ম্যাচের আগে আলোচনায় ছিল নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের মিশ্র মাটির উইকেট। উইকেট পর্যবেক্ষণের অন্যতম দিক ছিল বল ব্যাটে ভালোভাবে আসবে, বোলাররা সুবিধা পাবে না এবং ২০০ রানের বেশি স্কোর দেখা যেতে পারে। এ তিনটি অনুমানই সঠিক প্রমাণ করে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর ঝড় বইয়ে দিলেন ভারতীয় ব্যাটাররা। মাঝপথে দ্রুত তিন উইকেট হারালেও শেষদিকে শিবম দুবের ঝড়ে (৮ বলে ২৬) ২০ ওভারে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২৫৫ রান তোলে ভারত। তার আগে ফিফটি করে ভিতটা গড়ে দিয়েছেন অভিষেক শর্মা, সাঞ্জু স্যামসন ও ইশান কিশান।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা সাবধানি করলেও আস্তে আস্তে খোলস ছেড়ে বের হন সাঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা। প্রথম ওভারে বাউন্ডারিসহ মোট সাত রান আদায় করেন স্যামসন। দ্বিতীয় ওভারে তোলেন পাঁচ। আক্রমণের ঝড় শুরু হয় তৃতীয় ওভারে। জ্যাকব ডাফির সেই ওভারে স্যামসন-অভিষেক মিলে তিন বাউন্ডারিতে নেন ১৫ রান। পরের ওভারে লুকি ফার্গুসনের ওপর চড়াও হয়ে দুজন তোলেন ২৪! চার ওভারেই ৫০ ছাড়িয়ে যায় ভারত। পঞ্চম ওভারে হেনরি ওয়াইডের পসরা সাজিয়ে খরচ করেন ২১। ষষ্ঠ ওভারে ২০ রান তুলে নিয়ে ১৮ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন অভিষেক। তার এই ফিফটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচে এবং এবারের টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দ্রুততম। এর আগে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ফিন অ্যালেন এবং ভারতের বিপক্ষে জ্যাকব বেথেল ১৯ বলে ফিফটি করেছিলেন। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে ভারত তোলে বিনা উইকেটে ৯২ রান, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২৪ সালের আসরে ব্রিজটাউনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে এক উইকেটে ৯২ তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে অভিষেক-স্যামসন মিলে বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন ১৪টি (৮ চার, ৬ ছক্কা)।
পাওয়ার প্লের পর আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে খেলতে গিয়ে রাচিন রবীন্দ্রের বলে ফিরে যান অভিষেক (২১ বলে ৫২)। ৯৮ রানে ভাঙে ওপেনিং জুটি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে এটাই প্রথম ৫০ রানের ওপেনিং জুটি। আগের সর্বোচ্চ জুটি ৪৮ (কামরান আকমল ও শাহজাইব হাসান, ২০০৯ সালে)। ওয়ানডাউনে নামেন ইশান কিশান। অভিষেকের আউটের পর স্যান্টনার ভারতের লাগাম টেনে ধরার চেষ্টা করেন। কিউই অধিনায়ক ৯ম ওভারে মাত্র পাঁচ রান দেন। নিজের আগের ওভারে দেন ছয় রান। ১০ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় এক উইকেটে ১২৭ রান। ১১তম ওভারে ১০ রান নিয়ে ৩৩ বলে ফিফটি করেন স্যামসন। শহিদ আফ্রিদি ও বিরাট কোহলির পর তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনালে ফিফটি পেলেন স্যামসন। ১২তম ওভারে ফার্গুসনের ওভারে আসে ২৪ রান। প্রথম দুই ওভারে ৪৮ রান দিয়ে সর্বোচ্চ রান খরচের রেকর্ডে শিবম দুবেকে (৪৬) রক্ষা করলেন ফার্গুসন। চলতি আসরেই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৬ দিয়েছিলেন দুবে।
১৩তম ওভারে ১০ রান তুললে ১৪তম ওভারে ফের চড়াও হন স্যামসন। রাচিনের ওভারে তিন ছক্কায় তোলেন ২০। একইসঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ (২১) ছক্কার রেকর্ড গড়েন স্যামসন। এর আগে এই রেকর্ডটি ছিল ফিন অ্যালেনের (২০টি)। ১৫ নম্বর ওভারে ১২ রান নেওয়ার পথে ২৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন ইশান; স্যামসনের সঙ্গে তার জুটি পার করে শতরান, ভারত পার করে ২০০-এর ঘর। ১৬তম ওভারে জিমি নিশাম এসে বাজিমাত করেন, তুলে নেন স্যামসন (৮৯), ইশান (৫৪) ও সূর্যকুমারকে (০)। ২০৩/১ থেকে ভারত পরিণত হয় ২০৪/৪-এ। পরের চার ওভারে ডাফি-নিশামরা মাপা বোলিং করলেও শেষ ওভারে দুই ছক্কা ও তিন চারে ২৪ রান তুলে শিবম দুবে ভারতকে পৌঁছে দেন ২৫৫ রানের ঘরে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২৫৫/৫, ২০ ওভার (স্যামসন ৮৯, ঈশান ৫৪, অভিষেক ৫২, শিবম ২৬*, পান্ডিয়া ১৮; নিশাম ৩/৪৬, রবীন্দ্র ১/৩২, হেনরি ১/৪৯)।
টস: নিউজিল্যান্ড।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

