বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্যক্তিগত অর্জনের খাতায় নতুন ইতিহাস লিখেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ২২-এ নিয়ে গেছেন; পেছনে ফেলেছেন লিওনেল মেসিকে। কিন্তু ব্যক্তিগত এই কীর্তি তার কাছে তেমন কোনো মূল্যই পেল না। কারণ দল হেরেছে। আর সবচেয়ে বড় কথা, বিদায়ী কোচ দিদিয়ের দেশমকে জয় উপহার দিতে পারেনি ফ্রান্স।
মায়ামিতে ১০ গোলের রোমাঞ্চকর ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৬-৪ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শেষ করেছে ফরাসিরা। প্রথমার্ধে ৪-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা করেছিল তারা। এমবাপ্পের জোড়া গোল সে লড়াইকে আরো জমিয়ে তুলেছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়ানো যায়নি।
ম্যাচ শেষে হতাশ এমবাপ্পে স্বীকার করেন, প্রথমার্ধের বাজে ফুটবলই তাদের ম্যাচ থেকে ছিটকে দিয়েছে। তার ভাষ্য, ‘প্রথমার্ধে আমরা নিজেদের মানের কাছাকাছিও ছিলাম না। এত বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ফিরে আসা খুব কঠিন। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা নিজেদের চেনা ফুটবলটি খেলেছি; কিন্তু শুরুতেই নিজেদের কাজটি করতে পারিনি।’
তবে ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে দিদিয়ের দেশমকে কাঙ্ক্ষিত বিদায় উপহার দিতে না পারা। দেশমের অধীনেই জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল এমবাপ্পের। ফ্রান্সের হয়ে তার ১০৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচই খেলেছেন এই কোচের অধীনে। তাই বিদায়ের মুহূর্তে আবেগ লুকাতে পারেননি দলের অধিনায়ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদায়ী কোচকে উদ্দেশ করে আবেগঘন বার্তায় এমবাপ্পে লিখেছেন, ‘আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আপনি যেমনভাবে বিদায় পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, সেটি আমরা দিতে পারিনি। কিন্তু আপনি ফরাসি ফুটবলকে আবারও বিশ্বের শীর্ষে ফিরিয়ে এনেছেন। একজন কিংবদন্তির অধীনে খেলতে পারাটা আমার জন্য গর্বের।’
এর আগে স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে ২-০ গোলে হারের পরও নিজের ও দলের কঠোর সমালোচনা করেছিলেন এমবাপ্পে, ‘আমরা যে ম্যাচটি খেলতে চেয়েছিলাম, তা খেলতে পারিনি। কৌশলগতভাবে, টেকনিক্যালি—কোনো দিক থেকেই আমরা বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মানে পৌঁছাতে পারিনি। আর সেমিফাইনালে যা করার কথা, তা না করতে পারলে জেতা যায় না। আমরা প্রযুক্তিগতভাবে খুব বেশি ভুল করেছি। সুযোগ পেয়েও তাদের আঘাত করতে পারিনি। অধিনায়ক হিসেবে সব দায় আমি নিচ্ছি। এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’
বিশ্বকাপ শেষ হলেও এমবাপ্পে মনে করেন, এই ব্যর্থতা থেকেই শিক্ষা নিতে হবে ফ্রান্সকে, ‘আমরা সবাই হতাশ। ফাইনালে খেলতে চেয়েছিলাম, দেশকে স্বপ্ন দেখাতে চেয়েছিলাম; সেটা পারিনি। এখন আমাদের আরো শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসতে হবে। ফুটবল কারো জন্য অপেক্ষা করে না।’
ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের বিচারে টুর্নামেন্টটি স্মরণীয় হয়ে থাকবে এমবাপ্পের জন্য। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপে সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠেছেন এবং গোল্ডেন বুটের লড়াইয়েও এগিয়ে আছেন। কিন্তু তার কাছে এসব অর্জনের চেয়েও বড় হয়ে ধরা দিয়েছে দলের ব্যর্থতা।
দেশমের বিদায়, ফাইনালে ওঠার স্বপ্নভঙ্গ এবং তৃতীয় স্থানও হাতছাড়া, সব মিলিয়ে এমবাপ্পের কণ্ঠে তাই একটাই সুর-ফ্রান্সের এই বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে গভীর অপূর্ণতার বেদনায়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

