মাস দুয়েক আগেও ছবিটা ছিল একদম আলাদা। ওয়ানডে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড তখন মিরাজের হাতে, দলও জিতছিল নিয়মিত। সমস্যা ছিল ব্যাটে। রান আসছিল না নিজের মতো করে। অস্ট্রেলিয়া সফরে ওঠার ঠিক আগে সেই অধিনায়কত্বই হারালেন তিনি। দায়িত্ব পেলেন লিটন দাস, সহ-অধিনায়ক হলেন তাওহিদ হৃদয়। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল তখন বলেছিলেন, মিরাজ সফল অধিনায়ক ছিলেন, পাঁচ সিরিজের চারটিতেই দলকে জিতিয়েছেন। কিন্তু অলরাউন্ডার হিসেবে যে ধারাবাহিকতায় তাকে সবাই চেনে, বিশেষ করে ব্যাটে, সেটা কিছুদিন ধরে দেখা যাচ্ছিল না। চাপ ছাড়া নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরুন, এই ছিল তামিমের চাওয়া।
সেই মিরাজ এবার অস্ট্রেলিয়ায় নেমেই জবাব দিলেন ব্যাট হাতে।
মারারা ওভালে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের প্রথম দিনে যখন ক্রিজে নামেন মিরাজ, বাংলাদেশ তখন বিপদে। ১০৫ রানে পড়ে গেছে ৫ উইকেট। সাতে নেমে সেই জায়গা থেকেই লড়াই শুরু করেন মিরাজ। যদিও বাকিরা তেমন সঙ্গ দিতে পারেননি। এক সময় ১৯৪ রানে ৯ উইকেট চলে গেলে মনে হচ্ছিল দুইশ পার হওয়ার আগেই গুটিয়ে যাবে বাংলাদেশ। শেষ উইকেটে খালেদ আহমেদকে নিয়ে ৬৯ রান যোগ করে দলকে ২৬৩ পর্যন্ত টেনে নিয়ে যান তিনি।
৭৫ বলে ফিফটি পাওয়া মিরাজ এরপর গতি বাড়ান। পরের পঞ্চাশ রান আসে মাত্র ৫৩ বলে। ১৪১ বলের ইনিংসে ১১ চার আর ৪ ছক্কায় অপরাজিত থাকেন ১০৯ রানে। দিন শেষে নিজের ব্যাটিং নিয়ে জানালেন, ‘শুরুটা কঠিন ছিল, বোলাররা ভালো জায়গায় বল করছিলেন, তাই আমি শুধু মেরিট অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি।’
অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনে এটাই তার প্রথম ম্যাচ, তাই মানিয়ে নিতে সময় লেগেছে বলেও স্বীকার করেন তিনি। বললেন, ‘শুরুতে রানের কথা তেমন মাথায় রাখিনি, শুধু উইকেটে টিকে থাকার আর জুটি গড়ার চেষ্টা করেছি। উইকেটে টিকে যাওয়ার পর রান তোলাটা সহজ হয়ে যায়।’
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। ১৩ আগস্ট ডারউইনে প্রথম টেস্ট, ২২ আগস্ট ম্যাকাইতে দ্বিতীয়টা। এই সেঞ্চুরি সিরিজের ঠিক আগে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দেবে বলে মনে করেন মিরাজ নিজেও। তার কথায়, সামনে টেস্ট থাকায় এই ইনিংস তাকে ভরসা জোগাবে। যে মানসিকতা নিয়ে তিনি খেলেছেন, সেটা ধরে রাখতে পারলে তা তার জন্য যেমন ভালো, দলের জন্যও তেমনি ভালো হবে।
অধিনায়কত্ব হারানোর কষ্ট নিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন মিরাজ। প্রথম সুযোগেই ব্যাট হাতে দিলেন উত্তর। তামিম যে ছন্দে ফেরার কথা বলেছিলেন, প্রস্তুতি ম্যাচের এই সেঞ্চুরি যেন তারই একটা ইঙ্গিত।
টেস্ট সিরিজ শুরুর আগে ‘প্রাক-পরীক্ষায়’ মেহেদি মিরাজ ব্যাট হাতে একেবারে লেটারমার্ক সহকারে পাস। আসল পরীক্ষা শুরু ১৩ আগস্ট। সেদিনই সিরিজের প্রথম টেস্ট ম্যাচ শুরু।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

