ট্রাম্পের শুল্কারোপকে চ্যালেঞ্জ করে ১২ রাজ্যে মামলা

ট্রাম্পের শুল্কারোপকে চ্যালেঞ্জ করে ১২ রাজ্যে মামলা

আমেরিকার বাজারে প্রবেশকারী সব ধরনের পণ্যের ওপর নতুন করে শুল্কারোপের ঘোষণা করেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রতিবেশী দেশ কানাডা, মেক্সিকো, চীন, ভারত ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৬০ দেশে একতরফা সর্বজনীন ১০ শতাংশ হারে শুল্কারোপ করা হয়। ৯ এপ্রিল থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও আগামী ৯০ দিনের জন্য তা স্থগিত করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসনের এই শুল্কনীতি বন্ধের জন্য নিউইয়র্কের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কোর্টে মামলা দায়ের করেছে ১২টি রাজ্য।

স্থানীয় সময় বুধবার সকালে প্রশাসনের এই বাড়তি শুল্কারোপ বেআইনি এবং দেশের অর্থনীতিকে অস্থিতিশীল করে তুলবে- এমন অভিযোগে কলোরাডোসহ ১২টি রাজ্য এ মামলা দায়ের করে। মামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ও অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। মামলায় বলা হয়, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্ট এই শুল্কারোপ করতে পারেন না। তাই এই শুল্কারোপকে অবৈধ ঘোষণা করার পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসন এবং এর কর্মকর্তাদের এ থেকে বিরত রাখতে আদালতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ট্রাম্প আগেই বলেছিলেন, ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট’-এর অধীনে কখন কোথায় শুল্কারোপ করবেন- এই এখতিয়ার তার আছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, মামলায় আরো বলা হয়েছে, এ ধরনের শুল্ক কেবলমাত্র জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন, বহির্বিশ্ব থেকে আসা অস্বাভাবিক ও অনাকাঙ্ক্ষিত হুমকি মোকাবিলায় এটি করা যেতে পারে। এতে আরো বলা হয়েছে, শুল্কারোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসেরই রয়েছে।

মামলার তালিকায় রয়েছে ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অ্যারিজোনা, মিনেসোটা, নিউইয়র্ক এবং ওরেগন। এছাড়া গত সপ্তাহে ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্য শুল্কারোপের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করেছে।

এদিকে, দেশের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার আশা নিয়ে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছিলেন ভোটাররা। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম ১০০ দিন শেষ হওয়ার আগেই জনসমর্থন কমতে শুরু করেছে তার। রয়টার্স/ইপসোস’র ছয়দিনের করা নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ওপর ক্ষুব্ধ ৩৭ শতাংশ মানুষ। আর তার নীতিকে সমর্থন দিয়েছেন মাত্র ৩৭ শতাংশ। এ জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি চারজনের একজন রিপাবলিকান বলছেন, তার নীতি ‘অতিমাত্রায় অনিশ্চিত’।

চীন, মেক্সিকো, কানাডা এবং অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে শুল্কারোপের ভিত্তি হিসেবে ‘ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট’-এর ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন