অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের জেনিনের শরণার্থী শিবির পরিদর্শনে যাওয়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূতসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে ইসরাইলি সেনাদের গুলির ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন দেশ। বুধবার জেনিনে পূর্বনির্ধারিত এ পরিদর্শনে যাওয়ার পর কূটনীতিকদের ওই প্রতিনিধি দলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে ইসরাইলি সেনারা।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, নির্ধারিত পথ থেকে সরে অন্য পথে যাওয়ায় ‘সতর্কতা জানিয়ে’ এ গুলি ছোড়া হয়। অন্যদিকে ইসরাইলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ওই এলাকায় অভিযানরত সেনারা প্রতিনিধি দলকে দূরে সরিয়ে রাখতেই তাদের প্রতি সতর্কবার্তা জানিয়ে গুলি ছুড়েছে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দূত ছাড়াও ওই প্রতিনিধি দলে ব্রিটেন, রাশিয়া ও চীনের কূটনীতিকরা ছিলেন।
এ ঘটনায় বুধবার কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অটোয়ায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করি এ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত হবে এবং কী হয়েছে তা বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। এটি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য।’
পশ্চিম তীরে কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে গুলির প্রতিবাদে কানাডায় ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়েছে জানান তিনি।
এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, বেইজিং এ ঘটনার পূর্ণ তদন্তের দাবি করছে যাতে করে এ ধরনের কিছু ভবিষ্যতে আর না ঘটে।
বুধবার ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি হ্যামিশ ফ্যালকনার এক্সে এক পোস্টে লিখেন, জেনিনে ঘটনা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এর পূর্ণ তদন্ত ও দোষীদের জবাবদিহির দাবি জানান তিনি।
আয়ারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মাইকেল মার্টিন বুধবার এক বিবৃতিতে জানান, জেনিনের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে আতঙ্কগ্রস্ত। এ ধরনের ঘটনা স্বাভাবিক কোনো আচরণ হয়।
এ ছাড়া বুধবার জেনিনে কূটনীতিকদের লক্ষ্য করে গুলির ঘটনায় ইতালি, নেদারল্যান্ডস, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড, ডেনমার্ক, বেলজিয়াম, নরওয়ে, পর্তুগাল, জার্মানি, স্লোভেনিয়া, জর্ডান, কাতার, তুরস্ক, মিসর, উরুগুয়ে, মেক্সিকোসহ বিভিন্ন দেশের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

