ফুলবাড়ীয়ায় আনারস চাষে বাম্পার ফলন, কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

ফুলবাড়ীয়ায় আনারস চাষে বাম্পার ফলন, কোটি টাকার বাণিজ্যের সম্ভাবনা

মধুপুর উপজেলা ঘেঁষা ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ও রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের কৃষকদের অর্থনীতির মূল জোগানদাতা হলো আনারস। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার কৃষকরা প্রায় ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার জলডুগি, ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন জাতের আনারস বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ফুলবাড়িয়া উপজেলার কৃষকরা এখন জলডুগি চাষে বেশি ঝুঁকছেন। এর প্রধান কারণ হলো—এই আনারস চাষে সময়, জমি ও উৎপাদন খরচ কম লাগে এবং অধিক লাভ পাওয়া যায়। যেখানে ক্যালেন্ডার ও হানিকুইন আনারসের ফলন পেতে দেড় বছর অপেক্ষা করতে হয়, সেখানে জলডুগির পূর্ণাঙ্গ ফলন মেলে এক বছরের মধ্যেই। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আনারসের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩১৫ হেক্টরে জলডুগি, ৪২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার এবং ১০ হেক্টরে হানিকুইন চাষ হয়েছে। গত বছরের তুলনায় জলডুগির আবাদ ৬৫ হেক্টর বেড়েছে। ৩১৫ হেক্টর জমি থেকে প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ পিস জলডুগি উৎপাদিত হবে। প্রতিটি ফল গড়ে ২৫ টাকা দরে বিক্রি হলে এর বাজারমূল্য দাঁড়াবে ৬৩ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ৪২৫ হেক্টর জমিতে উৎপাদিত ১ কোটি ৫৩ লাখ পিস ক্যালেন্ডার আনারস ৪০ টাকা দরে বিক্রি করে ৬১ কোটি ২০ লাখ টাকা আয় হবে। এ ছাড়া হানিকুইনসহ অন্যান্য জাতের ৩ লাখ ৬০ হাজার আনারস থেকে আসবে ১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

সন্তোষপুর গ্রামের চাষি সোলমান সরকার ৩ একর জমিতে ৬০ হাজার চারা লাগিয়ে ১১ লাখ টাকার ফল বিক্রি করেছেন। এ ক্ষেত্রে প্রতি ফলের দাম আনুমানিক ১৫ থেকে ১৬ টাকা করে পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নুর মোহাম্মদ জানালেন, চলতি মৌসুমে ৭৫০ হেক্টর জমিতে আবাদ করা আনারস থেকে কৃষকরা ১২৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকার বেশি আয় করবেন বলে তাঁরা আশাবাদী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...