জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বিওজে) সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়েছে। ইরান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি হওয়া মুদ্রাস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রানীতিকে স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে এ সুদের হার বাড়ানো হয়েছে। বলে জানিয়েছে ব্যাংক অব জাপান।
মঙ্গলবার ব্যাংক অব জাপান এ পদক্ষেপ নিয়েছে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ডিসেম্বরের পর প্রথমবারের মতো সুদ বৃদ্ধি করেছে ব্যাংকটি। এর মাধ্যমে ব্যাংক অব জাপান ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ বিশ্বের অন্যান্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সঙ্গে একই কাতারে শামিল হয়েছে। এসব ব্যাংক মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় কঠোর মুদ্রানীতি বা সুদের হার বৃদ্ধির পথ অনুসরণ করছে।
রয়টার্স জানিয়েছে, ব্যাংক অব জাপান তাদের স্বল্পমেয়াদি নীতিগত সুদের হার ০ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১৯৯৫ সালের পর জাপানে ঋণের খরচ বা সুদের হার আর কখনোই এই পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
এক বিবৃতিতে ব্যাংক অব জাপান বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জাপানের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি এখন অনেকটা কমেছে। উচ্চ জ্বালানি খরচের বোঝা কমাতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং বিকল্প জ্বালানির উৎস নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অগ্রগতির ফলে এটি সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতির ওপর নজর দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ জ্বালানি তেলের বাড়তি খরচ কোম্পানিগুলো একে অপরের ওপর ‘বেশ দ্রুত গতিতে’ চাপিয়ে দিচ্ছে। এতে করে বিভিন্ন পণ্যের ভোক্তা পর্যায়ে দাম বাড়তে পারে।
ব্যাংক অব জাপান বলছে, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি মুদ্রাস্ফীতির প্রত্যাশাও ক্রমাগত বাড়ছে। এটি আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে মূল মুদ্রাস্ফীতিকে আরও বাড়িয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে।
সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন সরকারের মনোনীত প্রথম সদস্য হিসেবে গত এপ্রিলে বোর্ডে যোগ দেওয়া তৌইচিরো আসাদা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকির তুলনায় মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নিম্নগামী ঝুঁকি অনেক বেশি।
জাপানের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান এসএমবিসির প্রধান এফএক্স স্ট্র্যাটেজিস্ট হিরোফুমি সুজুকি বলেন, সুদের হার ৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হবে কি না তা নিয়ে মূল আলোচনা ছিল। তবে তেমন কোনো প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। ভবিষ্যতের সুদের হারের কথা বিবেচনা করলে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক। কারণ হঠাৎ করে বড় কোনো সুদ বাড়বে বলে এ সিদ্ধান্ত ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এই ঘোষণার পর জাপানের শেয়ারবাজারের সূচক নিকেই ২২৫ এক শতাংশ বেড়ে ৭০ হাজারের উপরে উঠে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ডলারের বিপরীতে ইয়েনের মান ০ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ১৬০ দশমিক ২১৫ হয়েছে এবং ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের ইল্ড ৩ দশমিক ৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ২ দশমিক ৬১ শতাংশ হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ব্যাংক অব জাপানের নীতি নির্ধারণকে জটিল করে তুলেছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় একদিকে যেমন মুদ্রাস্ফীতির চাপ বেড়েছে, তেমনি আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল জাপানি অর্থনীতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা কিছুটা কমিয়েছে, তবে মে মাসে জাপানে পাইকারি মুদ্রাস্ফীতি ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৩ শতাংশে পৌঁছেছে। বিভিন্ন কোম্পানি ইতোমধ্যেই জ্বালানি সংকটের বাড়তি খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপাতে শুরু করেছে।
সূত্র: রয়টার্স
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


