ইরানে মার্কিন হামলার প্রভাব তেলের বাজারে

ইরানে মার্কিন হামলার প্রভাব তেলের বাজারে

জানুয়ারির পর থেকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রোববার ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্য ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেলের দাম দাঁড়িয়েছে ৭৫ দশমিক ৬০ ডলার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট তেলের দাম ২ দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৭৮ দশমিক ৮১ ডলার।

বিজ্ঞাপন

তবে ডাও জোনস ফিউচারস এবং এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচারস এর সূচক শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। আর নাসডাক ফিউচারস উভয় সূচকই প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতার মধ্যেই মার্কিন ডলারের মান বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। বৈশ্বিক সংকট ও অনিশ্চয়তার সময়ে ডলারের মান সাধারণভাবে বৃদ্ধি পায়।

ওপেকের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মে মাসে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন ব্যারেল তেল উৎপাদন করেছে।

ইরান বা তার আঞ্চলিক মিত্ররা যদি গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেলের চালান হুমকির মুখে পড়তে পারে।

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি বাজারের জন্য সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি তৈরি হবে ইরানের হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার প্রচেষ্টা। ২০২৪ সালে প্রতিদিন প্রায় ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল, যা বিশ্বব্যাপী ব্যবহারের ২০ শতাংশ, এই প্রণালী দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, ইরান-ইসরাইল সংঘাতে নতুন মাত্রা ও মার্কিন পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় বাজারে উদ্বেগ বাড়ছে, যার প্রভাব সরাসরি জ্বালানি ও বিনিয়োগ খাতে পড়ছে।

রোববার বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধের অনুমোদন দিয়েছে ইরানের পার্লামেন্ট। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ।

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন