জমকালো উদ্বোধনে পর্দা উঠল ফুটবল বিশ্বকাপের

স্পোর্টস রিপোর্টার

জমকালো উদ্বোধনে পর্দা উঠল ফুটবল বিশ্বকাপের

“ওয়েলকাম টু মেক্সিকো”—এই আন্তরিক আহ্বানের মধ্য দিয়েই শুরু হলো ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযাত্রা। সংক্ষিপ্ত, সুশৃঙ্খল এবং প্রাণবন্ত এক উদ্বোধনী আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় উৎসবে স্বাগত জানাল সহ-আয়োজক মেক্সিকো।
মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও বানোর্তে স্টেডিয়ামে মাত্র ১৭ মিনিটের অনুষ্ঠানে ছিল না অযথা জাঁকজমকের বাড়াবাড়ি। বরং ছিল রং, সুর, নৃত্য আর সংস্কৃতির মেলবন্ধন। ছোট্ট এই আয়োজনে ফুটে উঠেছে মেক্সিকোর ঐতিহ্য, গর্ব এবং বিশ্বকাপের মূল বার্তা—ঐক্য।
উদ্বোধনী মঞ্চে স্বাগত বক্তব্যে সঞ্চালক বলেন, “মেক্সিকো হৃদয়ের উষ্ণতা, হাসি আর ভালোবাসা নিয়ে বিশ্বকে স্বাগত জানাচ্ছে। আমরা বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য ও গৌরবের এক জাতি। ফুটবলের শক্তিও এখানেই—এটি মানুষকে, প্রজন্মকে এবং জাতিকে একসূত্রে বেঁধে রাখে। বিশ্বকাপ কোনো এক দেশের নয়, কোনো এক খেলোয়াড়েরও নয়। এটি পুরো বিশ্বের।”
তার কথার সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্টেডিয়ামের মাঝখানে ঘুরতে থাকে বিশ্বকাপ ট্রফির বিশাল প্রতিরূপ। চারপাশে নৃত্যশিল্পীদের বর্ণিল পরিবেশনা যেন রঙিন প্রজাপতির উড়াউড়ির অনুভূতি এনে দেয়। মুহূর্তেই উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে পুরো গ্যালারি ও মাঠজুড়ে। মুগ্ধ হয়ে সেই দৃশ্য উপভোগ করেন হাজারো দর্শক।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন ভেনেজুয়েলার জনপ্রিয় গায়ক ও গীতিকার ড্যানি ওশান। তার প্রাণবন্ত পরিবেশনায় আরও উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে দর্শকরা। ইউটিউব থেকে উঠে আসা এই শিল্পী বর্তমানে লাতিন আমেরিকার অন্যতম জনপ্রিয় সংগীত তারকা। অনেকেই তাকে স্নেহভরে ‘ভেনেজুয়েলার জাস্টিন বিবার’ বলে ডাকেন।
তবে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল শাকিরা ও বার্না বয়ের উপস্থিতি। কলম্বিয়ার বিশ্বখ্যাত পপ তারকা শাকিরা এবং নাইজেরিয়ার সংগীতশিল্পী বার্না বয় যখন এবারের বিশ্বকাপের অফিসিয়াল গান ‘দাই দাই’ পরিবেশন করেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম যেন এক বিশাল সংগীতমঞ্চে পরিণত হয়। গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের কণ্ঠও মিশে যায় সেই উৎসবের সুরে।
এ ছাড়া কলম্বিয়ার জে বালভিন, দক্ষিণ আফ্রিকার টাইলা, মেক্সিকোর আলেহান্দ্রো ফার্নান্দেজ, বেলিন্দা ও লিলা ডাউনসও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
ইতালির খ্যাতিমান প্রযোজক মার্কো বালিচের পরিকল্পনা ও পরিচালনায় সাজানো এই উদ্বোধনী আয়োজনে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয় মেক্সিকোর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী ‘পাপেল পিকাদো’ শিল্পকলার উপস্থাপনাও ছিল দর্শকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
এই রঙিন উদ্বোধনের পরই মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হলো ২০২৬ বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক লড়াই। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো যৌথভাবে আয়োজন করছে ফুটবলের এই মহোৎসব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন