ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ভঙ্গের অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি)। মানবাধিকার সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার-এর দায়ের করা অভিযোগটি আইওসির নীতিশাস্ত্র কমিশনের এখতিয়ারের বাইরে পড়ে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
শুক্রবার আইওসির এক মুখপাত্র জানান, নীতিশাস্ত্র কমিশন অভিযোগটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। তবে অভিযোগে মূলত ফিফার অভ্যন্তরীণ প্রশাসন, সরকারগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা হিসেবে ফিফার সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে, যা আইওসি নীতিশাস্ত্র কমিশনের আওতাভুক্ত নয়। তাই অভিযোগটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
গত ১৩ জুলাই ফেয়ারস্কয়ার আইওসির কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে। তাদের দাবি ছিল, ২০২০ সাল থেকে আইওসির সদস্য থাকা ইনফান্তিনো একাধিকবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্য রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়েছেন, যা অলিম্পিক চার্টারের রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার নীতির পরিপন্থী। অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৬ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘটনায় ট্রাম্পের প্রভাব খাটানোর অভিযোগও তদন্ত করা উচিত।
তবে আইওসি স্পষ্ট করেছে, আন্তর্জাতিক ফেডারেশনগুলোর নিজস্ব প্রশাসনিক স্বাধীনতা রয়েছে। ফলে ফিফার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত বা সরকারগুলোর সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে আইওসি তদন্ত করতে পারে না। সেই কারণেই ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি নীতিশাস্ত্র কমিশনের বিচারিক ক্ষমতার বাইরে বলে সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপ চলাকালে ইনফান্তিনো ও ট্রাম্পকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল। বিশেষ করে ফাইনালের ট্রফি প্রদান অনুষ্ঠানে দুজনের একসঙ্গে মাঠে প্রবেশ, বালোগানের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ট্রাম্পের প্রকাশ্য মন্তব্য এবং ফিফার পরবর্তী সিদ্ধান্ত ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ফেয়ারস্কয়ার আইওসি ও ফিফা—উভয় সংস্থার কাছেই অভিযোগ জানিয়েছিল।
তবে আইওসির এই সিদ্ধান্তে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অভিযোগের পথ আপাতত বন্ধ হলেও বিষয়টি পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। ফেয়ারস্কয়ার ইতোমধ্যে ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছেও পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছে। সেই অভিযোগের বিষয়ে ফিফা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

