ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিল ‘ককরোচ’

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদত্যাগ করতে ৪৮ ঘণ্টা সময় দিল ‘ককরোচ’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে দেশব্যাপী আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগ করার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নতুন দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা কারচুপি ও ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তোলেন। তিনি জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ করা উচিত।’ তিনি জানান, তাদের এই প্রস্তাবিত দেশব্যাপী বিক্ষোভ গত জুনে যন্তর মন্তরে দলের করা আন্দোলনের আদলেই পরিচালিত হবে।

জ্ঞানেশ কুমারকে দেশের ‘সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেদনগুলো প্রমাণ করেছে যে তিনি এই পদের যোগ্য নন। এ সময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার নির্বাচন কমিশনে আসার পর থেকে সরকারই ঠিক করে দিচ্ছে কে ক্ষমতায় আসবে—এটা আবার কেমন গণতন্ত্র? এটি কোনো গণতন্ত্র নয়, এটি স্বৈরতন্ত্র।

নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং বিগত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর বিভিন্ন বিষয়ে আপত্তি জানানোর খবর নিয়ে এই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার সংযোজন, বিয়োজন, পুনরুদ্ধার, ফর্ম-৬ এর পরিবর্তন এবং ভোটার তালিকার ডেটা পরিচালনার মতো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই কমিশনার ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন।

তবে তিন সদস্যের প্যানেলে মতবিরোধের কথা নাকচ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, ভিন্নমত, লিখিত নোট এবং অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনামূলক আলোচনা তাদের কর্মপদ্ধতিরই একটি অংশ এবং এসআইআর-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তসহ সব সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতভাবেই নেওয়া হয়েছে।

অভিজিৎ দিপকে বলেন, ‘সব মিলিয়ে ১৩ কোটির বেশি ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো ছোট সংখ্যা নয়। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী দল ও ক্ষমতাসীন জোটের (এনডিএ) মধ্যে ব্যবধান ছিল মাত্র ২ শতাংশ। ১৩ কোটি ভোট বাদ দেওয়া মানে মোট ভোটের প্রায় ১৩ থেকে ১৪ শতাংশ বাদ দেওয়া। এই ২ শতাংশের ব্যবধান বাড়িয়ে চিরতরে ক্ষমতায় থাকার জন্য জ্ঞানেশ কুমার কি ইচ্ছাকৃতভাবে এই ভোটগুলো বাদ দিচ্ছেন? কেন এমনটা করা হলো? এত ভোট বাদ দেওয়ার প্রয়োজনই বা কী ছিল?’

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলো শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এ সময় তিনি মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরে, এনসিপি, এম কে স্ট্যালিন, পিনারাই বিজয়ন, অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথা উল্লেখ করেন।

দিপকে অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনি এলাকা থেকে ৫১,০০০ ভোট কেটে ফেলা হয়েছে, যেখানে তিনি প্রায় ১৫,০০০ ভোটে হেরেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, এম কে স্ট্যালিনের নির্বাচনি এলাকা থেকে ১ লাখ ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি প্রায় ৯,০০০ ভোটে হেরেছিলেন এবং অরবিন্দ কেজরিওয়ালের নির্বাচনি এলাকা থেকে ৪০,০০০ ভোট বাদ দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি প্রায় ৪,০০০ ভোটে হেরেছিলেন।

তিনি বলেন, ‘আপনারা প্যাটার্নটি খেয়াল করলেই বুঝতে পারবেন।’ ২০২৪ সালের নির্বাচনি প্রচারের সময় যেসব মুখ্যমন্ত্রী একসঙ্গে এসেছিলেন, পরবর্তীতে তাদের কীভাবে একে একে পরাজিত করা হলো—সেটিই তিনি এর মাধ্যমে বোঝাতে চান।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এই পদক্ষেপ কি কেবল শক্তিশালী বিরোধী ব্যক্তিত্বদের নির্মূল করার জন্যই ডিজাইন করা হয়েছিল? এখন বিরোধী দল বা কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি আমাদের বিশেষ কোনো পক্ষপাত নেই। কিন্তু গণতন্ত্রে আপনি যদি পুরো বিরোধী দলকেই মুছে ফেলেন, তবে কি তাকে আর গণতন্ত্র বলা চলে? এটি কি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন?’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের পাশাপাশি দলটি আসন্ন নির্বাচন ও এসআইআর কার্যক্রম স্থগিত করা, ২০২৫ সালের জানুয়ারি সংস্করণের ভোটার তালিকা পুনর্বহাল করা, এসআইআর-সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডের স্বাধীন তদন্ত এবং নির্বাচন কমিশন নিয়োগসংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করার দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজকে সম্পৃক্ত করে একটি স্বাধীন নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন নিয়োগ আইন প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

পাশাপাশি দলটি সুপ্রিম কোর্টকে এসআইআর-সংক্রান্ত রেকর্ডগুলো নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

নির্বাচনি সংস্কার ও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের দিকে মনোযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পরই সিজেপি এই আল্টিমেটাম দিল। এর আগে সংস্থাটি আসন্ন নির্বাচন স্থগিত করা এবং এসআইআর কার্যক্রম প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়েছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন