টপ অর্ডার ব্যর্থ, শেষদিনে ব্যাটিং পরীক্ষায় বাংলাদেশ

টপ অর্ডার ব্যর্থ, শেষদিনে ব্যাটিং পরীক্ষায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল

প্রথমদিন শেষে মেহেদি হাসান মিরাজের সেঞ্চুরিতে যে স্বস্তি ছিল বাংলাদেশ শিবিরে, দ্বিতীয় দিন শেষে তা অনেকটাই মিলিয়ে গেছে। ডারউইনে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে হাসান মাহমুদ ও তাসকিন আহমেদ ভালো বোলিং করলেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ শেষ পর্যন্ত গড়ে তোলে ৯২ রানের লিড। দিনের শেষভাগে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে আবারও হোঁচট খায় বাংলাদেশের টপ অর্ডার। দিনশেষে ২ উইকেটে ১৯ রান নিয়ে ব্যাট করছে সফরকারীরা, ৭৩ রানে পিছিয়ে থেকে।

আগের দিনের ভালো বোলিং ধরে রাখেন হাসান মাহমুদ। দিনের দ্বিতীয় ওভারেই জশ ফিলিপিকে বোল্ড করে শুরুটা ভালো করেন তিনি। কাউন্টি ক্রিকেট খেলে সদ্য দেশে ফেরা এই পেসার শেষ পর্যন্ত থামেন ৪২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে। সঙ্গ ভালোই দেন তাসকিন আহমেদ, তার শিকার দুই উইকেট। তবে বাকি তিন পেসার সৈয়দ খালেদ আহমেদ, ইবাদত হোসেন ও মুশফিক হাসান ছিলেন যথেষ্ট খরুচে। মিরাজ আগের দিনের সেঞ্চুরির রেশ ধরে বোলিংয়েও দুই উইকেট তুলে নেন। ৮৭.২ ওভারে ৩৫৫ রানে গুটিয়ে যায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ। এই দফায় তারা বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে যায় ৯২ রানে।

বিজ্ঞাপন

ফিলিপির বিদায়ের পরও বাংলাদেশের জন্য দিনের শুরুটা মন্দ ছিল না। কার্টিস প্যাটারসন ও জ্যাক ক্লেটনের ৭৩ রানের জুটি ভাঙার পর একসময় ৫ উইকেটে ১৩৯ রানে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। প্যাটারসনকে বোল্ড করেন হাসান মাহমুদ, তার ব্যাট থেকে আসে ৫৩ রান। টম রজার্সের চোটে শেষ মুহূর্তে সুযোগ পাওয়া ক্লেটন ৫৮ বলে করেন আগ্রাসী ৪৮ রান, তাকে ফেরান ইবাদত। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের রং পাল্টে দেন টিগ উয়াইলি ও জেইক ডোরান। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেন ১৫৭ রান, ৩৫ ওভারের বেশি সময় ধরে হতাশ করেন বাংলাদেশের বোলারদের। ডোরান ৭৬ রানে ফেরার পর জার্সিস ওয়াদিয়াকে শূন্য রানে বোল্ড করেন মিরাজ। তবে লোয়ার অর্ডারদের নিয়ে দলকে সাড়ে তিনশ পার করান উয়াইলি, ১৭৭ বলে খেলেন ১৩০ রানের ইনিংস। ২২ বছর বয়সি এই ব্যাটসম্যান এখন পর্যন্ত মাত্র ২৪টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন, সেঞ্চুরি এটাই প্রথম, গড় মাত্র ২০.৭৯। গত মৌসুম শেষে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া থেকে বাদ পড়ে তাসমানিয়ার সঙ্গে চুক্তি করা উয়াইলির জন্য তাই এই ইনিংসটা বড় একটা জবাব। শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরিয়ে সিএ একাদশের ইনিংসের ইতি টানেন খালেদ।

তাইজুলের চোট, মুশফিকের বদলি হয়ে বোলিং

আগের দিন ব্যাটিংয়ের সময় আঙুলে চোট পান তাইজুল ইসলাম। চোট গুরুতর নয়, তারপরও সতর্কতা হিসেবে এদিন তাকে বোলিং করানো হয়নি। ১৩ জনের দলে না থেকেও তার বদলি হিসেবে বোলিংয়ের সুযোগ পেয়ে যান মুশফিক হাসান। তবে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি তিনি, চার ওভারে রান দিয়েছেন বেশ। নাহিদ রানার অনুপস্থিতিতে এমনিতেই পেস আক্রমণ নিয়ে চাপে থাকা বাংলাদেশের জন্য তাইজুলের এই সাময়িক অনুপস্থিতি বাড়তি দুশ্চিন্তারই কারণ।

আবারও ব্যর্থ টপ অর্ডার

লিড শোধ করতে নেমে তৃতীয় ওভারেই সাদমান ইসলামকে হারায় বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৩১ রান করা এই ওপেনার পুল করতে গিয়ে ফাইন লেগে ধরা পড়েন ৬ রানে। এরপর দিনের শেষ বলের কাছাকাছি সময়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন মুমিনুল হকও, তার সংগ্রহও সেই ৬ রান। প্রথম ইনিংসে ৫৮ বলে ১৬ রান করা এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান প্রস্তুতি ম্যাচের সুযোগটা দ্বিতীয় ইনিংসেও কাজে লাগাতে পারলেন না। মুমিনুলের বিদায় দিয়েই শেষ হয় দিনের খেলা। প্রথম ইনিংসে শূন্য রানে ফেরা তানজিদ হাসান অবশ্য এবার অপরাজিত থেকে যান ৭ রানে।

২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলতে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য তৃতীয় ও শেষদিনের ব্যাটিং এখন এক বড় পরীক্ষা। মিরাজের সেঞ্চুরির বাইরে প্রথম ইনিংসে টপ ও মিডলঅর্ডারের সেরা সংগ্রহ ছিল নাজমুল হোসেন শান্তর ৩৭ রান। সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে রানে ফেরার তাগিদটা তাই স্পষ্ট, ব্যাটসম্যানরা কতটা সেই তাগিদ মেটাতে পারবেন এই ম্যাচে এখন সেটাই বাংলাদেশের জন্য পরীক্ষা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ২৬৩। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশ প্রথম ইনিংস : ৮৭.২ ওভারে ৩৫৫ (আগের দিন ৫১/২) (কনস্টাস ১, কেলাওয়ে ০, প্যাটারসন ৫৩, ফিলিপি ২৪, ক্লেটন ৪৮, উয়াইলি ১৩০, ডোরান ৭৬, ওয়াদিয়া ০, জ্যাকবস ১০, রকিচ্চলি ৫, ক্রোন ০*; তাসকিন ১৫-৪-৫৬-২, হাসান ১৯-৫-৪২-৪, খালেদ ১২.২-০-৫২-১, ইবাদত ১৩-১-৬৬-১, মিরাজ ২০-৩-৭৭-২, মুশফিক ৪-০-৩৮-০, মুমিনুল ৪-০-২০-০)।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস : ৫ ওভারে ১৯/২ (তানজিদ ৭*, সাদমান ৬, মুমিনুল ৬; থমসন ৩-০-১০-২, জ্যাকবস ২-১-৯-০)।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন