ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী

ভারতীয় পর্যটকেরা বলছেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পূজার পরিবেশ ভালো: রিজভী
ফাইল ছবি

বিএনপিকে জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার সঙ্গে জড়িয়ে গত ১৭ বছর পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থে বাংলাদেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধন ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। অতীতের সেই অপপ্রচারের পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

মঙ্গলবার রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেমসেন হলের পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দুর্গাপূজা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব হলেও এর আনন্দ ও আয়োজন অন্য ধর্মের মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যে উৎসবের এই সর্বজনীনতা বহুদিনের। একে বিভাজনের মধ্যে ফেলার চেষ্টা হয়েছে।

নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে রিজভী বলেন, তার বাড়ির সামনে বগুড়ায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বড় মেলা বসত। সারা বছর সেই মেলার জন্য অপেক্ষা করতেন তারা। মেলায় খেলনা পিস্তল, বেলুনসহ নানা জিনিস কেনার আনন্দ ছিল। এ ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে একটি ধর্মের উৎসব কীভাবে অন্য ধর্মের মানুষের কাছেও আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে, তা বোঝা যায়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, অতীতের শাসনামলে বিএনপিকে সাম্প্রদায়িকতা ও জঙ্গিবাদের উত্থানের সঙ্গে জড়িয়ে নানা ধরনের প্রচার চালানো হয়েছে। তার দাবি, বিএনপি অতীতেও একাধিকবার রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিল। তখন এ ধরনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বর্তমানের মতো প্রচার দেখা যায়নি। গত ১৭ বছরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব প্রচার চালানো হয়েছে।

তিনি বলেন, সমাজের মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের যে বন্ধন, তা ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে রাজনৈতিক স্বার্থে এবং ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে। দেশীয় একটি শক্তি ও তাদের আন্তর্জাতিক সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে এ কাজে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করতে অতিরঞ্জিত প্রচার ও মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়। মিথ্যা প্রচারের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বিদ্বেষ তৈরি করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলে। এসব বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

রিজভী বলেন, ছাত্রসমাজ ও তরুণদের গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে পরিবর্তন এসেছে। এরপর একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় ও নৃগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের উৎসব নির্বিঘ্নে পালন করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতার পরিবেশ ফিরে এসেছে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষ নিরাপদে ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন।

বাংলাদেশে দুর্গাপূজার আয়োজন দেখতে ভারত থেকে পর্যটকেরা এসেছেন উল্লেখ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিভিন্ন ভিডিও ও সাক্ষাৎকার দেখা যাচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশে আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্‌যাপনের প্রশংসা করছেন অনেকে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পূজার পরিবেশ নিয়ে বিদেশি পর্যটকদের ইতিবাচক অভিজ্ঞতা দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যের একটি দিক তুলে ধরে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে অপপ্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

বক্তব্যের শেষে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের পারস্পরিক বন্ধন, ভ্রাতৃত্ব ও সহাবস্থানের ঐতিহ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে যেন বিভেদ সৃষ্টির সেই প্রচেষ্টার পুনরাবৃত্তি না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পরে তিনি উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন