মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের মেয়ে ফোবি গেটসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অনলাইন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঘিরে গুরুতর প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের বিষয়টি হলো ‘কুকি স্টাফিং’ নামে পরিচিত একটি অনলাইন বিজ্ঞাপন ও কমিশন জালিয়াতি।
অভিযোগ অনুযায়ী, ফোবি গেটস ও তার সহপ্রতিষ্ঠাতা সোফিয়া কিয়ান্নির স্টার্টআপ ‘ফিয়া’ অনলাইন কেনাকাটার ক্ষেত্রে এমনভাবে অ্যাফিলিয়েট ট্র্যাকিং কোড ব্যবহার করত, যাতে ব্যবহারকারী সরাসরি তাদের মাধ্যমে কোনো পণ্য না কিনলেও বিক্রির কমিশন ফিয়ার নামে চলে আসতে পারে। এই পদ্ধতিকেই ‘কুকি স্টাফিং’ বলা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ফিয়ার ব্রাউজার এক্সটেনশন ব্যবহারকারীর অজান্তে অনলাইন দোকানের সঙ্গে যুক্ত অ্যাফিলিয়েট লিংক চালু করত। এর ফলে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিক্রির ক্ষেত্রে প্রকৃত ভূমিকা রাখলেও কমিশনের কৃতিত্ব ফিয়া দাবি করতে পারত।
প্রথমদিকে ফিয়া এটিকে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বলে দাবি করেছিল। পরে প্রকাশিত তথ্য ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর অভিযোগটি আরও জোরালো হয়। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোবি গেটস ও সোফিয়া কিয়ান্নি কয়েক মাস ধরে বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন কি না, তা নিয়েও তদন্ত ও বিতর্ক চলছে।
ফিয়া জানিয়েছে, বিতর্কিত ফিচারটি গত ৭ জুলাই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, যেসব লেনদেনে ভুলভাবে কমিশন তাদের নামে যুক্ত হয়েছে, সেগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ড ও অংশীদারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা নিয়োগের কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে তার গুরুতর আইনি পরিণতি হতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ফোবি গেটসের বিরুদ্ধে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো ফৌজদারি অভিযোগ বা সাজা হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
২০২৫ সালে চালু হওয়া ফিয়া একটি অনলাইন শপিং সহকারী প্ল্যাটফর্ম। এটি বিভিন্ন ওয়েবসাইটের পণ্যের দাম তুলনা এবং ডিসকাউন্ট কোড খুঁজে দেওয়ার কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ফোবি গেটস বিল গেটসের মেয়ে হওয়ায় অভিযোগটি আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট ও ব্লুমবার্গ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


