বিশ্বকাপকে ঘিরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে বড় পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। নতুন একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান গঠন করে কিছু শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে কয়েক বিলিয়ন ডলার তোলার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। তবে এই উদ্যোগ প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র সমালোচনায় মুখে পড়েছে ফিফা। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফার অভিযোগ, অতিরিক্ত বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে ফুটবলের ঐতিহ্য ও আত্মাকেই বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নামে প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলার মূলধনের একটি নতুন প্রতিষ্ঠান গঠনের পরিকল্পনা করছে ফিফা। এই প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শেয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করে প্রায় ৪.২ বিলিয়ন ডলার মূলধন সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বিনিয়োগকারী খুঁজে বের করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান জেপি মরগানকে।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর দাবি, শেয়ার বিক্রি থেকে যে অর্থ আসবে, তার পুরোটা বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রতিটি ফুটবল ফেডারেশন অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী ফুটবল এবং তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল বিকাশে এককালীন ২০ মিলিয়ন ডলার* পর্যন্ত অনুদান পাবে। ২০৩৫-২০৩৮ মেয়াদে সেই অনুদান বাড়িয়ে ২৪ মিলিয়ন ডলার করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে এই পরিকল্পনা একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি উয়েফা। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “ফিফা এমন একটি সীমা অতিক্রম করছে, যা কোনো ক্রীড়া সংস্থার অতিক্রম করা উচিত নয়। ফুটবলের শাসনব্যবস্থা কিংবা ঐতিহ্য কোনো কেনাবেচার সম্পদ হতে পারে না। আমরা কেউই ফুটবলের মালিক নই, আর এটি বিক্রি করার অধিকারও ফিফাকে কেউ দেয়নি।”
উয়েফার মতে, বিশ্বকাপের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিযোগিতাকে বিনিয়োগনির্ভর ব্যবসায়িক সম্পদে পরিণত করার চেষ্টা ফুটবলের মৌলিক চেতনাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
ফিফার এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “বিশ্বকাপ কোনো বিক্রয়যোগ্য পণ্য নয়। এটি বিশ্বের সেরা ফুটবল প্রতিযোগিতা। আপনি এর যত রূপই দিন না কেন, এর কোনো অংশ বিক্রি করা মানে ফুটবলকেই বিক্রি করে দেওয়া।”
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিত ইতিহাসের প্রথম ৪৮ দলের বিশ্বকাপ সফলভাবে শেষ হওয়ার পরই ফিফা এই নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা সামনে এনেছে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ব ফুটবলের আর্থিক কাঠামো যেমন বদলে যেতে পারে, তেমনি ফুটবলের নিয়ন্ত্রণ ও ঐতিহ্য নিয়েও নতুন বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

