একে তো ব্যাটিং সহায়ক উইকেট, তার ওপর পাকিস্তানের দুর্দান্ত ব্যাটিং লাইনআপ। তাতে বাংলাদেশের করা ১৯৬ রানকে বড় পুঁজি বলা যাচ্ছিলো না। হলোও তাই। ১৯৭ রানের লক্ষ্য খেলতে নেমে ৭ উইকেট ও ১৭ বল হাতে রেখেই জিতে গেছে পাকিস্তান। তিন ম্যাচের সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই হলো লিটন দাসের দল।
রোববার লাহোরে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০৬ রান করে বাংলাদেশ। জবাব দিতে নেমে মোহাম্মাদ হারিসের সেঞ্চুরিতে ১৭.২ ওভারেই ৩ উইকেটে ১৯৭ রান তুলে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় পাকিস্তান। জয় পায় ৭ উইকেটে।
রান তাড়ায় নেমে অবশ্য শুরুতে বিপদেই পড়েছিল পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহানকে বিদায় করেন মিরাজ। ফারহানকে ডিপ মিড উইকেটে রিশাদ হোসেনের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান এই অফস্পিনার। ফারহান ফেরেন ৪ বলে মাত্র ১ রান করে।
সাহিবজাদা ফারহান দ্রুত আউট হলেও শুরুতেই ঝড় তোলার আভাস দেন মোহাম্মদ হারিস। তার সঙ্গে চড়াও হন সাইম আইয়ুবও। তাতে ৫ ওভারেই ৫০ পেরিয়ে যায় পাকিস্তান। একপর্যায়ে ১০ ওভারে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১০৪/২.
দলের শতরান পার করার পরই ফিফটি করেন হারিস। তার সঙ্গী সাইম আইয়ুবও ছিলেন ফিফটির পথে। কিন্তু সাইমকে ৫০ করতে দিলেন না তানজিম। তাতে ভাঙে হারিস–সাইমের ৫৩ বলে ৯২ রানের জুটি।
এরপর ভয়ংকর হয়ে উঠছিলেন হাসান নেওয়াজ। তাকে ফেরান মিরাজ। ১৩ বলে দুটি করে চার ও ছয়ে ২৬ রান করে নেওয়াজ আউট হয়েছেন রিশাদ হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে। তবে যা করার করে গেছেন।
অন্যপ্রান্তে হারিসের ঝড় তখনো চলমান। শেষমেশ দলকে জিতিয়েই মাঠ ছেড়েছেন এই ওপেনার। ৪৬ বলে ৮টি চার ও ৭ ছক্কায় ১০৭ রান করে অপরাজিত থাকেন হারিস। #২ বলে ১৫ রান করে অপরাজিত থেকে তাকে সঙ্গ দেন সালমান আলী আঘা।
এর আগে, টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চার দিয়ে শুরু করেন তানজিদ হাসান। সাইম আইয়ুবের বলে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে চার মেরেছেন তানজিদ। অবশ্য চতুর্ঘ ওভারেই ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন তানজিদ। পাওয়ার প্লেতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫৩/০!
দুই প্রান্ত থেকেই ঝড়ো ব্যাটিং করতে থাকেন দুই ওপেনার তানজিদ ও পারভেজ হোসেন ইমন। তাতে অষ্টম ওভারেই ফিফটি তুলে নেন ইমন। আবরাব আহমেদের ওভারে একটি চার ও দুটি ছক্কা মেরেছেন নিজের মুখোমুখি হওয়া ২৭তম বলে পৌঁছালেন পঞ্চাশে।
ব্যাটিং ঝড় বজায় রেখে উদ্বোধনী জুটিতেই একশ পার করে বাংলাদেশ। ১১তম ওভারে ১০০ পেরিয়ে গেল বাংলাদেশ।নিজেদের টি–টোয়েন্টি ইতিহাসে এ নিয়ে পঞ্চমবারের মতো উদ্বোধনী জুটিতে শতরান পেল বাংলাদেশ।
তানজিদ আউট হন ১১তম ওভারেই। ফাহিম আশরাফের বলে র্যাম্প শট খেলতে গিয়ে উইকেট দেন তানজিদ (৩২ বলে ৪২)। ১১০ রানের মাথায় ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
খানিকবাদে আউট হয়ে ফিরে যান পারভেজও। ৩৪ বলে ৬৬ রান করেন এই ওপেনার। শাদাব খানের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বলটা স্লগ করতে চেয়েছিলেন পারভেজ। কিন্তু ব্যাটের কিনারে লেগে ক্যাচ উঠে যায়। উইকেটকিপার মোহাম্মদ হারিস বলটাকে গ্লাভসবন্দী করতে ভুল করেননি।
এরপর লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় এগিয়ে নেন দলকে। দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটি থেকে এখন পর্যন্ত ২০ বলে এসেছে ৩৫ রান। তাতে ১৫ ওভারেই বাংলাদেশ ১৫০ ছুঁয়ে ফেলে।
লিটন ছিলেন আগ্রাসী। সেটা ধরে রাখতে গিয়েই ফিরতে হয় তাকে। হাসান আলীর বলে তিন স্টাম্প ছেড়ে র্যাম্প শট খেলতে গিয়ে হলেন বোল্ড। ১৮ বলে ২২ রানে থামলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। এরপর দ্রুত ফিরে যান শামীম হোসেন ও হৃদয় (২৫)। শেষদিকে শুরু হয় আসা-যাওয়ার মিছিল। তাতে আর দুইশ ছোঁয়া হয়নি বাংলাদেশের।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৯৬/৬ (তানজিদ ৪২, পারভেজ ৬৬, লিটন ২২, হৃদয় ২৫, শামীম ৮, জাকের ১৫*, মিরাজ ১, তানজিম ৮*; সাইম ২-০-২৪-০, হাসান ৪-০-৩৮-২, ফাহিম ৪-০-৪১-১, আব্বাস ৪-০-২৬-২, সালমান ১-০-১১-০, আবরার ২-০-২৭-০, শাদাব ৩-০-২৬-১)
পাকিস্তান: ১৭.২ ওভারে ১৯৭/৩ (সাহিবজাদা ১, সাইম ৪৫, হারিস ১০৭*, হাসান ২৬, সালমান ১৫*; মিরাজ ৩-০-২৬-২, হাসান ৩-০-৪২-০, খালেদ ৪-০-৩৭-০, তানজিম ৩-০-৩৬-১, রিশাদ ৩-০-৩৯-০, শামীম ১-০-১১-০, হৃদয় ০.২-০-৫-০)
ফলাফল: পাকিস্তান ৭ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: পাকিস্তান ৩-০ ব্যবধানে জয়ী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

