মধ্যপ্রাচ্যে যত মার্কিন ঘাঁটি, কত সেনা থাকে সেগুলোতে?

মধ্যপ্রাচ্যে যত মার্কিন ঘাঁটি, কত সেনা থাকে সেগুলোতে?

গত কয়েক দশক ধরেই মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি পরিচালনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ঘাঁটিতে কমপক্ষে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস- এর তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত সেনা নেটওয়ার্ক রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের কমপক্ষে ১৯টি স্থানে এসব ঘাঁটি তৈরি করেছে ওয়াশিংটন। এরমধ্যে কিছু স্থায়ী আর কিছু আছে অস্থায়ী।

বিজ্ঞাপন

স্থায়ী আটটি ঘাঁটি রয়েছে বাহরাইন, মিশর, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা সংখ্যা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র প্রথম সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করে ১৯৫৮ সালে লেবানন যুদ্ধের সময়। ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত- মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার মার্কিন সেনা রয়েছে। যার মধ্যে এই অঞ্চলজুড়ে বৃহৎ, স্থায়ী ঘাঁটি এবং ছোট ফরোয়ার্ড সাইট উভয় ক্ষেত্রেই কর্মীরা নিয়োজিত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি মার্কিন ঘাঁটিগুলো রয়েছে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবে। এরমধ্যে সিরিয়ায় আছে দুই হাজার সেনা, ইরাকে আছে আড়াই হাজার সেনা, কুয়েতে আছে সাড়ে ১৩ হাজার, জর্ডানে তিন হাজার ৮১৩, সৌদি আরবে দুই হাজার ৭০০, বাহরাইনে নয় হাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে তিন হাজার ৫০০ মার্কিন সেনা মোতয়েন রয়েছে।

এই স্থাপনাগুলো বিমান ও নৌ অভিযান, আঞ্চলিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং হামলা চালানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

তবে বড় কোনো অভিযানের সময়ে এ সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়।

কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি

আল উবেইদ বিমান ঘাঁটি:

এই অঞ্চলে সবচেয়ে বড় মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে কাতারে। এর নাম আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি। ৬০ একর এলাকাজুড়ে এই ঘাঁটি স্থাপিত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই ঘাঁটিতে ১০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০০টি বিমান এবং ড্রোন রাখার ব্যবস্থা রয়েছে।

নেভাল সাপোর্ট অ্যাক্টিভিটি, এনএসএ:

যুক্তরাষ্ট্রের এই নৌঘাঁটি বাহরাইনে অবস্থিত। এতে প্রায় নয় হাজার সেনা রয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের আবাসস্থল এই ঘাঁটিটি জাহাজ, বিমান এবং এই অঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকার নিরাপত্তা প্রদান করে।

ক্যাম্প আরিফজান:

ক্যাম্প আরিফজান কুয়েত সিটি থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত অন্যতম প্রধান মার্কিন সেনা ঘাঁটি। এটি ১৯৯৯ সালে নির্মিত হয়। এটি মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে মার্কিন সেন্টকমের দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার মধ্যে মার্কিন সামরিক অভিযানের জন্য অত্যাবশ্যকীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং কমান্ড কেন্দ্র হিসেবে কাজ করে।

আল দাফরা বিমান ঘাঁটি:

সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত আল দাফরা একটি কৌশলগত ঘাঁটি যেখানে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং যুদ্ধ বিমানকে কোন অভিযানে যেতে সহায়তা করা হয়। এই ঘাঁটিতে এফ-২২ র‍্যাপ্টরের মতো উন্নতমানের বিমান, ড্রোনসহ বিভিন্ন নজরদারি বিমান রয়েছে।

এরবিল বিমান ঘাঁটি:

ইরাকের এই বিমান ঘাঁটি মার্কিন বাহিনী বিমান হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে উত্তর ইরাক এবং সিরিয়ায়, যেখানে মার্কিন সৈন্যরা কুর্দি এবং ইরাকি বাহিনীকে পরামর্শ দিয়ে থাকে

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বলছে যে এই অঞ্চলে বিপুল সংখ্যক মার্কিন ঘাঁটি থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তেহরানের প্রতিশোধমূলক হামলা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ট্রাম্প বা ইসরাইলের হুঙ্কারে ইরান বিচলিত হবে না। কোনও আক্রমণেই শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা যাবে না।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন