বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকারের এখন যা করণীয়

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকারের এখন যা করণীয়

ব্যাংকিং সংকটের বাইরে, বিএনপির প্রধানতম চ্যালেঞ্জ প্রাইমারি এনার্জি (জ্বালানি) ও বিদ্যুৎ সংকট। এখানে বিএনপিকে আপসকামী হলে চলবে না। একদিকে এনার্জি ও ইলেকট্রিসিটি সিকিউরিটির চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে পলিটিক্যাল স্যাবোটাজের ভয়।

বিজ্ঞাপন

আপনি আওয়ামী লীগের ব্যবসায়ীদের হাতে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুতের সব কৌশলগত অবকাঠামো রেখে দিলে, কিংবা নতুন করে তাদেরই অ্যাক্সেস দিলে, সংকটে যখন আওয়ামী লীগ তার এলাইদের দিয়ে যে বাড়িটা দেবে, সেই সংকটে আপনার এক্সিট পয়েন্ট কী হবে? এই যে চলমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নাগরিকের আস্থাটা পড়সে, এই রেটে জনক্ষোভ উৎপাদন ক্ষমতার চতুর্থ ও পঞ্চম বছরে অ্যাফোর্ড করতে পারবেন?

বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে, এলপিজিতে বেসরকারীকরণের ফল বাংলাদেশের সরকার ও নাগরিকদের কেউ ভোগ করেনি। বরং বিদেশি দেনা ও ঋণের জালে পড়েছে। ভর্তুকি পর্বতসম, লোডশেডিং এবং মূল্যবৃদ্ধি সব একসঙ্গে ঘটেছে।

তবু সরকারি অদক্ষতা থেকে যদি বিদ্যুৎ বিতরণ কিংবা বিপিসির জ্বালানি আমদানির মনোপলি সরিয়ে নিতে চান, আগে পোস্ট ফ্যাক্টো সিনারিও স্ট্যাডি করেন, সেমতে প্রস্তুতি নেন। যে বেসরকারি মনোপলির সংকট মোকাবিলায়, লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে আপনার জন-আস্থার কী হবে? বিকল্প কৌশল কী? ইফেসিয়েন্সি আর সাফল্যের স্কোরকার্ড কী হবে? বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মূল্য পরিস্থিতিতে উৎপাদন পরিস্থিতি ও কস্ট অব প্রোডাকশন কী হবে? এলপিজি বেসরকারি খাতে গিয়ে ফল কী হয়েছে? পরেরবার ভোটারদের সামনে কী নিয়ে দাঁড়াবেনÑএসব এখন কেস বাই কেস অ্যানালাইসিস করে ঠিক করেন?

এরপর, প্রতিষ্ঠিত আওয়ামী অলিগার্কে না ঝুঁকে, প্রতিযোগিতামূলক উন্মুক্ত দরপত্র ও স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক অংশীদারত্ব মডেলে যান, স্বৈরাচারের মাফিয়াতে মধু না খোঁজে অনেককে এক্সেস দেন, যাতে মনোপলি করে মেগা সংকট তৈরি করতে না পারে।

গ্যাস নিয়ে বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা নয়। কোন কোয়ার্টারে কী করবেন, কোন বছর কী করবেন, টার্গেটভিত্তিক, স্টেপ বাই স্টেপ অ্যাকশন প্ল্যান সাজান আর একটা মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ বানান।

১. এলপি গ্যাসের মূল্য মানুষের সাধ্যের মধ্যে ফিরিয়ে এনে, বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহের বর্তমান চুরিবান্ধব ব্যবস্থা বন্ধ করে দেন। মাইগ্রেশন টার্গেট ঠিক করেন। রান্নাবান্নার এলপি গ্যাসের পার্টনারদের সঙ্গে আলাপ করেন, সেখানে বসুন্ধরাসহ যাদের মনোপলি আছে, সেটি ভাঙতে নিউ প্লেয়ার নিয়ে এসে বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি করেন। দাম সহনীয় রাখার কৌশল বের করেন।

২. শিল্পের গ্যাস চুরি থামাতে উদ্যোগ নেন। শিল্প-কারখানার মধ্যে যেগুলো এনার্জি ইফিশিয়েন্ট, ডলার ড্রেন থামাবে, কর্মবান্ধব সেখানে প্রায়োরিটি বেসিসে গ্যাস সরবরাহ করেন। ডেটা ড্রিভেন, স্কোরভিত্তিক প্রায়োরিটি সেট করেন। কার পরে কে পাবে!

