক্যাম্প। ক্যাম্পে খেলোয়াড় সংকটের সবচেয়ে বড় কারণ হলো- ফুটবলার ছাড়েনি বসুন্ধরা কিংস।
জাতীয় দলে বসুন্ধরা কিংসের সর্বোচ্চ ৮ ফুটবলার ডাক পেয়েছেন। তারা হলেন- তপু বর্মণ, সাদ উদ্দিন, তারিক কাজী, হৃদয়, সোহেল রানা, মো. সোহেল রানা, শাহরিয়ার ইমন, ফয়সাল আহমেদ ফাহিম ও রাকিব হোসেন ডাক পেয়েছিলেন। অন্য সব ক্লাবের ফুটবলাররা ক্যাম্পে যোগ দিলেও তপুদের ছাড়েনি বসুন্ধরা কিংস। ক্যাম্প শুরুর পর এক চিঠিতে খেলোয়াড় ছাড়তে পারবে না বলে দুঃখ প্রকাশ করে বাফুফেকে জানিয়ে দিয়েছে ক্লাবটি।
২০১৮ সাল থেকে দেশের ফুটবলে বড় প্রভাব রাখছে বসুন্ধরা কিংস। জাতীয় দলের অধিকাংশ খেলোয়াড় এই ক্লাবটির হয়ে খেলে থাকে। আগে খেলোয়াড় ছাড়লেও এবার নিয়মের ব্যতিক্রম করা প্রসঙ্গে চিঠিতে ব্যাখ্যা দিয়ে ক্লাবটি বলেছে, প্রাক-মৌসুমে প্রস্তুতি ব্যতীত কোনো প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে খেলোয়াড়দের ইনজুরির প্রবণতা বাড়ে। এজন্য গত মৌসুমে বিশ্বনাথ ঘোষ খেলতে পারেননি। তাই এবার বাড়তি সতর্ক থাকার কারণেই খেলোয়াড় ছাড়ছে না তারা। ফলে জাতীয় দল নিয়ে বেকায়দায় পড়া ফুটবল ফেডারেশনের ন্যাশনাল টিমস কমিটি গত রবিবার জরুরি সভা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, বসুন্ধরা কিংসকে খেলোয়াড় ছাড়তে অনুরোধ করা হবে।
এ সভা শেষে জানা যায়, জাতীয় দলে খেলোয়াড় পেতে বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ও বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি, ন্যাশনাল টিমস কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ও পেশাদার লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ইমরুল হাসানের সঙ্গে বাফুফের কেউই যোগাযোগ করতে পারেননি। তাতেই বিষয়টি পরিষ্কার যে, বাফুফে ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছে। আর এর প্রভাব পড়ছে জাতীয় দলেও।
বাফুফে সদস্য ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বাবু জানান, ‘ জাতীয় দলে ডাক পাওয়া খেলোয়াড়দের ক্লাবগুলোকে আমরা ১০ আগস্ট চিঠি দিয়েছি। তাদের আমরা বলেছি যে, এই খেলোয়াড়দের আগামী ১৫ তারিখ সশরীরে রিপোর্ট করার জন্য। কিন্তু দেখা গেল অন্যান্য ক্লাবের সব খেলোয়াড় হাজির হলেও শুধু বসুন্ধরার খেলোয়াড়রা আসেনি। বিষয়টি নিয়ে বসুন্ধরা কিংসের ম্যানেজার এবং বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি ইমরুল হাসানের (যিনি আবার ন্যাশনাল টিমস কমিটিরও ডেপুটি চেয়ারম্যান) সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। কিন্তু তাদের কাউকে মুঠোফোনেও পাইনি। এর মধ্যে ১৭ আগস্ট বসুন্ধরা কিংস এক চিঠিতে জানিয়ে দেয় তারা খেলোয়াড় ছাড়তে পারবে না।’
আর্ন্তজাতিক নিয়ম অনুযায়ী ক্লাবগুলো জাতীয় দলের জন্য ম্যাচের ৭২ ঘন্টার আগে খেলোয়াড় ছাড়তে বাধ্য। তবে ৭২ ঘণ্টা আগে ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় ছাড়ার যে বাধ্যবাধকতার কথা বলা হচ্ছে, এ বিষয়ে একমত নন আমিরুল ইসলাম বাবু। তিনি বলেন, ‘আমাদের আরো ফিফা কিছু রুলস আছে। নির্ধারিত ৭২ ঘণ্টার আগেও খেলোয়াড় ছাড়ার একটা সুযোগ আছে। আমরা তো সেগুলোও ফলো করতে পারি।’
সমঝোতার ভিত্তিতেই বসুন্ধরা কিংসের সঙ্গে সমস্যার সমাধান করতে চাইছে বাফুফে। খেলোয়াড়দের ইনজুরির যে কথা বলা হচ্ছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আমিরুল ইসলাম বাবু বললেন, এমন হলে অতীতে ফিফার কাছ থেকে কিংসকে ক্ষতিপূরণ এনে দিয়েছে বাফুফে। ফুটবলে প্রভাব বিস্তারকারী ক্লাব হিসেবে বসুন্ধরা কিংস পাঁচ-ছয় বছর ধরে অনেক অনিয়ম করছে বলে অনেক ফুটবলপ্রেমীর অভিযোগ।
কিংসের খেলোয়াড় না ছাড়ার ঘটনা নতুন কিছু নয়। বাফুফের পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০১৯ সালে এসএ গেমস, ২০২০ সালে নেপালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ, ২০২১ সালে ত্রিদেশীয় প্রীতি টুর্নামেন্ট, ২০২৩ সালে এশিয়ান গেমস, সাফ অনূর্ধ্ব-২০ এবং এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল ক্যাম্পের সময় অনুশীলন ক্যাম্পে খেলোয়াড় পাঠানো নিয়ে তালবাহানা করেছে বসুন্ধরা কিংস। এবারো একই আচরণ করছে ক্লাবটি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

