গাজায় যুদ্ধ ও মানবিক সংকটের মধ্যে নারীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি ঘটলেও পশ্চিমা বিশ্বের প্রভাবশালী নারীবাদী আন্দোলন ও ব্যক্তিত্বদের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন লেখিকা ফাতিমা ভুট্টো।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি বলেন, চলতি বছরের প্রথমার্ধে গাজায় গর্ভপাতের ঘটনা প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। খাদ্য সংকট ও অপুষ্টির কারণে অনেক ফিলিস্তিনি মা তাদের সন্তানদের পর্যাপ্ত দুধ খাওয়াতেও পারছেন না।
ফাতিমা ভুট্টো প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বের অন্য কোনো অঞ্চলে যদি একই ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো, তাহলে আন্তর্জাতিক নারী অধিকার আন্দোলন ও পশ্চিমা নারীবাদীরা ব্যাপক প্রতিবাদে নামতেন কি না।
তিনি লেখেন, ইরানে নারীদের হিজাববিরোধী আন্দোলনের সময় পশ্চিমা বিশ্বের বহু নারী সংহতি প্রকাশ করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও তৈরি, আবেদনপত্রে স্বাক্ষর এবং চুল কেটে প্রতিবাদের মতো কর্মসূচিও দেখা গেছে। কিন্তু গাজায় নারীদের গর্ভপাত বৃদ্ধি, অপুষ্টি ও মাতৃস্বাস্থ্যের সংকট নিয়ে একই ধরনের আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিবন্ধে লেখিকা পশ্চিমা বিশ্বের কয়েকজন প্রভাবশালী নারী অধিকারকর্মী ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, গাজার নারীদের দুর্দশার বিষয়ে তাদের নীরবতা বৈশ্বিক নারীবাদ ও নারী অধিকারের আন্দোলনের অবস্থান নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকটের মধ্যে নারী ও শিশুদের পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়লেও এ বিষয়ে পশ্চিমা নারীবাদী সংগঠনগুলোর প্রকাশ্য ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না।
সূত্র: জেটিও
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


