ঝালকাঠি বিএনপিতে তীব্র কোন্দল

ঝালকাঠি বিএনপিতে তীব্র কোন্দল
ফাইল ছবি

ঝালকাঠি জেলা বিএনপির রাজনীতিতে দলীয় কোন্দল ঘিরে উত্তাপ ছড়াচ্ছে। দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব-কোন্দল ক্রমেই প্রকাশ্যে চলে আসছে। বিভিন্ন গ্রুপের নেতারা পরস্পরের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর ঝালকাঠি জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে জেলার দুটি আসনের সংসদ সদস্যদের এক মঞ্চে দেখা যায়নি বললেই চলে। সব মিলিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্যে রূপ নিতে শুরু করেছে।

জেলা বিএনপির গ্রুপিংয়ের রাজনীতিতে সর্বশেষ মেরূকরণ অনুযায়ী, একদিকে রয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের এমপি রফিকুল ইসলাম জামাল ও ঝালকাঠি-২ আসনের এমপি ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোসহ তাদের অনুসারীরা। অন্যদিকে রয়েছেন জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দ হোসেন ও সদস্যসচিব শাহাদাত হোসেনসহ আহ্বায়ক কমিটির নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন শাখা কমিটির নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আহ্বায়ক কমিটির সঙ্গে রয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি জেবা আমিনা আল গাজী। তবে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নূপুর ও সাবেক সদর উপজেলা সভাপতি সরদার এনামুল হক এলিনসহ আরো কয়েকজন সদস্য দুই এমপির সঙ্গে রয়েছেন।

সম্প্রতি ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়ন বিএনপির এক সাংগঠনিক সভায় ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবদুর রহিম মিয়া বিএনপি নেতাদের ফুল দিয়ে তাদের পাশে আসন গ্রহণ করেন। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী টাকা নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপিতে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন। তবে এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে ঝালকাঠি সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যাপক এজাজ হাসান তখন আমার দেশকে বলেছিলেন ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে সৌজন্য হিসেবে রহিম মিয়া আমাদের ফুল দিয়েছেন, তাকে দলে নেওয়ার খবর সঠিক নয়। ঝালকাঠি সদর উপজেলা কমিটি জেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহাদাত হোসেনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

এই ঘটনার পরেই ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল জেলা নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন। তিনি সেখানে লেখেন, ঝালকাঠির বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের খাই খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারার বিনিময় খেয়েছেন, তাদের পক্ষে ওকালতি করে খেয়েছেন, তাদের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত টাকার বিনিময় আওয়ামীদের দলে যোগদান করিয়েও খাচ্ছেন। মনে হয় দলটাই খেয়ে ফেলবেন। লজ্জা থাকা উচিত, যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনাদের এত খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেই ৩৬ জুলাই শহীদদের জন্য ৫ আগস্ট একটু দোয়া করতে পারেননি। শুধু নেতা হতে পদ চাইলে খুব দ্রুতই দল থেকে ঝরে পড়বেন।

তার স্ট্যাটাসটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় এবং গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়। পরে এই স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন ফেসবুকে লেখেন (পোস্টটি ডিলিট করে দেওয়া হয়েছে)Ñপাগলে কিনা বলে ছাগলে কিনা খায়। চোরের মায়ের বড় গলা। বুঝলে বুঝপাতা না বুঝলে তেজপাতা। তার এই পোস্টও মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

পরে অবশ্য জেলা অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন আমার দেশকে বলেন, এমনিতেই এই পোস্ট দেয়া হয়েছে, কাউকে উদ্দেশ্য করে নয়। তারপরও কেউ যদি এটাকে গায়ে টেনে নেয়, তাহলে সে দায়িত্ব তো আমার না। শাহাদাত হোসেন এমনটা যুক্তি দিলেও জেলার রাজনৈতিক মহল ও নেতাকর্মীরা এটাকে কাউন্টার অ্যাটাক হিসেবেই বিবেচনা করেছেন। জেলা বিএনপির দুই মেরুর এই দুই নেতার পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস জেলা বিএনপির গ্রুপিংয়ের রাজনীতি প্রকাশ্যে নিয়ে আসে।

জেলা বিএনপির তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মনে করেন, আগামীতে জেলা বিএনপির কাউন্সিল বা নতুন কোনো আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার প্রক্রিয়া যতই ঘনিয়ে আসবে, এই দ্বন্দ্ব আরো বাড়তে থাকবে।

এ বিষয় জানতে চাইলে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুল হক নান্নু আমার দেশকে বলেন, ঝালকাঠিতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। নেতাদের মধ্যে কিছুটা মতপার্থক্য থাকলেও তা স্যোশাল মিডিয়া বা বক্তব্য-বিবৃতিতে আসা উচিত নয়। আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সবসময়ই দলের মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্যের কথা বলেছেন। জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠিতে নেতাদের মধ্যে যেটুকু মতপার্থক্য হয়েছে, তা অচিরেই নিরসন করা হবে বলে জানান তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন