ইউক্রেন সংকট

যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় স্টারমার ও ম্যাক্রোঁর সমালোচনা ট্রাম্পের

যুদ্ধ বন্ধে ব্যর্থ হওয়ায় স্টারমার ও ম্যাক্রোঁর সমালোচনা ট্রাম্পের

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরই মধ্যে দুই দেশের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপও শেষ করেছেন তিনি। এদিকে এই যুদ্ধ বন্ধে গত তিন বছরে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প বলেছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ যুদ্ধ বন্ধ করতে কিছুই করেননি। আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউস সফর করবেন এই দুই নেতা। এর আগেই তাদের সম্পর্কে কঠোর মন্তব্যের তীর ছোড়েন ট্রাম্প।

বিজ্ঞাপন

২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রায় আক্রমণের পর থেকে আমেরিকার পাশাপাশি ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ অন্য মিত্ররা কিয়েভকে অস্ত্র এবং অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছে।

এদিকে স্টারমার ও ম্যাক্রোঁর সমালোচনা করলেও ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইউরোপীয় এই নেতাদের প্রশংসাও করেছেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, তিনি ম্যাক্রোঁকে একজন ‘বন্ধু’ এবং স্টারমারকে ‘খুব ভালো লোক’ বলে মনে করেন। আগামী সোমবার ওয়াশিংটন ডিসি সফর করবেন ম্যাক্রোঁ আর বৃহস্পতিবার যাবেন স্টারমার।

চলতি সপ্তাহের শুরুতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার বলেছিলেন, শান্তিচুক্তির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি সেখানে ব্রিটিশ সেনা মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত এবং ইচ্ছুকও।

যদিও ইউরোপীয় নেতারা রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন, তারপরও তারা ইউক্রেনের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনার জন্য নিয়মিত বৈঠক করছেন। এরই অংশ হিসেবে গত সোমবার ইউরোপীয় নেতারা প্যারিসে তাড়াহুড়ো করে একটি শীর্ষ সম্মেলন করেন।

ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে আমেরিকা, ব্রিটেন, ইইউ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডাসহ পশ্চিমা দেশগুলো এবং জাপান ২০ হাজারের বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রাশিয়ার ওপর। অনেক ইউরোপীয় দেশ ইউক্রেনকে সমর্থন ও সহায়তা প্রদানের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করে।

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি ‘যুগান্তকারী’ চুক্তিতে সই করেছেন স্টারমার। সেখানে বলা হয়েছে- ব্রিটেন শুধু এখন নয়, আগামী ১০০ বছর ইউক্রেনের সঙ্গে থাকবে। শুধু যুদ্ধরত অবস্থায়ই নয়, বরং যুদ্ধপরবর্তী ইউক্রেনের পাশে থাকবে তারা।

এদিকে এসব বিষয় নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কিয়েভে জেলেনস্কির সঙ্গে ‘বিস্তৃত ও ইতিবাচক’ আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত কিথ কেলগ।

কেলগ জেলেনস্কিকে ‘সাহসী নেতা’ হিসেবেও অভিহিত করেন। এর ঠিক কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প জেলেনস্কিকে ‘স্বৈরশাসক’ বলে কঠোর মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনকে রাখার জন্য বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে ফোনালাপ করেছেন জেলেনস্কি। তারা ইউক্রেনকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

তবে ট্রাম্পের দাবি, পুতিন ও জেলেনস্কির ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা ছাড়া এই শান্তি আলোচনা শুরু করতে চাইছেন না। ফক্স নিউজকে এমনটাই বলেন তিনি। এ সময় তিনি জেলেনস্কির সমালোচনা করে বলেন, গত তিন বছর ধরে কোনো কার্ড বা কৌশল ছাড়াই জেলেনস্কি যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা করে যাচ্ছেন, যা সবাইকে বিরক্ত করে তুলেছে। তাই দরকষাকষি করে যাচ্ছেন। এই বৈঠকে জেলেনস্কির থাকা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। যুদ্ধ ঠেকাতে ব্যর্থতার জন্য জেলেনস্কিকেই দায়ী করেন ট্রাম্প। কারণ ইউক্রেনে আক্রমণ শুরুর আগে রাশিয়ার সঙ্গে ‘আলোচনা’ করা যেত বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে গত তিন বছরে ইউক্রেনকে কোটি কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দিয়েছে আমেরিকা। ওই সহায়তার অর্থ ফেরত বাবদ এবার ইউক্রেনের বিরল খনিজসম্পদের ৫০ শতাংশ দাবি করেছেন ট্রাম্প, যা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।

জেলেনস্কির এই প্রত্যাখ্যান কোনোভাবেই মানতে নারাজ ট্রাম্প প্রশাসন। তারা সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। এবার এ নিয়ে ট্রাম্প নিজেও আশাবাদী বলে জানিয়েছেন। গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করছেন শিগগিরিই এই চুক্তিতে সই করবে ইউক্রেন। আর এ চুক্তি স্বাক্ষর সম্পন্ন হলে খনিজসম্পদের বিনিময়ে আমেরিকার ধার শোধ করারও সুযোগ পাবে ইউক্রেন।

ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে একটি শান্তি আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু ওই আলোচনা শুরুর আগেই এই চুক্তি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এদিকে জেলেনস্কি প্রাথমিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর ট্রাম্প প্রশাসন কিয়েভকে খনিজসম্পদ চুক্তির একটি সংশোধিত সংস্করণ উপস্থাপন করেছে। আর এ বিষয়গুলো নিয়ে কিয়েভ ও ওয়াশিংটনÑ উভয়কেই বিচলিত করে তুলছে। তবে হোয়াইট হাউসের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ইউক্রেন শিগগিরই এই চুক্তিতে সই করবে। এই চুক্তির জন্য কিয়েভের ওপর রীতিমতো চাপ সৃষ্টি করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরই মধ্যে কিয়েভ সফর করেছেন আমেরিকার অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

এদিকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য ট্রাম্প প্রশাসন ভিন্ন কৌশল নিয়েছে। একদিকে ট্রাম্পের খনিজসম্পদের ওপর মালিকানা দাবি, অন্যদিকে গত সপ্তাহে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনের ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারের দাবি করতে পারবে না ইউক্রেন। এ ছাড়া ন্যাটোর সদস্যও হতে পারবে না।

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে আমেরিকার নতুন প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য জাতিসংঘের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন