প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে বলেছেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে এই দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতকে হাতে গোনা কিছু ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল, যা এই দেশের মানুষের পক্ষে ছিল না। কিছু মানুষের সুবিধার জন্য অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা এই ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পুনর্গঠন করতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরই মধ্যে এই কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কেমন হবেÑসেই প্রস্তাবনা আমরা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করব।’
এনার্জি সেক্টরকে একটি দেশের জীবন-কৌটা বললে তা বেশি বলা হবে না। কারণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি শুধু ব্যবসার পণ্য নয়Ñএগুলো একটি রাষ্ট্রের জন্য স্ট্র্যাটেজিক আইটেমও বটে। বিদ্যুৎ বন্ধ হলে কলকারখানা বন্ধ হয়, অর্থনীতি থেমে যায়, হাসপাতাল বিপর্যস্ত হয়, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়, নাগরিক জীবন স্থবির হয়ে পড়ে। অর্থাৎ রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জনজীবনের ‘সুইচ’ অনেকটাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার হাতে।
প্রধানমন্ত্রী কারো নাম না নিলেও দেশের একটি ছোট্ট শিশুও জানে ‘হাতে গোনা এই কিছু ব্যক্তি’ কারা? সবচেয়ে ভয়ংকর সংবাদটি হলোÑএই অলিগার্করা জুলাই বিপ্লবকে শক্তিপ্রয়োগে থামানোর জন্য মাফিয়া রানির পাশে সব শক্তি নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দাঁড়িয়েছিল! মাফিয়া রানিকে নিয়ে অলিগার্কদের সেই উচ্ছ্বাসগুলো ভুলে গেলে তারেক রহমান ও তার সরকার মারাত্মক ভুল করবেন। তারা তাদের সত্তার ভেতর থেকেই হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে উচ্চারণ করেছিলেনÑপ্রথমত আমি তোমাকে চাই/দ্বিতীয়ত আমি তোমাকে চাই/তৃতীয়ত আমি তোমাকে চাই/শেষ পর্যন্ত তোমাকে চাই।
সামিট, বসুন্ধরা কিংবা অন্য কোনো প্রভাবশালী ব্যবসায়িক গোষ্ঠী—কারো বিরুদ্ধেই ব্যক্তিগত অভিযোগ তোলা এই কলামের উদ্দেশ্য নয়। রাষ্ট্রের এত গুরুত্বপূর্ণ একটি কৌশলগত খাতে কেন ক্রমাগত কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর প্রভাব এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে? ব্যবসা করবে ব্যবসায়ী। মুনাফা করবে ব্যবসায়ী। কিন্তু রাষ্ট্রের ‘জীবন-কৌটা রাষ্ট্রের কাছেই থাকতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি বিশেষ অনুরোধ, অত্যন্ত নির্মোহভাবে এবং সাহসিকতার সঙ্গে এই সেক্টরের মূল রোগগুলো চিহ্নিত করে সঠিক দাওয়াই প্রয়োগ করুন। গুটিকয় কোম্পানির ওপর নির্ভরতা থেকে যত দ্রুত সম্ভব বের হয়ে আসুন! শেখ হাসিনা সৃষ্ট অলিগার্ক রাক্ষসদের কবজা থেকে যত দ্রুত সম্ভব দেশের এনার্জি সেক্টরকে বের করে নিয়ে আসুন! এই কলামের প্রতিটি বক্তব্যের পেছনে সাপোর্টিং ডকুমেন্টস মজুত আছে! মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! একটু ধৈর্য ধরে পড়লেই বুঝতে পারবেনÑকোন বিষয়টি আপনার গোচরে নেওয়া হয়নি এবং মতলববাজ ব্যুরোক্র্যাটরা কেমন করে আমাদের রাজনৈতিক নেতাদের নাকে রশি লাগিয়ে ঘোরায়।
প্রয়াত অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের একটি বক্তব্য আজ এই প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে আসে। সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলফাজ আনাম তার সাম্প্রতিক এক পোস্টে একটি ঘটনার উল্লেখ করেছেন। এক সাংবাদিক তাকে প্রশ্ন করেছিলেন—ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করলে এর পরিণতি কী হতে পারে?
সাইফুর রহমান তার স্বভাবসুলভ সিলেটি উচ্চারণে জবাব দিয়েছিলেনÑতোমার বাসার বাতির অন-অফের সুইচ যদি পাশের বাসায় রাখো, তাহলে কেমন হবে? আপনার ঘরের বাতি আপনার। কিন্তু বাতির সুইচ যদি অন্যের ঘরে থাকে, তাহলে বাতি আপনার হলেও নিয়ন্ত্রণ আপনার থাকে না। আপনি আলো চাইবেন, কিন্তু আলো জ্বলবে কি না—তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অন্য কেউ নিতে পারে।
আমরা জানি, ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে দেশের ভেতরে সামিট ও বসুন্ধরা এবং দেশের বাইরে ইন্ডিয়ার আদানি গ্রুপকে দেশের এনার্জি সেক্টরের অধিকাংশ কাজ দেওয়া হয়েছিল! এজন্য কোনো নিয়মকানুনের বালাই ছিল না। কয়েকটি ব্যবসায়িক গ্রুপকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট করার অবারিত সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকেই শেখ পরিবার ৫ বিলিয়ন ডলার লুট করেছিল।
তজ্জন্য লুটের রানি একটি ভয়ংকর আইন করেছিল, যাতে টেন্ডার ছাড়াই যে কাউকে কাজ দেওয়া যায়। আর এই ‘যে কাউকে’র তালিকায় সবার ওপরে ছিল তখনকার রাজপরিবারের সঙ্গে বিশেষ সম্পর্কে সম্পর্কিত সামিট নামের কোম্পানিটি! দেশ-বিদেশের পত্রপত্রিকায় এই বিশেষ সম্পর্ক নিয়ে অনেক খবর বেরিয়েছে।
দেশের জন্য জ্বালানি মানুষের শরীরের রক্তের মতো অপরিহার্য। যেমন : একটি মানুষের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুস্থ থাকলেও রক্তের সঞ্চালন ব্যাহত হলে শরীরের এই অঙ্গগুলো অকেজো হয়ে যায়, তেমনি একটি দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল না থাকলে ধীরে ধীরে দেশের অর্থনীতির অন্যান্য খাতও মুখ থুবড়ে পড়ে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, জ্বালানি বিভাগ, আরপিজিসিএল ও বিপিসির একটি চক্র তাদের দায়িত্ব পালনে নিদারুণ গাফিলতি দেখাচ্ছে! সব আলামত দেখে মনে হচ্ছে এরা সেই অলিগার্কদের কৌশলগত টুলস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন!
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর জাতির কালেকটিভ মেমোরিতে এই অলিগার্কদের অপকর্ম এখনো জ্বলজ্বল করে জ্বলছে! জাতির জীবন কৌটার পাশে এদের আনাগোনা শুধু জনক্ষোভই বাড়াচ্ছে নাÑএকধরনের শঙ্কাও গ্রাস করছে!
সেই দানবীয় সরকারের অন্যতম কারিগর সামিট গ্রুপকে স্বৈরাচারী সরকার টেন্ডারবিহীনভাবে তৃতীয় এফএসআরইউ প্ৰকল্প হস্তান্তর করে যায়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার ১৪ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে টেন্ডারবিহীনভাবে অনুমোদিত সামিটের তৃতীয় এফএসআরইউ প্রকল্পের কার্যাদেশ চূড়ান্তভাবে বাতিল করে।
যে কালো আইনের ওপর ভিত্তি করে এই অনিয়মটি করা হয়েছিল বর্তমান পার্লামেন্ট সেই আইনটিও বাতিল করে দেয়! তারপরও আমাদের করাপ্টেড রাষ্ট্রীয় মেশিনারিজ কীভাবে সেই কোম্পানিকেই এই অবস্থাতেও সুযোগ করে দিচ্ছে, তা দেখলে আপনার পিলে চমকে যাবে!
তিন নম্বর এফএসআরইউ ইউনিটের অনুমোদনটি বাতিলের বিরুদ্ধে সামিট এলএনজি টার্মিনাল টু কো. লি. রিট করে। কোম্পানিটি সেই রিট পিটিশনের বিদ্যমান বিরোধ সৌহার্দ্যপূর্ণ নিষ্পত্তির (amicable settlement) জন্য নির্দেশনা চেয়ে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করে। সামিটের আইনজীবীর জন্য চার সপ্তাহের জন্য শুনানি মুলতবি করার আবেদন জানান।
বর্ণিত অ্যাপ্লিকেশনের ওপর গত ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখ হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি হয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে ওই শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন বিজ্ঞ অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল এবং বিজ্ঞ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল!
সামিটের বিজ্ঞ আইনজীবীর বক্তব্য বিবেচনা করে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে। আদালত আরো অভিমত ব্যক্ত করে, পিটিশনার একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য অন্যপক্ষের সঙ্গে এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার ক্ষেত্রে স্বাধীন! অর্থাৎ বিয়ের কাবিন ছুটে গেলেও (কালো আইন বাতিল হলেও) পাত্র-পাত্রীকে এক বিছানায় শোয়ার অনুমতি দিয়ে আবার সৌহার্দ্যপূর্ণ্য নিষ্পত্তির (Amicable Settlement) সুযোগ অবারিত করেছে। বিজ্ঞ আদালত এটাকে আইনের পরিভাষায় পিটিশনারের Liberty to negotiate-এ রেখেছে।
সঠিক সময়ে শুনানি হলে এই রিট পিটিশন বাতিল হয়ে যেত। কাজেই আদালতের বাইরে এখন সৌহার্দ্যপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য এই লুটেরা কোম্পানিকে এই সুযোগটি দেওয়া হলো! রাষ্ট্রপক্ষের দুই বিজ্ঞ আইনজীবী ওখানে জাতির পক্ষ থেকে লেমন জুস চুষার জন্য গিয়েছিলেন। জানি না এ ধরনের তথাকথিত বিজ্ঞ লোকগুলো কেমন করে ১৪০০ শহীদ এবং ৩০ হাজার আহতদের রক্ত ও কষ্টের ফসল ৫ আগস্টের পর এই পদে নিয়োগ পায়?
সামিট-পূর্ববর্তী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে টেন্ডারবিহীন আইনগত কাঠামোর ফায়দা নিয়ে হাজার হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, এফএসআরইউ, ফাইবার অপটিকসহ বহু বৃহৎ প্রকল্পে কার্যাদেশ লাভ করে এবং বিপুল পরিমাণ আর্থিক সুবিধা লাভ করে এবং এখনো সেই মধুর নিঃসরণ বন্ধ হয়নি!
এ ধরনের টেন্ডারবিহীন কার্যাদেশ প্রতিযোগিতামূলক ক্রয়ব্যবস্থার সঙ্গে সাংঘর্ষিক! এর ফলে রাষ্ট্রের আর্থিক স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রশ্নের মুখে পড়ে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে প্রায় ১৭ মাস ধরে সরকারের জ্বালানি বিভাগ, আরপিজিসিএল, বিপিসি, পেট্রোবাংলা কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থানে ছিল। ধারণা করা যায়, চক্রটি সামিটের চলমান মামলার ফলের অপেক্ষায় ছিল, যাতে পরে প্রকল্পটি আবার ওই প্রতিষ্ঠানকেই দেওয়া যায় ।
একইভাবে, আরপিজিসিএলের প্রকিউরমেন্ট শাখা, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের ডেভেলপমেন্ট উইংসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত কিছু ফ্যাসিস্ট সরকারের কর্মকর্তা সাত-আট বছর ধরে একই দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। তাদের সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমে অতীত স্বৈরাচার সরকার প্রধানের ছেলে এবং সামিটের প্রভাব স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে।
ওই চক্রটি সরকারের কর্তাব্যক্তিদের এমন এক বিভ্রান্তিকর নীতিমালা ও আইনি জটিলতার চক্রে আটকে ফেলেছেন। যার ফলে কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে কিংবা বিলম্বিত হচ্ছে। গত ১৭ মাসে বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান তাদের প্রস্তাব যথাযথভাবে জমা দিয়েছে । কিন্তু সেই প্রস্তাবগুলো, যা মূল্যায়ন বা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথাযথভাবে উপস্থাপন করা হয়নি ।
এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণাÑযদি সময়মতো বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করা হতো, তাহলে এই ১৭ মাসের মধ্যেই আরেকটি এফএসআরইউ স্থাপন এবং চালু করা সম্ভব হতো। পরিবর্তে এই চক্রটি সংকটের ঘনঘটা সৃষ্টি করেছে, এখন গ্যাসসংকট তীব্র হলে বলা হবে যে স্বল্পসময়ে সামিট ছাড়া আর কোনো প্রতিষ্ঠান গ্যাস সরবরাহ করতে সক্ষম নয় এবং শেষ পর্যন্ত সরকারকে ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই আলোচনায় যেতে বাধ্য হতে হবে। অর্থাৎ এই চক্রটি সরকারকে ডকট্রিন অব নেসেসিটির অধীনে সামিটের সঙ্গেই বিয়েবহির্ভূত জিনা করতে বাধ্য করবে! আর আদালত তখন দুটি চোখ বন্ধ করে রাখবে!
অন্তর্বর্তী সরকারের ১২ মাস এবং বর্তমান সরকারের ৫ মাস (মোট ১৭ মাস) সময় যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এফএসআরইউ স্থাপন ও জ্বালানি সরবরাহে যে আগ্রহ প্রকাশ করেছে, তাদের প্রস্তাবগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে কি নাÑসে বিষয়েও তদন্ত হওয়া উচিত।
বিশ্বের একাধিক স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কুতুবদিয়ায় চতুর্থ এফএসআরইউ স্থাপনে অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব থাকা সত্ত্বেও সেগুলো যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। সৌদি আরামকো ৩১ মে ২০২৫ তারিখে দৈনিক মাত্র ১,৯৬,০০০ মার্কিন ডলার ভাড়ায় (কাঠামো নির্মাণ ছাড়া) প্রস্তাব দেয়, যেখানে ওমানের OQT ও আজারবাইজানের SOCAR-এর প্রস্তাব ছিল যথাক্রমে ২,৯৬,৫০০ ও ২,৮৮,০০০ ডলার। একইভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের IHC-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান IRH ২৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে BOOT/BOO ভিত্তিতে ১৮-২০ মাসের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং এরই মধ্যে চালু থাকা একটি FSRU বরাদ্দের প্রস্তাব দেয়; পরে ৮ জুন কূটনৈতিক চ্যানেলেও G2G কাঠামোর আওতায় প্রস্তাবটি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া আরো প্রায় ১০টি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করলেও তাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ করা হয়নি।
বরং এসব সম্ভাবনাময় ও সরকারের জন্য অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব বিবেচনায় না নিয়ে, সংশ্লিষ্ট একটি অসাধু চক্র সংকটময় সময়ে সামিটের সঙ্গে সমঝোতার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং বিষয়টি আদালতে উপস্থাপনের পদক্ষেপ নেয়।
পুরো এই চক্রটির সঙ্গে কিছু অসাধু এবং সুযোগসন্ধানী সরকারি কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ এবং কয়েকজন আইনজীবী জড়িয়ে রয়েছেন! তাদের টার্গেট শুধু তিন নম্বরটিই সামিটকে ফিরিয়ে দেওয়া নয়; বরং চার নম্বরটিও একই গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত কোনো ইপিসি কোম্পানিকে দেওয়া, যার পেছনেও দেখবেন হয়তো সেই হাসিনাপুত্র জয়!
পুরো কলামটিতে যা বোঝাতে চেয়েছি, এর সার সংক্ষেপ হলোÑগত ১৭ মাস টয়লেট বানানোর মাল-ম্যাটারিয়াল-কারিগর জোগানদাতা সব মজুত ছিল; কিন্তু সময় ও সুযোগ থাকতে তা বানানো হয়নি। এখন যখন টয়লেটে যাওয়া অত্যন্ত জরুরত হয়ে পড়েছে, তখন দেখে সামিটের টয়লেট (FSRU) ছাড়া আর কারোটি নেই!
এখন বাইরে দাঁড়িয়ে তর্ক করবেন, মেজাজ দেখাবেনÑনাকি ভেতরে ঢুকে কাজ সারবেন? চয়েজ ইজ ইওরস, ব্রাদার।
হাতে সময় মাত্র ত্রিশ সেকেন্ড!
এর মধ্যেই করতে হবে সামিটের সঙ্গে অ্যামিক্যাবল সেটেলমেন্ট বা সৌহার্দ্যপূর্ণ নিষ্পত্তি!
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


