পোল্যান্ডে আছড়ে পড়ল রুশ ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান পাঠাল ন্যাটো

পোল্যান্ডে আছড়ে পড়ল রুশ ক্ষেপণাস্ত্র, যুদ্ধবিমান পাঠাল ন্যাটো
প্রতীকী ছবি

পোল্যান্ডের আকাশসীমায় ঢুকে পড়েছে রাশিয়ার ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র। দেশটির ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্রটি আছড়ে পড়ে বিস্ফোরিত হওয়ার পরপরই ন্যাটোর যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনার মধ্যেই এ বিপজ্জনক ঘটনা ঘটল।

গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার ভোরে পোল্যান্ডের আকাশসীমায় প্রবেশ করা ক্ষেপণাস্ত্রটি ছিল রাশিয়ার পক্ষ থেকে রাতভর ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চালানো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অংশ। ইউক্রেনে চালানো ওই হামলায় শিশুসহ অন্তত ৮ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ৫০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন।

পোলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ফলে দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় তারনাওয়া-কলোনিয়া গ্রামে একটি বড় ধরনের গর্ত তৈরি হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত বা উল্লেখ করার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে জানান, একটি রুশ 'খ-১০১' ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক ইতোমধ্যে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, ‘সব তথ্য-প্রমাণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে এটি একটি রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।’

ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার এই যুদ্ধ প্রতিবেশী ন্যাটো সদস্যদেশগুলোকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলার চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। পোল্যান্ড জোটের এমন কয়েকটি সদস্যদেশের মধ্যে অন্যতম, যেগুলো বারবার লক্ষ্যভ্রষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের মুখোমুখি হচ্ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ও ইউক্রেন একে অপরের দিকে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করায় এ ধরনের ঘটনা ক্রমেই নিয়মিত হয়ে উঠছে।

ন্যাটোর এক মুখপাত্র জানান, ক্ষেপণাস্ত্রটি শনাক্ত হওয়ার পর পোল্যান্ডসহ ন্যাটোর সদস্যদেশগুলো এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং আকাশস্থ আগাম সতর্কীকরণ (অ্যাওয়াচ) বিমান মোতায়েন করেছে।

তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, ন্যাটো তার ভূখণ্ড রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

ঘটনাসূত্রে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেন, পোল্যান্ড ও ন্যাটো তাদের আকাশ ও স্থল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পূর্ণ সক্রিয় করেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘এ ঘটনাটি রাশিয়ার আরো একটি বেপরোয়া পদক্ষেপ এবং ইউক্রেনের বিরুদ্ধে তাদের যুদ্ধের একটি বিপজ্জনক পরিণতি।’

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পথভ্রষ্ট ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে রোমানিয়াও তাদের আকাশসীমায় বারবার বিপথগামী রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশের খবর দিয়েছিল। গত সোমবার তিনটি ড্রোনের সর্বশেষ অনুপ্রবেশের পর বুখারেস্ট কড়া প্রতিবাদ জানাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে। অন্যদিকে গত মে মাসে এস্তোনিয়া ও লাটভিয়া তাদের আকাশসীমায় ড্রোন প্রবেশের কথা জানায়। সে সময় এসব আক্রমণ কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, তা নিয়ে সৃষ্ট তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের জেরে লাটভিয়ার রাজধানী রিগার সরকার পর্যন্ত ভেঙে পড়ে।

এ ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়মিত ঘটতে থাকায় পোল্যান্ড গত বছর থেকেই তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী ও আধুনিক করে গড়ে তুলেছে। তবে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে আশঙ্কা বাড়ছে, চার বছর ধরে চলা এই দীর্ঘ যুদ্ধ শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের ভূখণ্ডেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

সূত্র: ফক্স

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন