৪৪ বছর পর কারামুক্ত ফিলিস্তিনি স্ত্রীকে পাঠালেন নতুন বিয়ের আংটি

৪৪ বছর পর কারামুক্ত ফিলিস্তিনি স্ত্রীকে পাঠালেন নতুন বিয়ের আংটি

ইসরাইলের কারাগারে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বন্দি ছিলেন ফিলিস্তিনের বাসিন্দা নায়েল বারঘৌতি। ১৯৭৮ সালে একজন ইসরাইলি বাস চালককে হত্যার দায়ে ১৯ বছর বয়সে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল তার। অবশেষে জীবনের শেষ বেলায় মুক্তি পেয়েছেন তিনি। ৬৭ বছর বয়সি নায়েল বার্ধক্যে পৌঁছেছেন। জীবনের প্রায় অর্ধেকেরও বেশি সময় কেটেছে তার বন্দিদশায়।

বিজ্ঞাপন

চলতি বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পান তিনি। তবে শর্তসাপেক্ষে। নায়েলকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে তার বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনুমতি না দিয়ে মিসরে নির্বাসিত করেছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। ইসরাইল বলেছে, গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীনে ইসরাইলিদের হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের স্থায়ীভাবে নির্বাসিত করতে হবে এবং পশ্চিম তীরে তাদের বাড়িতে ফিরে যেতে দেওয়া হবে না। নায়েল কারাগারে ডিন হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালে গিলাদ শালিত বন্দিবিনিময়ের অংশ হিসেবে নায়েলকে মুক্ত করে এসেছিল। রামাল্লার কাছে নিজ শহরে ফিরে গিয়েছিলেন তিনি।

তিন বছর পর ২০১৪ সালে আবারো গ্রেপ্তার হন। চুক্তির শর্ত ভাঙার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। তখন থেকেই বন্দি অবস্থায় ছিলেন। মুক্তকালীন সেই তিন বছরের সময়টাতে বিয়ে করেছিলেন ইমান নাফিকে।

মুক্তি পেয়ে নিজ বাড়িতে ফিরতে না পারলেও প্রিয়তমা স্ত্রীকে দ্বিতীয়বার বিয়ের জন্য পাঠিয়েছেন নতুন বিয়ের আংটি। আংটিতে খোদাই করা আছে দুজনের নামও। বিয়ের আংটি পেয়ে আবেগাপ্লুত ৬০ বছর বয়সি ইমান নাফি।

নায়েল বারঘৌতির স্ত্রী ইমান নাফি বলেন, মিসর থেকে ও আমার জন্য আবারও বিয়ের আংটি পাঠিয়েছে। আমাদের বিয়ের সময় ওর হাতে যে আংটি ছিল সেটা কারাগারে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। দেখা না হলেও নায়েল যে এখনো বেঁচে আছে আমি এতেই খুশি। এই আংটি আমাদের অবিরাম ভালোবাসার প্রতীক।

স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে মিসরে যেতে চেয়েছিলেন ইমান নাফি। তবে তাকেও পশ্চিম তীর ছাড়তে দেয়নি ইসরায়েলি বাহিনী। তিনি আরো বলেন, নায়েল মিসরে আছে শুনে তখনই সিদ্ধান্ত নেন মিসর যাওয়ার। কিন্তু মাঝপথেই তাকে বাধা দেয় ইসরাইলি বাহিনী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন