রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার, কর্মহীন ৮ হাজার শ্রমিক

বছরের ৬ মাসই আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকে ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরে

বছরের ৬ মাসই আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকে ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরে

ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরে বছরের ৬ মাসই আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকে। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার । অন্যদিকে কর্মহীন হয়ে ৮ হাজার শ্রমিক মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

জানা গেছে, জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরটি এখন অস্তিত্ব সংকটে। গত ঈদুল আজহার ছুটিতে সাত দিনের জন্য বন্ধ হওয়া এই বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় তিন মাসেও আর চালু হয়নি। ফলে একদিকে সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব; অন্যদিকে বন্দরের ওপর নির্ভরশীল প্রায় ৮ হাজার শ্রমিক-ব্যবসায়ী পড়েছেন চরম বিপাকে। দীর্ঘদিন ধরে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় খাঁ-খাঁ করছে পুরো বন্দর, অলস পড়ে আছে শত শত পাথর ভাঙার ক্রাশার মেশিন।

বিজ্ঞাপন

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পাথরের সঙ্গে আসা মাটি ও বালুর ওপর শুল্ক আরোপ, অতিরিক্ত চার্জ, ভারতীয় অংশের সড়কের বেহাল দশা এবং আমদানি-রপ্তানিকারকদের অভ্যন্তরীণ বিরোধের কারণে এ বন্দরে ব্যবসা করতে গিয়ে দিন দিন লোকসান দিতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে আমদানি বন্ধ রেখেছেন তারা। অন্যদিকে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, ব্যবসায়ীদের বারবার আমদানিতে ফিরতে বলা হলেও লোকসানের আশঙ্কায় তারা পাথর আনছেন না।

ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশন ও বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় পাঁচ মাস এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ছয় মাস বন্ধ ছিল বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও এখন পর্যন্ত কার্যক্রম বন্ধ। অর্থাৎ বছরের উল্লেখযোগ্য সময়ই কার্যত অচল থাকছে দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় এই স্থলবন্দর।

পাথর ব্যবসায়ী মো. মাহফুজুল হক বলেন, পাথরের সঙ্গে আসা মাটির শুল্ক ও অতিরিক্ত চার্জ বন্ধ না হলে আমদানি চালু করা কঠিন।

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বিকাশ দত্ত বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময়ই এই বন্দরের আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকে। বছরে তিন-চার মাস আয় করে শ্রমিকদের পক্ষে সারা বছর সংসার চালানো সম্ভব নয়।

এদিকে ধানুয়া কামালপুর স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন আকন্দ বলেন, ভারতীয় অংশে ভাঙা সড়ক মেরামতের কাজ চলছে। পাশাপাশি লোকসানের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বনিবনা না হওয়ায় আমদানি বন্ধ রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন