ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শুরুতেই স্বপ্নের মতো ছুটে চলেছে পাকিস্তান। শ্রীলঙ্কাকে হারানোর পর এবার শক্তিশালী ইংল্যান্ডকে ৮৭ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে তারা। রাওয়ালপিন্ডিতে স্বাগতিকদের ৩০২ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোরের জবাবে ইংলিশরা গুটিয়ে গেছে ২১৫ রানে। পাকিস্তানের এই দাপুটে জয়ের মূল নায়ক উদীয়মান অলরাউন্ডার আরাফাত মিনহাস। ব্যাট হাতে দায়িত্বশীল হাফ-সেঞ্চুরির পর বল হাতে ক্যারিয়ার সেরা ৬ উইকেট শিকার করে ম্যাচটি পুরোপুরি নিজের নামে করে নেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
ম্যাচে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। শিশিরের কথা মাথায় রেখে পরে রান তাড়া করার সুযোগ নিতে চেয়েছিল ইংলিশরা। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার ফখর জামানকে জো রুটের ক্যাচ বানিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরান গাস অ্যাটকিনসন। দলীয় ৩১ রানে সাইম আইয়ুব (৮) বিদায় নিলে শুরুতেই চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান।
এরপর বাবর আজম ও তরুণ ব্যাটারদের ওপর দায়িত্ব এসে পড়ে। বাবর ৩৪ রানে উইল জ্যাকসের বলে বোল্ড হন এবং আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান সালমান আগা ১৬ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ফলে ৮১ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে পাকিস্তান।
ধারাবাহিক উইকেটের পতনের মাঝেও এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শন করেন হাসান নওয়াজ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আরাফাত মিনহাস। পঞ্চম উইকেটে দুজনে মিলে যোগ করেন গুরুত্বপূর্ণ ৭৮ রান। নওয়াজ ৫ বাউন্ডারি ও ৪টি ছক্কায় ৭৪ বলে সর্বোচ্চ ৭৯ রান করেন।
নওয়াজ আউট হলেও মিনহাস ইংল্যান্ডের বাজে ফিল্ডিংয়ের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফিফটি তুলে নেন। তিনি ৫৮ বলে ৫৯ রানের এক ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। শেষ দিকে ফাহিম আশরাফের ২৬ বলে ৩৯ এবং হারিস রউফের ইনিংসে পাকিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৩০২ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড় করায়। ইংল্যান্ডের হয়ে সনি বেকার ৬৫ রানে ৩টি এবং অ্যাটকিনসন ৩৫ রানে ২ উইকেট নেন।
৩০৩ রানের জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে দুর্দান্ত সূচনা করে ইংল্যান্ড। দুই ওপেনার টম ব্যান্টন ও বেন ডাকেট পাকিস্তানি বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ১৫ ওভারের মধ্যেই ৯১ রান তুলে ফেলেন। ডাকেট ৪৫ রান করে হারিস রউফের শিকার হলেও ব্যান্টন ৫৩ বলে ৫৭ রান করে আউট হন।
ইংল্যান্ডের শুরুর ধাক্কা সামলে দেওয়ার পর দৃশ্যপটে আসেন আরাফাত মিনহাস। ব্যান্টনকে আউট করে ইংল্যান্ডের পতনের সূচনা করেন তিনি। এরপরই এক দারুণ টার্নিং ডেলিভারিতে ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুককে (৫) ক্লিন বোল্ড করেন।
রুট ও স্যাম কারান চেষ্টা করলেও পাকিস্তান পেসার ও স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ইংল্যান্ড ব্যাকফুটে চলে যায়। এরপর ইংল্যান্ডের মিডল ও লোয়ার অর্ডারে একাই ধস নামান মিনহাস। একে একে জর্ডান কক্স, জেমি ওভারটন, উইল জ্যাকস এবং আদিল রশিদকে ফিরিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেটে নিজের সেরা বোলিং ফিগার ৬/৪০ অর্জন করেন। এর মাধ্যমে পাকিস্তানের ইতিহাসে একদিনের ক্রিকেটে হাফ-সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট নেওয়া মাত্র তৃতীয় ক্রিকেটার হওয়ার গৌরব অর্জন করেন এই তরুণ।
শেষ উইকেটে গাস অ্যাটকিনসন ও সনি বেকারের ভুল বোঝাবুঝির সুযোগে মিনহাস সরাসরি থ্রোতে রানআউট করে ইংল্যান্ডকে ২১৫ রানে অলআউট করে দেন। ১১.২ ওভার বাকি থাকতেই ৮৭ রানের বড় জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান।
ব্যাট হাতে ৫৯ রান এবং বল হাতে ৪০ রানে ৬ উইকেটের সঙ্গে একটি রানআউটে ভূমিকা রেখে অলরাউন্ড নৈপুণ্যের ম্যাচসেরার পুরস্কার নিশ্চিত করেন আরাফাত মিনহাস।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
পাকিস্তান: ৩০২/৯, ৫০ ওভার (নওয়াজ ৭৯, মিনহাস ৫৯, ফাহিম ৩৯; বেকার ৩/৬৫ ও অ্যাটকিনসন ২/৩৫)।
ইংল্যান্ড: ২১৫/১০, ৩৮.৪ ওভার (টম ব্যাংটন ৫৭, বেন ডাকেট ৪৫; আরাফাত মিনহাস ৬/৪০, হারিস রউফ ২/৩২)।
ফল: পাকিস্তান ৮৭ রানে জয়ী।
ম্যাচসেরা: আরাফাত মিনহাস।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

