ভারতের সঙ্গে পরামর্শের পর এশিয়া কাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত

ভারতের সঙ্গে পরামর্শের পর এশিয়া কাপ নিয়ে সিদ্ধান্ত

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) নিয়ে প্রতি মুহূর্তে ছড়িয়েছে নানা জল্পনা-কল্পনা। ভারতের সঙ্গে এজিএম বয়কটের ঘোষণা দেয় শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো। তবে শেষ পর্যন্ত এসিসির সদস্যভুক্ত সবগুলো দেশই অংশ নিয়েছে এসিসির এজিএমে। ভারত-শ্রীলঙ্কা ঢাকায় না আসলেও অনলাইনে যুক্ত ছিল। আফগানিস্তানের প্রতিনিধিরা এসেছিল ঢাকায়। এবারের এজিএমে মূল আলোচনা ছিল এশিয়া কাপের পরবর্তী আয়োজন নিয়ে। বিষয়টি নিয়ে এসিসি ও পিসিবি সভাপতি মহসিন নকভী জানান, ভারতের সঙ্গে পরামর্শের পর এশিয়া কাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না জানানো হলেও জোর গুঞ্জন ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হবে এশিয়া কাপের এবারের আসর। ভারত আয়োজক হলেও এবারের আসরের সম্ভাব্য ভেন্যু হতে পারে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এসিসি আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত কিংবা পাকিস্তান আয়োজক হলে খেলা হবে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। এ কারণে সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে আরব আমিরাতকে বেছে নেওয়া হতে পারে। এশিয়া কাপ নিয়ে মহসিন নকভী বলেন, ‘দ্রুতই সূচি ঘোষণা করা হবে। আমরা ভারতের সঙ্গে পরামর্শ করছি। আশাবাদী খুব দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।’ তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমি আশাবাদী ঝুলে থাকা বিষয়গুলো নিয়ে খুব দ্রুতই সিদ্ধান্ত হবে এবং এশিয়া কাপের আয়োজন হবে।’

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এশিয়া কাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিসিসিআই। বাতিল কিংবা স্থগিতের মতো কোনো সিদ্ধান্ত আসবে না। বরং, বিসিসিআই স্পন্সর এবং কমার্শিয়াল পার্টনারদের সঙ্গে আলোচনা করে ভেন্যু, সূচি ও গ্রুপিংয়ের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসিসিকে জানাবে।

এসিসির এজিএম নিয়ে ছিল নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা। সদস্য দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে ছিল শঙ্কা। সেই শঙ্কা কাটিয়ে ২৫ দেশই এজিএমে অংশ নেয়। এ নিয়ে মহসিন নকভী বলেন, ‘এজিএম বৈঠক ভালো হয়েছে। আমাদের ২৫ সদস্য আছে। ২৫ সদস্যই অংশ নিয়েছে। আমি কৃতজ্ঞ, যারা এসেছেন এবং যারা জুমের মাধ্যমে অংশ নিয়েছে।’ এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, ‘অনেক দেশ ঢাকায় আসতে পারেনি। এটা সব সময়ই ঘটে। যেমন আমি ব্যস্ত থাকায় সিঙ্গাপুরে যেতে পারিনি। এটা সাধারণ ঘটনা। বেশির ভাগই এসেছেন। যারা আসতে পারেনি তারা ব্যস্ততার কারণে পারেননি। এটা এসিসি এবং বিসিবির জন্য দারুণ ব্যাপার।’ ভারতের অংশ নেওয়াকে কোনোভাবেই নেতিবাচক হিসেবে দেখেননি এসিসি সভাপতি।

এ ছাড়া এসিসির এবারের সভায় নতুন সহসভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুবাশির উসমানী ও মালয়েশিয়া ক্রিকেট বোর্ডের মাহিন্দা ভাল্লিপুরাম আছেন নতুন সহসভাপতি হওয়ার দৌড়ে। বর্তমান সহসভাপতি রাজীব শুক্লা চলতি বছরই এই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াবেন। তবে এই ব্যাপারে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে এবারের সভা।

এসিসির এজিএম শেষে বিসিবি প্রধান আমিনুল ইসলাম বুলবুল জানান, ‘বিসিবির পক্ষ থেকে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল এবং এর চেয়ারম্যান মহসিন নকভীকে ধন্যবাদ জানায় এমন দারুণ আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। আমরা গর্ব করতে বলতে পারি, আমাদের সভা বেশ সফলভাবে শেষ হয়েছে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন