চ্যাম্পিয়নস লিগ

বায়ার্নের দুঃস্বপ্নের রাতে ইন্টারের উৎসব

বায়ার্নের দুঃস্বপ্নের রাতে ইন্টারের উৎসব

চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে এক পা আগেই দিয়ে রেখেছিল ইন্টার মিলান। আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় প্রথম লেগে স্বাগতিক বায়ার্ন মিউনিখকে ২-১ গোলে ধরাশায়ী করে খানিকটা এগিয়ে ছিল ইতালিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। শেষ চারে যেতে হলে ঘরের মাঠ সান সিরোতে অতিথি বায়ার্ন মিউনিখকে রুখে দিলেই হতো ইন্টারের।

বুধবার রাতে অবশ্য তার ব্যত্যয় ঘটল না। মাঠের লড়াইটা থেকে গেছে অমীমাংসিত। প্রথমার্ধ কেটেছে গোল শূন্যতায়। তবে বিরতির পর মাঠের লড়াই হয়ে পড়ে বারুদে ঠাসা। দ্বিতীয়ার্ধের ২৪ মিনিটের আক্রমণের ঝড়ে হয়েছে চার গোল। কিন্তু ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয়নি। রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ২-২ গোলে সমতা নিয়ে ম্যাচ শেষ হওয়ায় রাজ্যের হতাশায় ডুবেছে সফরকারী বায়ার্ন। আর না জিতেও খুশির উৎসবে মেতেছে ইন্টার। তা তো হবেই। কেননা দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে সেমিফাইনালে যে জায়গা করে নিয়েছে ইতালিয়ান ক্লাবটি। তাতে সবচেয়ে সফল জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মাঠ ছেড়েছে বিদায়ের রাগিণী বাজিয়ে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিপক্ষের মাঠে অবশ্য প্রত্যাবর্তনের গল্প লেখার আভাস দিয়েছিল বায়ার্ন। লড়াইয়ের ৫২ মিনিটে ইংলিশ তারকা স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন ইন্টারের জাল কাঁপালে দুই লেগ মিলিয়ে স্কোর ২-২ গোলে লেভেল করে ফেলে বাভারিয়ানরা। তবে ৫৮ মিনিটে লাওতারো মার্তিনেজ জালে বল জড়ালে ম্যাচে সমতায় ফেরে ইন্টার। আর দুই লেগ মিলিয়ে ফের লিড নেয় মিলানের এ ফুটবল পরাশক্তি। আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী এ ফরোয়ার্ড বায়ার্নের মাঠে প্রথম লেগেও পেয়েছিলেন গোলের সন্ধান।

মিনিট তিনেক না যেতেই ইন্টারের জার্সিতে গোল করে সাবেক ক্লাব বায়ার্নের হতাশায় ডুবিয়ে দেন বেঞ্জামিন পাভার। সতীর্থের নেওয়া কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বল মাথা ছুঁয়ে পাঠান জালে। ইন্টারের হয়ে এই প্রথম গোল করলেন রক্ষণভাগের এ ফুটবলার। সাবেক ক্লাবের বিপক্ষে গোল করলে সম্মান জানিয়ে সাধারণত উদযাপন করেন না অনেকে। কিন্তু ইন্টারের হয়ে মহামূল্যবান গোল করে উচ্ছ্বাসের জোয়ারে ভেসে গেছেন পাভার। তার বুনো উদযাপনের যথেষ্ট কারণও আছে। কারণ এই গোলই ইন্টারকে পৌঁছে দিয়েছে সেমিতে।

ম্যাচের ৭৬ মিনিটে স্বদেশি ইংলিশ ফুটবলার এরিক ডায়ার ম্যাচে সমতাসূচক গোল এনে দেন বায়ার্নকে। তাতে সেমিফাইনালে খেলার সম্ভাবনা উঁকি দিয়েছিল বাভারিয়ানদের সামনে। কিন্তু সেই সম্ভাবনা আলোর মুখ দেখেনি শেষ পর্যন্ত। দুঃস্বপ্নের রাতে বায়ার্ন আর গোলের দেখা না পাওয়ায় খুশির ঢেউয়ে ভেসে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক ইন্টার। বহুল কাঙ্ক্ষিত চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে উঠার উৎসব বলে কথা!

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন