গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কে চিকিৎসাধীন ‘রাজু বাহাদুর’ নামের একটি হাতিসহ দুই হাতির মৃত্যু হয়েছে। প্রায় আড়াই মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ৭ আগস্ট সকালে রাজু বাহাদুর মারা যায়। এর আগের দিন ৬ আগস্ট ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃত্যু হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক রহমান।
তিনি জানান, গত ২৪ মে হাতিশালায় শিকলে বাঁধা অবস্থায় রাজু বাহাদুরকে অন্য একটি হাতি আক্রমণ করে। এতে সে মাটিতে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় তার একটি পা ভেঙে যাওয়ার পাশাপাশি অন্য পায়েও গুরুতর আঘাতের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়।
রাজু বাহাদুরের অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় গত ৪ জুন থাইল্যান্ড থেকে বিশেষজ্ঞ বন্যপ্রাণী চিকিৎসকদের আনা হয়। দেশের অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত একাধিক মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানেও তার চিকিৎসা চলছিল। তবে দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজু বাহাদুরকে গত ৭ আগস্ট সকালে হাতিশালায় মৃত অবস্থায় দেখতে পান কর্মীরা। এর এক দিন আগে ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকা আরেকটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃত্যু হয়।
মৃত হাতি দুটির নমুনা পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে পার্কের ভেতরেই হাতি দুটিকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
বন বিভাগ ও সাফারি পার্ক সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট নারায়ণগঞ্জ থেকে রাজু বাহাদুরকে উদ্ধার করে। অভিযোগ ছিল, হাতিটিকে রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন বাজারে মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের কাজে ব্যবহার করা হতো। উদ্ধারের সময় তার বয়স ছিল প্রায় ৯ বছর।
রাজু বাহাদুরকে উদ্ধারের পর গাজীপুর সাফারি পার্কে এনে রাখা হয়। সেখানে গত ২৪ মে অন্য একটি হাতির আক্রমণে গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই তার চিকিৎসা চলছিল।
দুই হাতির মৃত্যুর পর বর্তমানে গাজীপুর সাফারি পার্কে হাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮টিতে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

