মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে জাতীয় নায়কে পরিণত হয়েছিলেন ক্রিস্টিয়ান ভলপাতো। কিন্তু বিশ্বকাপের আলোচিত সেই ফুটবলার এবার পড়েছেন বড় বিতর্কে। সিডনিতে গাড়ি চালানোর সময় কোকেন সেবনের অভিযোগে রোডসাইড ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হয়েছেন বলে জানিয়েছে নিউ সাউথ ওয়েলস (এনএসডব্লিউ) পুলিশ।
২২ বছর বয়সি ভলপাতোকে গত ২৩ জুলাই রাতে প্রথমে সিডনির আনজাক ব্রিজ এলাকায় থামায় পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার গতিসীমার রাস্তায় অন্তত ৮৫ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন। ব্রেথ টেস্টে অ্যালকোহল নেগেটিভ এলেও অতিরিক্ত গতির কারণে তাকে জরিমানার নোটিস দেওয়া হয়।
তবে ঘটনা সেখানেই ইতি পড়েনি। দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় পর একই এলাকায় আবারও ভলপাতোর গাড়ি থামায় পুলিশ। এবার তার গাড়ির গতি ছিল ঘণ্টায় ১০৯ কিলোমিটার বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপরই তাকে রোডসাইড ড্রাগ টেস্ট করানো হয়, যেখানে পুলিশের দাবি অনুযায়ী কোকেনের উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর আরেকটি নোটিস দেওয়ার পাশাপাশি তার আন্তর্জাতিক ড্রাইভিং লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
এনএসডব্লিউ পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সড়কে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো এবং মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাব নিয়ে গাড়ি চালানোর বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এসব আচরণ চালক ও অন্যান্য পথচারীর জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
ঘটনাটি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি ফুটবল অস্ট্রেলিয়া।
সিডনিতে জন্ম নেওয়া ভলপাতো ক্যারিয়ারের শুরুতে ইতালির হয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০ দলে খেলেছিলেন। রোমার একাডেমিতে বেড়ে ওঠা এই মিডফিল্ডারকে নিয়ে একসময় ইতালি ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি অস্ট্রেলিয়ার সিনিয়র দলে খেলার সিদ্ধান্ত নেন।
সম্প্রতি শেষ হওয়া ২০২৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম উদীয়মান তারকা ছিলেন ভলপাতো। তার পারফরম্যান্সে ভর করে শেষ বত্রিশে পৌঁছেছিল সকারুজ। সেখানে মিসরের কাছে হেরে বিদায় নেয় অস্ট্রেলিয়া। বিশ্বকাপের নায়ক থেকে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে এমন বিতর্কে জড়িয়ে পড়ায় দেশটির ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