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে সামগ্রিক সিস্টেম লস এখন প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি, গ্যাস খাতে আনুমানিক ৬ দশমিক ৩৮ শতাংশ। সিস্টেম লস আসলে চুরির সামানুপাতিক। গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিতরণে চুরি ও সংগ্রহ-ঘাটতি কমানোর নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত হাতিয়ার (স্মার্ট মিটার) দরকার, যেখানে মিটার রিডিং ম্যানুয়াল হবে না, বরং ফোরজি ও ফাইভজি সিম ডেটা কিংবা এলটিই আইওটিকেন্দ্রিক হবে। মিটার রিডিং দুর্বৃত্তপনার সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের নিম্ন থেকে উচ্চ বহুস্তর জড়িত।

৩. গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ ও সিস্টেম লস থামাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ এবং কেপিআই সেট করেন। দুর্নীতিবাজ কর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেন। ইন্ডাস্ট্রিয়াল পাইপলাইন থেকে হোম ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক বাদ দিয়ে রি-ডিজাইন করুন।

৪. এনার্জি কনভার্শনের যাবতীয় পলিসি ও যন্ত্রপাতি আমদানি ইজি করে দেন। ব্যবসায়ীদের জ্বালানি সমস্যা সমাধানে আন্তরিক হন।

৫. ১০টা শীর্ষ শিল্প গ্রুপকে নিজেদের কনজাম্পশন+শিল্পে সরবরাহের রেজিস্টার্ড পরিমাণের বিপরীতে অপরিশোধিত তেল আমদানির পারমিশন দিন। পাচার যাতে না করতে পারে তার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকে এলসি কন্ট্রোল করেন। পরিশোধিত তেল আমদানি করতে পারবে না, এতে ডলার খরচ বাড়ে, তাদের রিফাইনারি করতে হবে। রিফাইন্ড ওয়েল আমদানির বিপরীতে সরকারি ও বেসরকারি আমদানির শর্তে ক্রুড ওয়েল রিফাইনারি স্থাপন বাধ্যতামূলক করে ডলার সেভ করেন। ইস্টার্ন রিফাইনার দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ বিদ্যুৎ গতিতে শেষ করেন।

বিপিসির মনোপলি ভাঙতে হবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। বিপিসির চুরি, বর্ধিত মূল্যে ক্রয় এবং সিস্টেম লস আমাদের ভোগাচ্ছে। বেসরকারি খাতে যাবেন, তবে তার কস্ট ক্যালকুলেট করে, চেক অ্যান্ড ব্যালান্স করে। এমনভাবে, যাতে কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ সরকারের হাতে থাকে, কিন্তু বেসরকারি খাতও বিকাশ লাভ করে। একটা প্রতিযোগিতামূলক উইন-উইন সিচুয়েশন দরকার, বিদ্যমান মনোপলির বিপক্ষে নতুন মনোপলি নয়।

সরকারি অদক্ষতার বিপরীতে বেসরকারীকরণ ভালো, কিন্তু সেজন্য সরকারকে পূর্ণাঙ্গ রেগুলেটর ও মাননিয়ন্ত্রক হতে হবে। মানের বালাই নেই, বোধগম্য কোনো কাজ নেই; অথচ দেশের কাগুজে রেগুলেটর হিসেবে কিছু বিল্ডিং দাঁড়িয়ে গেছে, যা মূলত ঘুস ও তদবিরের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে অপারেটর, মাননিয়ন্ত্রক, মূল্যনিয়ন্ত্রক ও রেগুলেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের জ্ঞান, দক্ষতা ও সংস্কৃতি তৈরির দৃশ্যমান উদ্যোগ নিন।

৬. আগামী ২-৪, ৫-৭ বছরের গ্যাস ডিমান্ডে নির্ণয় করুন, নতুন ডিমান্ডের ভিত্তিতে তৃতীয়, চতুর্থ ও দরকারে পঞ্চম এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিন।

মাত্র দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) রয়েছে, দুটিই মহেশখালীতে—যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জি ( Excelerate Energy ) ২০১৮ সালে এবং সামিট ২০১৯ সালে স্থাপন করে। নির্ধারিত সময়ে পারফরম্যান্স বন্ড জমা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ২০২৫ সালে সামিটের সঙ্গে তৃতীয় ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের চুক্তি বাতিল হয়েছে। দুটি টার্মিনালের সম্মিলিত গ্যাসিফিকেশন ক্ষমতা প্রায় ১,১০০ এমএমসিএফডি, যা মোট প্রয়োজনের মাত্র এক-চতুর্থাংশ। চীনের সিএনইসিসি ( CNECC) -এর সঙ্গে জি-টু-জি চুক্তির বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করুন এবং সময়সীমা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করুন।

ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) স্থাপনে আগ্রহ দেখিয়েছিল ওমানের ওকিউ ট্রেডিং ( OQ Trading ) সৌদি আরামকো, আজারবাইজানের সোকার ( SOCAR ) যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট , রাশিয়ার নোভাটেক ( Novatek) , চীনের সিআইএমনি (CIMC ) এবং একটি দক্ষিণ কোরীয় প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করুন। মাতারবাড়ীতে একটি স্থলভিত্তিক (non-FSRU) এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন। পছন্দের পক্ষ খুঁজতে অহেতুক দরকষাকষি ও সময়ক্ষেপণ করবেন না।

৭. বাপেক্স অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে ব্যর্থ। তাদের বিনিয়োগ দেন, কিন্তু বাপেক্স উৎপাদন খুব বেশি বাড়াতে পারবে না। লেটেস্ট প্রযুক্তি নেই, গবেষণা নেই। বাপেক্সকেও নতুন চ্যালেঞ্জ দিন। অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানে সক্ষম বিদেশি পার্টনার আনুন।

ক. স্থলভাগের রিজার্ভার ম্যানেজমেন্ট এ (নতুন প্রযুক্তিসহ)

খ. নতুন এক্সপ্লোরেশন কূপ খননে

গ. ডেভেলপমেন্ট কূপ খননে

বিদ্যমান ব্যবস্থায় দেশীয় উৎস থেকে গ্যস খুব বেশি বাড়ানো যাবে না। একদিকে অদক্ষতা, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত পশ্চাৎপদতা।

৮. মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির জন্য চীন ও মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করুন। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করুন। কাজটি সহজ হবে না। কারণ, মিয়ানমারের শুয়ে গ্যাসক্ষেত্রের গ্যাস মূলত পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি চীনে যায়। ফলে চীন তার নিজস্ব সরবরাহ কমাতে চাইবে না। চীনের প্রভাব কাজে লাগিয়ে আরাকান আর্মি ও মিয়ানমারের সঙ্গে সমঝোতা সহজ করতে হবে।

৯. সাগরে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য পিএসসি শিথিল ও আরো আকর্ষণীয় করুন। সাগরে এক্সপ্লোরেশনে দক্ষ কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের ওপর বিরক্ত হয়ে ফিরে গেছে। প্রাগম্যাটিক হোন। অনভিজ্ঞ কমিটির অর্বাচীনদের কথায় কান না দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করুন। বাংলাদেশের সামুদ্রিক সীমানার সবচেয়ে কাছাকাছি মিয়ানমারের ব্লক A-1 ও A-3—রাখাইন বেসিনে, কিয়াউকপিউ থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রে—শুয়ে (Shwe), শুয়ে ফিউ (Shwe Phyu) ও মিয়া (Mya) গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস উত্তোলন চলছে। কোরিয়ার POSCO এবং ভারতের ONGC এসব গ্যাসক্ষেত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

পস্কো বাংলাদেশ থেকে চলে গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সিদ্ধান্তহীনতায়। পস্কোকে ফেরাতে কোরিয়ান সরকারের সঙ্গে বসুন। দরকারে ভারতের ওএনজিসিকেও এক্সেস দিন। এখানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ট্রেড নেগোশিয়েটর লাগবে।

১০. সোলারের শুল্কব্যবস্থা ঠিক করুনÑহোম, মিনি, মিডি ও লার্জ সব পর্যায়ে। প্যানেল, কনভার্টার, অ্যাপ্লায়েন্স ও ব্যাটারির শুল্ক শূন্যে আনুন। বড়দের তোষণ না করে ছোট-বড় সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করুন। বড় ব্যবসায়ীদের কথায় হাউসহোল্ড সোলারের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক রাখবেন না। বিদ্যুৎ সংরক্ষণ ও বিক্রিকে উৎসাহিত করে সোলারকে কনজিউমার-ড্রিভেন করে তুলুন। সরকারি প্রকল্পের সাফল্য সীমিত; তাই এ ক্ষেত্রে মানসম্মত বেসরকারীকরণ প্রয়োজন।

বিদ্যুৎ বিতরণকারীদের নতুন সংযোগের ৫০ শতাংশ শতভাগ সোলারকেন্দ্রিক করুন এবং এ ক্ষেত্রে কস্ট ইনসেনটিভ দিন। শুল্ক শূন্যে এনে ৭৫-১০০ ইউনিটের বেশি নন-সোলার বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পারেন। অর্থাৎ, মার্কেট-ড্রিভেন সোলারের দিকে যেতে একটি কার্যকর ইকোসিস্টেম তৈরি করতে হবে।

একটি নির্দিষ্ট আয়তনের বেশি শহুরে, একাডেমিক, অফিশিয়াল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ভবনের ছাদে সোলার না থাকাকে পেনাল্টির আওতায় আনুন। একই সঙ্গে ফাইন্যান্সিং মডেল, স্মার্ট মিটারিং, নেট মিটারিং ও গ্রিডে ফিড-ইন মিটারিং বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি ইনসেন্টিভ ও পেনাল্টি কাঠামোর মাধ্যমে সোলারের ‘ছাদ-ইকোনমি’ গড়ে তুলতে হবে।

কাজটি এখনই করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এরই মধ্যে অন্তত ১০ বছর পিছিয়ে আছে। পাশাপাশি সোলারের সম্প্রসারণের সঙ্গে গ্রিড ট্যারিফ ডিজাইন ও রাজস্ব ভাগাভাগির কাঠামো—দুটোরই সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে। প্রতিটি কাজে প্রকৃত বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা প্রয়োজন।

ক্যাপাসিটি চার্জ ও আইপিপি বকেয়া সংকট সমাধান না করলে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের পরামর্শ অপূর্ণ থেকে যায়। কারণ, এটিই সম্ভবত খাতটির প্রকৃত রক্তক্ষরণের জায়গা। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর প্রকৃত বিনিয়োগ এবং তার বিপরীতে মোট পেমেন্ট অডিট করে, সারপ্লাস পেমেন্ট পাওয়া কেন্দ্রগুলোর অনুকূলে পেমেন্ট বন্ধ করে দেওয়া দরকার। এক ইউনিটও উৎপাদন না করে অলস বসে থেকে বছরে ৪৪ থেকে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ পাচ্ছে, অন্যদিকে পিডিবির কাছে আইপিপিদের বকেয়া জমেছে ২৭ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকা; কিছু কোম্পানির বিল ছয়-নয় মাস ধরে অপরিশোধিত। আওয়ামী আমলের চুক্তিগুলো রক্ষাকারী দায়মুক্তি আইনও এখনো বহাল, যা বাতিলের সুপারিশ খোদ আইএমইডি থেকেই এসেছে।

এই জায়গায় হাত না দিলে বাকি সংস্কারগুলোÑএলপিজিতে প্রতিযোগিতা হোক বা সোলারের শুল্ক—অনেকটা লক্ষণের চিকিৎসা হয়ে থাকবে, রোগের নয়। এ ক্ষেত্রে ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শেখার আছে। ২০১৫ সালে ডিসকমগুলোর ঋণ যখন সাড়ে ৪ লাখ কোটি রুপি ছুঁয়েছিল, তখন উদয় প্রকল্পের আওতায় রাজ্য সরকারগুলো ৭৫ শতাংশ ঋণ নিজেদের নামে বন্ড আকারে নিয়ে নেয়। বিনিময়ে ডিসকমগুলোকে সিস্টেম লস কমানো ও আদায় দক্ষতা বাড়ানোর কঠোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে হয়েছিল।

বাংলাদেশের পিডিবি ও ডেসকোর জন্যও এমন একটি কাঠামো ভাবা যায়। ধাপে ধাপে বকেয়া নিষ্পত্তির বিনিময়ে সুনির্দিষ্ট লস কমানোর লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া যেতে পারে।

ব্যাংকিং সেক্টরের পাশাপাশি প্রাথমিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত থেকে বিএনপি সাফল্য তুলে আনতে পারলে, সার্বিক অর্থনীতিতে গতি ফিরবে। এই গতি বিএনপি সরকারকে সফল করবে।

লেখক : সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী, টেকসই উন্নয়নবিষয়ক লেখক

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন