পাকিস্তানের লাহোরে পিসিবি ও আইসিসির সঙ্গে বৈঠক শেষে গত পরশু রাতে দেশে ফেরেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এরপরই বিশ্বকাপ না খেলায় বাংলাদেশকে কোনো শাস্তি দেওয়া হবে-এমনটা জানায় বিসিবি। শাস্তি এড়ানোর ওই বৈঠকে আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত যেসব আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের কথা ছিল, সেসব আয়োজনের নিশ্চয়তা নিয়ে ফেরেন বিসিবি সভাপতি বুলবুল। তার মতে, আইসিসি যেহেতু সরাসরি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে পারবে না, সে কারণে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগটা করে দিচ্ছে। পাশাপাশি তার দাবি, বাংলাদেশ এখন ক্রিকেটের ‘পাওয়ার হাউস’।
গত পরশু রাতে আইসিসি ও পিসিবির সঙ্গে যৌথ বৈঠক শেষে দেশে ফেরেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। এরপরই এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি। তার কথায়, ‘শোনা যাচ্ছিল বেশ কিছু নিষেধাজ্ঞা-শাস্তি আসতে পারে, সেগুলো থামিয়েছি। পাশাপাশি যেহেতু আমরা বিশ্বকাপ খেলতে পারলাম না, সেজন্য আমাদের অর্থনৈতিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সরাসরি হয়তো অর্থনৈতিকভাবে আইসিসি কাভার রিকভার করবে না। যদি কিছু ইভেন্ট করতে পারি, তাহলে আগামী বছর মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ করব। ২০৩১ সালে ভারতের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ করব।’
এ বৈঠকের পর আইসিসিতে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তপোক্ত হয়েছে বলে দাবি বুলবুলের। তার কথায়, ‘বাংলাদেশের অবস্থানটা আরো ভালো হয়েছে। বাংলাদেশ যে আসলেই ক্রিকেট শক্তি, সেটা আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি।’
পাশাপাশি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানকে আহ্বান জানান বিসিবি সভাপতি। ক্রিকেটের ঐতিহ্য ও বাণিজ্যিকীকরণের জন্য সেটা জরুরি বলে বিশ্বাস করেন তিনি। তার কথা, ‘আইসিসির অর্থনৈতিক দিকই শুধু নয়, বাণিজ্যিক দিক থেকে শুরু করে একটা ঐতিহ্যও রয়েছে। যেহেতু আমরা খেলতে পারিনি, তাই ক্রিকেটের স্বার্থে আমরা পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছি যেন এই ইভেন্টটা খেলে এবং তারা সেটা বিবেচনা করছে এখন। আমরা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি বাংলাদেশ কতটা গুরুত্বপূর্ণ।’
সফল সফর শেষে দেশে ফিরে পাকিস্তানকে আলাদাভাবে ধন্যবাদ দেন বুলবুল। পাশাপাশি কীভাবে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপে রাখতে তারা ভূমিকা রেখেছিল, সে ব্যাখ্যাও দেন। বুলবুল বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আমাদের শুধু সহায়তাই করেনি, তারা আইসিসিকে একইভাবে একই অনুরোধ করছিল যে, এটা অন্যায় এবং বাংলাদেশকে খেলতে দেওয়া উচিত।’ বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পিসিবি- সেটা জানিয়ে বলেন, ‘এক পর্যায়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায় এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রেসিডেন্ট আমাকে বলেছিলেন আমরা একটা কিছু করতে চাই, যেহেতু বাংলাদেশ খেলতে পারছে না। এটা আমরা একটি উদাহরণ হিসেবে রাখতে চাই।’
তবে এটাকে বাংলাদেশের জন্য ‘জয়’ বলতে নারাজ বুলবুল। বরং বাংলাদেশ আইসিসির কাছে গুরুত্বপূর্ণ-সেটাই প্রমাণ হয়েছে বলে মনে করেন। তার কথায়, ‘এটা উইন বলব না। আমরা যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মেম্বার, সেভাবে মূল্যায়ন করা হয়। তাদের কাছে মনে হয়েছে বাংলাদেশ উইল বি এ ক্রিকেট পাওয়ার ও পাওয়ার হাউস।’
পিসিবিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বুলবুল বলেন, ‘পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা কিন্তু দুটি জিনিস দেখছিল। একটি দেখেছে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ক্রিকেটের একটা বন্ধুত্ব। তারা মনে করছে, বাংলাদেশে যেভাবে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা বাড়ছে, সেটা আপনি যদি ডেটা দেখেন, তবে তা হবে ৯০-৯২ ভাগ ক্রিকেটার এ অঞ্চলে আছে। আর টেলিভিশন ভিউয়ারশিপ ৯০ ভাগ এ অঞ্চলে।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘সবাই মনে করেন যদি বাংলাদেশের মতো একটি দেশ কোনো কারণে না খেলে বা ভবিষ্যতে কোনো কারণে পিছিয়ে যায়, তাহলে সেই ঝুঁকিটা কেউ নিতে চায়নি।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

