চীনের কমিউনিস্ট পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য ওয়াং ই দলের ভেতরে অন্য মন্ত্রীদের তুলনায় বেশি প্রভাবশালী। তিনি এখন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পররাষ্ট্রনীতির অপ্রতিরোধ্য শক্তি।
সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকা চুল এবং দক্ষ কূটনৈতিক কৌশলের কারণে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এবং অনলাইন ভক্তরা তাকে ‘রূপালি শিয়াল’ হিসেবে অভিহিত করে। ওয়াং বর্তমানে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিশনের প্রধান।
২০২২ সালে তাকে চীনের অভিজাত ২৪ সদস্যের পলিটব্যুরোতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। ৬৮ বছর বয়সী ওয়াং অনানুষ্ঠানিক অবসর গ্রহণের পর তাকে পলিটব্যুরোতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিল, যা দেলের ভেতরে তার প্রভাবের আরেকটি লক্ষণ। তিনি ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কিন গ্যাংয়ের কাছে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব হস্তান্তর করেলেও কয়েক মাসের মধ্যেই তাকে ফিরিয়ে আনা হয়।
সারমর্ম:
১৯৬৯ সালে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করার পর, ওয়াং ইকে সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সময় ‘শিয়াজিয়াং’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে হেইলংজিয়াং প্রদেশের বরফাবৃত অঞ্চলে কাজ করার জন্য পাঠানো হয়েছিল।
তিনি বেইজিংয়ে জাপানি ইতিহাস এবং ভাষা বিষয়ে অধ্যয়ন করেন এবং ১৯৮২ সালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগদান করেন। তিনি জাপানে চীনা দূতাবাসে দুবার দায়িত্ব পালন করেন, যার মধ্যে ২০০৪ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০১৩ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেন এবং ২০২২ সালে ২৪ সদস্যের অভিজাত পলিটব্যুরোতে উন্নীত হন।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মতোই অভিজ্ঞ ও পেশাদার পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একজন ওয়াং। তিনি অভিজ্ঞ এবং পেশাদার একজন কূটনীতিক যিনি চীনের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি কূটনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেন এবং অন্যদের কাছে তা প্রতিষ্ঠা করেন। যখন বিশ্বব্যাপী চীনের জনপ্রিয়তা হ্রাস পাচ্ছিল, বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির পরে ওয়াংকে চীনের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করেন।
দৃঢ়তা:
ওয়াং তার পূর্বসূরীদের চেয়ে নম্র কিন্তু তার কাজ উদ্দেশ্যমূলক। চীনে নিযুক্ত ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত অশোক কাঁথা বলেন, ‘ওয়াং নম্র এবং পরিশীলিত, কিন্তু বেশ দৃঢ়। তাই সর্বদা সতর্ক থাকা প্রয়োজন।’
কূটনৈতিক মিশন:
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ওয়াং গত দশকে অনেক কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করেন। যার মধ্যে রয়েছে ২০১৭ সালের এপ্রিলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে চীনা প্রেসিডেন্ট শি'র মার-আ-লাগো শীর্ষ সম্মেলনের জন্য আলোচনা করতে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনকে বেইজিংয়ে নিয়ে আসা। এছাড়া ২০২৩ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় চালু করার জন্য ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে আলোচনার মধ্যস্থতা করেন তিনি। ওয়াং যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে আলোচনাতেও সাহায্য করেছিলেন। সম্প্রতি কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, আফগানিস্তান ও পাকিস্তান, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা এবং সশস্ত্র জাতিগত গোষ্ঠী এবং ২০২৩ সালে রাশিয়া ও ইউক্রেনকে আলোচনার টেবিলে আনার জন্য তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে।
চলতি বছরের মে মাসে হংকংয়ে প্রথম ‘আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা সংস্থা’ প্রতিষ্ঠার পর ওয়াং এ বিষয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতা সংস্থা হবে বিশ্বের প্রথম আন্তঃসরকারি আইনি সংস্থা যা মধ্যস্থতার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করবে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


