মেটলাইফ স্টেডিয়ামের বিশ্বকাপ ফাইনালে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন লিওনেল মেসি, লামিন ইয়ামাল কিংবা দুই দলের তারকারা। তবে মাঠের বাইরেও চলছে আরেকটি অসাধারণ গল্প—যেখানে মুখোমুখি হয়েছেন এক শিক্ষক ও তাঁরই সাবেক ছাত্র। স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে আর আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির সম্পর্কটা ঠিক তেমনই।
প্রায় নয় বছর আগে, ২০১৭ সালের শেষ দিকে, কোচিং ক্যারিয়ার শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন সদ্য অবসর নেওয়া স্কালোনি। স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের মাদ্রিদের ‘লা রোজাস’ ট্রেনিং সেন্টারে প্রফেশনাল কোচিং লাইসেন্স কোর্সে ভর্তি হন তিনি। সেখানে তাঁর অন্যতম শিক্ষক ছিলেন লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
ক্লাসরুমে শেখা সেই পাঠের পর খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি স্কালোনিকে। ২০১৮ সালের আগস্টে আর্জেন্টিনার অন্তর্বর্তীকালীন কোচের দায়িত্ব পান তিনি। এরপর ইতিহাসই গড়েছেন—২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জিতে আর্জেন্টিনাকে ফিরিয়ে দিয়েছেন বিশ্বসেরার আসনে।
অন্যদিকে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে স্পেনের দায়িত্ব নেওয়ার পর দে লা ফুয়েন্তেও বদলে দিয়েছেন ‘লা রোজা’র চেহারা। তাঁর অধীনে স্পেন জিতেছে ২০২৪ ইউরো, খেলেছে নেশনস লিগের ফাইনাল এবং এবারের বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ফাইনালে।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চেও দুই কোচের কথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা।
নিজের সাবেক শিক্ষককে স্মরণ করে স্কালোনি বলেন, “তিনি আমার মেন্টর ছিলেন। কোচিং সম্পর্কে যা শিখেছি, তার অনেকটাই তাঁর কাছ থেকে। কাতার বিশ্বকাপের পর কোচদের এক সম্মেলনে আমাদের দীর্ঘ সময় কথা হয়েছিল। স্পেনকে তিনি যেভাবে গড়ে তুলেছেন, তা সত্যিই অসাধারণ। তাঁর প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে।”
স্কালোনির সঙ্গে স্পেনের সম্পর্কও বেশ গভীর। খেলোয়াড়ি জীবনের বড় একটি সময় তিনি দেশটিতে কাটিয়েছেন। তাঁর স্ত্রী এলিজা মনতেরো স্প্যানিশ, আর পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন মায়োর্কাতেই বসবাস করেছেন। তবু ফাইনালের আগে আবেগকে পাশে সরিয়ে রেখে আর্জেন্টাইন কোচ হেসে বলেন, “সবাই জানে স্পেনে আমার পরিবার রয়েছে। কিন্তু আজ আমাকে মিস্টার দে লা ফুয়েন্তেকে হারানোর জন্যই মাঠে নামতে হবে। সত্যি বলতে, এ জন্য আমি দুঃখিত।”
শিষ্যের এই মন্তব্যে গর্বই প্রকাশ করেছেন দে লা ফুয়েন্তে। স্কালোনিকে স্মরণ করে তিনি বলেন, “লিওনেলের প্রতি আমার অনেক শ্রদ্ধা। আর্জেন্টিনার সঙ্গে সে সব বড় শিরোপাই জিতেছে। ছাত্র হিসেবে সে ছিল অত্যন্ত মনোযোগী, পরিশ্রমী এবং শেখার আগ্রহ ছিল দারুণ। তখনই বুঝেছিলাম, সে অনেক দূর যাবে। ওর শিক্ষক হতে পেরে আমি গর্বিত।”
সম্পর্কটা শুধু শিক্ষক-ছাত্রেই সীমাবদ্ধ নয় বলেও জানিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ। তাঁর ভাষায়, “সবকিছুর আগে সে আমার বন্ধু। আমাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তরিকতার সম্পর্ক রয়েছে।”
আজ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ডাগআউটে তাই কেবল দুটি দলের লড়াই নয়, দেখা যাবে দুই প্রজন্মের দুই সফল কোচের বুদ্ধির দ্বৈরথও। একদিকে থাকবেন শিক্ষক লুইস দে লা ফুয়েন্তে, অন্যদিকে তাঁরই হাতে গড়ে ওঠা শিষ্য লিওনেল স্কালোনি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি হাতে তুলবেন গুরু, নাকি শিষ্য—সেই উত্তর মিলবে ফাইনালের শেষ বাঁশির পর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

