ডারউইন টেস্ট

বাউন্স ও গতির পরীক্ষায় পাঁচদিন লড়াইয়ের স্বপ্ন অধিনায়কের

বাউন্স ও গতির পরীক্ষায় পাঁচদিন লড়াইয়ের স্বপ্ন অধিনায়কের

আজ সকালে এ প্রতিবেদন যখন আপনি পড়ছেন, ততক্ষণে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে খেলা শুরু হয়ে গেছে। ২২ গজে তখন নতুন এক লড়াই শুরু, টিভির পর্দায় চোখ রেখে বাংলাদেশ হয়তো তখন প্রথম ঘণ্টার উত্তেজনায় বুঁদ। কিন্তু ম্যাচ শুরুর ঠিক আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কণ্ঠে যে কথাগুলো শোনা গেছে, তার রেশ থাকার কথা পুরো টেস্টজুড়েই। কারণ, ২৩ বছরের অপেক্ষা ভেঙে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ফেরা বাংলাদেশের সামনে এবার লক্ষ্য শুধু টিকে থাকা নয়, বরং ইতিহাস বদলে নতুন এক গল্প লেখা।

প্রস্তুতি ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হার, ৫৪ রানে গুটিয়ে যাওয়ার তেতো স্মৃতি এখনো টাটকা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছিল, তাহলে কি টেস্টেও একই ছবি দেখা যাবে? কিন্তু শান্তর জবাবে সংশয়ের লেশমাত্র মেলেনি। উল্টো তার কথায় ফুটে উঠেছে এক ধরনের জেদ, প্রস্তুতি ম্যাচের ফল আসল লড়াইয়ের মাপকাঠি নয়। ‘আমরা তো খেলোয়াড় হিসেবে পাঁচদিন ভালো ক্রিকেট খেলতে চাই, প্রতিটি সেশন বাই সেশন খেলতে চাই, আমরা যেটা সব সময় বলি’। নিজেদের লক্ষ্য এভাবেই স্পষ্ট করেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

বিজ্ঞাপন

টেস্ট কতদিন গড়াবেÑতা নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ শান্ত। তার চোখ বরং প্রতিটি সেশনে। ম্যাচ তিনদিনে শেষ হবে, নাকি পাঁচদিন গড়াবেÑসে আলোচনা মাঠের বাইরে চলতেই থাকবে; কিন্তু ড্রেসিংরুমের ভাবনা অন্যরকমÑ‘একেকটি সেশন গুরুত্বপূর্ণ। চারদিন যাবে, পাঁচদিন যাবে, নাকি তিনদিন যাবেÑএ ধরনের আলোচনা থাকবেই। কিন্তু খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের সব সময় লক্ষ্য থাকবে আমরা কত ভালো ক্রিকেট খেলতে পারি’Ñবলেছেন তিনি। বড় রান কিংবা ৫ উইকেটের মতো ব্যক্তিগত কীর্তিও যে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে, তা মানছেন শান্ত নিজেও। ‘কাউকে বাড়তি প্রেরণা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সবাই জানে এখানে একটা বড় স্কোর, বোলিংয়ে সাফল্য, দল হিসেবে ভালো করার মতো বিষয়গুলো নিজেদের এবং দলের ভবিষ্যতের জন্য খুব ভালো কাজে দেবে। এ প্রেরণাই সবার ভেতর কাজ করছে। এ সিরিজে ভালো করতে সবাই অনেক আত্মবিশ্বাসী।’

আসল লড়াইটা অবশ্য শুরু হবে মারারা স্টেডিয়ামের ড্রপ-ইন পিচে পা রাখার পরই। অস্ট্রেলিয়ার পেসনির্ভর আক্রমণ আর ডারউইনের বাড়তি বাউন্স, দুটো মিলিয়েই বাংলাদেশের ব্যাটারদের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন এক পরীক্ষা। বিশেষ করে নতুন বলের সময়টা যে সবচেয়ে স্পর্শকাতর, তা মানছেন অধিনায়ক নিজেইÑ‘আমার মনে হয় নতুন বলে সব সময় সব জায়গায় চ্যালেঞ্জ থাকে। এখানে হয়তো একটু বেশি থাকবে। এখানে যতক্ষণে আমরা ব্যাটিং করব, যে-ই ব্যাটিং করবে, যার যার সহজাত খেলাটাই সে খেলবে এবং রানের জন্যই খেলবে।’ শুধু কৌশল নয়, লম্বা সময় মনোযোগ ধরে রাখার মানসিক দৃঢ়তাকেই এ লড়াইয়ের আসল চাবিকাঠি মনে করছেন তিনি। তার ভাষায়, ‘লম্বা সময় মনোযোগ ধরে রেখে ব্যাটিং করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তারা খুবই ভালো বোলিং অ্যাটাক। তাই এই অ্যাটাককে ঠিকমতো সামলাতে হলে আমাদের অবশ্যই আরো অনেক বেশি মনোযোগ এবং ভালো চিন্তাভাবনা নিয়ে ব্যাটিং করতে হবে।’

দুশ্চিন্তার মধ্যেও একটি স্বস্তির খবর দিয়েছেন শান্ত। চোট কাটিয়ে দলে ফেরা লিটন দাস প্রথম টেস্টের জন্য পুরোপুরি ফিট, প্রস্তুতি ম্যাচ না খেললেও তার ফেরাটা বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বাড়তি গভীরতা যোগ করেছে। তবে চূড়ান্ত একাদশ নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন অধিনায়কÑ‘এখনো একাদশ সাজানো হয়নি। দলে কিছু ছোটখাটো চোট সমস্যা রয়েছে। তাই কাল আমরা একাদশ নির্ধারণ করব। লিটন শতভাগ ফিট আছে এখন। সে আসায় অবশ্যই ব্যাটিংয়ের গভীরতা আরো বেড়েছে। ধারাবাহিকতা আছে তার। কাল যে টেস্ট শুরু হবে, আশা করি ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে ভালো করবে।’ শরিফুল ইসলামকে নিয়েও আশার কথা শুনিয়েছেন তিনি, ‘শরিফুল ফিটনেস টেস্ট পাস করেছে। ভালো বোলিংও করছে। আশা করি দ্বিতীয় টেস্টে খেলবে।’

২০০৩ সালের পর এ প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলছে বাংলাদেশ। প্রায় দুই যুগ পর বদলে যাওয়া এ দলটি তাই পুরোনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি চায় না, চায় নতুন এক প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প লিখতে। ডারউইনের বাউন্স, অস্ট্রেলিয়ার গতি, আর নিজেদের ওপর অটুট আস্থাÑএই তিনের সমীকরণেই লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের ভাগ্য। ফল নয়, নিজেদের সেরাটা মেলে ধরাই শান্তর চাওয়া। ২২ গজে এখন শুধু অপেক্ষা, প্রতিফলনটা কেমন হয় তা দেখার।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন