ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ২৪ ঘণ্টা আগেই জানানোর আহ্বান ৪১ দেশের

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ২৪ ঘণ্টা আগেই  জানানোর আহ্বান ৪১ দেশের

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও মহাকাশযান উৎক্ষেপণের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে অন্য দেশগুলোকে জানাতে আন্তর্জাতিক আহ্বান জানিয়েছে ৪১টি দেশ। আকস্মিক উৎক্ষেপণকে কেন্দ্র করে ভুল বোঝাবুঝি, উত্তেজনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতেই যৌথ বিবৃতিটি দেওয়া হয়েছে।

উদ্যোগে অংশ নেওয়া দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আলবেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, কানাডা, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রীস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, জাপান, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, লুক্সেমবার্গ, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মন্টিনিগ্রো, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, উত্তর ম্যাসিডোনিয়া, নরওয়ে, পালাউ, ফিলিপাইন, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, দক্ষিণ কোরিয়া, রোমানিয়া, স্লোভাকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, তুরস্ক, ইউক্রেন এবং যুক্তরাজ্য।

বিজ্ঞাপন

দেশগুলো বলেছে, আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মহাকাশযান উৎক্ষেপণের আগে যথেষ্ট তথ্য দেওয়া জরুরি। নোটিসে উৎক্ষেপণের সময়, স্থান, ক্ষেপণাস্ত্রের ধরন ও সম্ভাব্য গতিপথের মতো তথ্য থাকার কথাও বলা হয়েছে। কারণ কোনো ধরনের আগাম সতর্কতা ছাড়া দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হলে সেটিকে প্রকৃত হামলা হিসেবে ভুল বোঝার আশঙ্কা থাকে। এতে সামরিক প্রতিক্রিয়া, আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে কেন্দ্র করে নতুন করে এ উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।

এমতাবস্থায় যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে নোটিস দিলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবে। এতে ভুল হিসাব বা ভুল প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও কমবে।

৪১ দেশের এই আহ্বানে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাব্যবস্থায় আরও স্বচ্ছতা আনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগে সব বড় ক্ষেপণাস্ত্র শক্তিধর দেশ অংশ না নিলে এর কার্যকারিতা কতটা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সূত্র: ডেইলি টেলিগ্রাফ, রয়টার্স ও মিডল ইস্ট মনিটর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন