ফিলিস্তিনের নিহত সাংবাদিকদের স্মৃতি সংরক্ষণে নতুন এক মৌখিক ইতিহাস প্রকল্প শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগে নিহত সাংবাদিকদের সহকর্মী, বন্ধু ও স্বজনদের পাঠানো ভয়েস নোটের মাধ্যমে তুলে ধরা হচ্ছে তাদের জীবন, কাজ, স্বপ্ন ও সংগ্রামের গল্প।
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও হামলার মধ্যে বহু সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধ, ধ্বংসযজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের খবর বিশ্বের সামনে তুলে ধরছিলেন। এখন তাদের মৃত্যুর পর শুধু নাম ও সংখ্যার তালিকায় সীমাবদ্ধ না রেখে ব্যক্তি হিসেবে তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে সংগ্রহ করা ভয়েস নোটে নিহত সাংবাদিকদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং তাদের সাংবাদিকতার প্রতি অঙ্গীকারের কথা উঠে আসছে। প্রকল্পটির আয়োজকদের আশা, এসব কণ্ঠস্মৃতি ভবিষ্যতে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ইতিহাস ও গাজা যুদ্ধের মানবিক বাস্তবতা বোঝার গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের জন্য গাজা বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থানগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সংগঠনও এ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
নতুন এই উদ্যোগের বিশেষত্ব হলো, নিহত সাংবাদিকদের স্মরণ করা হচ্ছে তাদের কাছের মানুষের কণ্ঠে। লিখিত জীবনী বা আনুষ্ঠানিক স্মৃতিচারণের পরিবর্তে ভয়েস নোটে উঠে আসছে ব্যক্তিগত স্মৃতি, হাসি-কান্না, কাজের অভিজ্ঞতা এবং যুদ্ধের মধ্যে সাংবাদিকতার কঠিন বাস্তবতা।
গাজার সাংবাদিকদের অনেকেই একই সঙ্গে ছিলেন সংবাদকর্মী ও যুদ্ধের প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী। সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের নিজেদের পরিবার, ঘরবাড়ি ও স্বজনদের নিরাপত্তার সংকটও মোকাবিলা করতে হয়েছে। তবু অনেকে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ক্যামেরা, মাইক্রোফোন ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গাজার খবর বিশ্বের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
সাংবাদিকদের জীবন ও কাজকে শুধু মৃত্যুর সংখ্যা হিসেবে না দেখে তাদের ব্যক্তিগত গল্প সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে এনেছে এই মৌখিক ইতিহাস প্রকল্প। এর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম জানতে পারবে, যুদ্ধের মধ্যে খবর সংগ্রহ করা এসব মানুষ কারা ছিলেন এবং কী পরিস্থিতিতে তারা কাজ করেছেন।
ফিলিস্তিনের সাংবাদিকতা ও স্মৃতির ইতিহাস সংরক্ষণে মৌখিক ইতিহাসের ব্যবহার নতুন নয়। ব্যক্তিগত সাক্ষ্য ও রেকর্ড করা স্মৃতিচারণ দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতা সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
নতুন প্রকল্পটি সেই ধারাকেই সাংবাদিকদের স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত করেছে। নিহত সাংবাদিকদের কণ্ঠ হয়তো থেমে গেছে, কিন্তু তাদের সহকর্মী, বন্ধু ও স্বজনদের কণ্ঠে তাদের গল্প আবার ফিরে আসছে। ভয়েস নোটের মাধ্যমে সংরক্ষিত এই স্মৃতিগুলো শুধু কয়েকজন সাংবাদিকের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বরং যুদ্ধের মধ্যে সত্য তুলে ধরতে গিয়ে জীবন দেওয়া ফিলিস্তিনি সংবাদকর্মীদের একটি জীবন্ত দলিল হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই ও কলম্বিয়া জার্নাল রিভিউ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


